হাটুর জয়েন্টে ব্যথা-কেন হয়? ব্যথা কমানোর উপায়

হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা কেন হয় ও ব্যথা কমানোর উপায়

বর্তমান ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনে হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা এখন আর শুধু বয়স্কদের সমস্যা নয়; তরুণ, কর্মজীবী মানুষ এমনকি গৃহিণীরাও এই সমস্যায় ভুগছেন। অফিসে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের অভাব, অতিরিক্ত ওজন, ভুল ভঙ্গিতে হাঁটা বা বসা, পুরনো আঘাত এবং বয়সজনিত পরিবর্তনের কারণে হাঁটুর ব্যথা ধীরে ধীরে জটিল আকার ধারণ করে। বিশেষ করে ঢাকাসহ বাংলাদেশের বড় শহরগুলোতে সেডেন্টারি লাইফস্টাইল, লিফট নির্ভর চলাফেরা এবং ফাস্ট ফুডের প্রভাবে knee joint pain, হাঁটু ব্যথা, ও হাঁটুর জয়েন্টে সমস্যা আগের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেকেই শুরুতে এটিকে সাধারণ ব্যথা মনে করে অবহেলা করেন, যা পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি জয়েন্ট সমস্যায় রূপ নেয়।  

হাঁটুর জয়েন্ট মানবদেহের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ জয়েন্টগুলোর একটি। এটি শরীরের সম্পূর্ণ ওজন বহন করে এবং হাঁটা, দৌড়ানো, বসা, দাঁড়ানো, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা, প্রতিটি নড়াচড়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখে। তাই হাঁটুর জয়েন্টে সামান্য সমস্যাও দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা না নিলে হাঁটুর ব্যথা ভবিষ্যতে অস্টিওআর্থ্রাইটিস, তরুণাস্থি ক্ষয় বা অপারেশনের প্রয়োজনীয়তার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

এই ব্লগে আলোচনা করা হয়েছে- হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথার লক্ষণ, হাঁটু ব্যথার প্রধান কারণ, খাবার, ঘরোয়া উপায় ও ব্যায়াম, অপারেশন ছাড়াই চিকিৎসা, কোন ডাক্তার দেখাবেন। এই তথ্যগুলো আপনাকে হাঁটুর ব্যথা সম্পর্কে সচেতন করবে এবং প্রাথমিক পর্যায়েই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে যাতে আপনি একটি সক্রিয়, স্বাভাবিক ও ব্যথামুক্ত জীবন উপভোগ করতে পারেন।

হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথার লক্ষণসমূহ

হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা অনেক সময় হঠাৎ করে শুরু হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি ধীরে ধীরে বাড়ে। শুরুতে হালকা অস্বস্তি মনে হলেও সময়ের সাথে সাথে ব্যথা দৈনন্দিন কাজকে ব্যাহত করতে পারে। অনেকেই প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব না দেওয়ায় সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি আকার ধারণ করে। হাঁটু ব্যথার লক্ষণ ব্যক্তি, বয়স ও সমস্যার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত নিচের উপসর্গগুলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায়-

  • হাঁটু ভাঁজ বা সোজা করতে ব্যথা: বসা থেকে উঠতে, নামাজে বসা-উঠা বা সিঁড়ি ভাঙার সময় হাঁটুতে ব্যথা অনুভূত হয়।
  • হাঁটুর চারপাশে ফোলা বা ভারী অনুভূতি: জয়েন্টে প্রদাহ হলে হাঁটু ফুলে যেতে পারে, কখনো স্পর্শ করলে উষ্ণও লাগে।
  • হাঁটার সময় বা সিঁড়ি ওঠানামায় কষ্ট: দীর্ঘ হাঁটা, বাজার করা বা অফিসে যাতায়াতের সময় হাঁটু ব্যথা বেড়ে যায়; এটি knee joint problem-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
  • হাঁটু শক্ত হয়ে যাওয়া (Morning stiffness): সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বা দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর হাঁটু শক্ত লাগে এবং নড়াচড়া করতে সময় লাগে।
  • হাঁটুতে কটকট বা খচখচ শব্দ হওয়া: হাঁটু ভাঁজ-সোজা করার সময় শব্দ হওয়া অনেক সময় cartilage wear বা osteoarthritis-এর ইঙ্গিত দেয়।
  • বসা থেকে দাঁড়াতে বা দাঁড়িয়ে বসতে ব্যথা: চেয়ার, সোফা বা গাড়ি থেকে নামার সময় হাঁটুতে তীব্র চাপ অনুভূত হয়।
  • দীর্ঘ সময় বসে থাকলে বা একই ভঙ্গিতে থাকলে ব্যথা বেড়ে যাওয়া: অফিসে ডেস্কে কাজ করা বা লং ট্রাভেলের পর হাঁটু ব্যথা স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।
  • হাঁটু লক হয়ে যাওয়া বা হঠাৎ ভেঙে পড়ার অনুভূতি: হাঁটার সময় হঠাৎ মনে হয় হাঁটু কাজ করছে না; এটি ligament injury বা cartilage damage-এর লক্ষণ হতে পারে।

এই লক্ষণগুলোর এক বা একাধিক যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, অথবা ব্যথা দিন দিন বাড়তে থাকে, তাহলে এটিকে আর সাধারণ হাঁটু ব্যথা ধরে নেওয়া উচিত নয়। সময়মতো একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া হাঁটুর স্থায়ী ক্ষতি প্রতিরোধে অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে কল করুনঃ 017 200 200 80, 019 200, 300, 40

হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথার কারণ  

হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথার পেছনে একাধিক কারণ একসাথে কাজ করতে পারে। কারও ক্ষেত্রে এটি বয়সজনিত স্বাভাবিক ক্ষয়, আবার কারও ক্ষেত্রে লাইফস্টাইল, পুরনো আঘাত বা কোনো নির্দিষ্ট রোগ দায়ী থাকে। অনেক সময় একাধিক কারণ মিলেও হাঁটু ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়; দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, ওজন বৃদ্ধি, নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব এবং হাঁটুর প্রতি অবহেলা হাঁটু ব্যথার ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়। নিচে হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলো সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হলো।

অস্টিওআর্থ্রাইটিস  

 

অস্টিওআর্থ্রাইটিস, হলো হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথার সবচেয়ে সাধারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কারণ, বিশেষ করে ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে। এটি মূলত জয়েন্টের তরুণাস্থি ধীরে ধীরে ক্ষয় হওয়ার ফল। তরুণাস্থি বা cartilage হলো হাঁটুর হাড়ের দুই প্রান্তের মাঝখানে থাকা নরম স্তর, যা হাড়কে ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে। যখন এই স্তর ক্ষয় হতে শুরু করে, তখন হাড়ের সাথে হাড়ের ঘর্ষণ বাড়ে এবং ব্যথা, শক্ত ভাব ও চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়। কেন হয়- 

  • জয়েন্টের তরুণাস্থি (Cartilage) ধীরে ধীরে ক্ষয় হওয়া
  • বয়সজনিত স্বাভাবিক পরিবর্তন
  • অতিরিক্ত ওজনের কারণে হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ
  • দীর্ঘদিন ভুল ভঙ্গিতে হাঁটা বা বসা
  • আগের কোনো হাঁটুর আঘাত বা ইনজুরি

লক্ষণ- 

  • হাঁটুতে ব্যথা ও ভারী বা শক্ত অনুভূতি
  • সকালে ঘুম থেকে উঠলে বা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর হাঁটু শক্ত লাগা
  • হাঁটার সময়, সিঁড়ি উঠা-নামার সময় ব্যথা বেড়ে যাওয়া
  • হাঁটু ভাঁজ বা সোজা করলে কটকট শব্দ হওয়া
  • দিনের শেষে হাঁটুতে ক্লান্তি ও ব্যথা অনুভব

অস্টিওআর্থ্রাইটিস ধীরে ধীরে বাড়ে, তাই শুরুতে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা ও লাইফস্টাইল পরিবর্তন না করলে এটি হাঁটুর স্বাভাবিক নড়াচড়াকে মারাত্মকভাবে সীমিত করে ফেলতে পারে।

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid Arthritis) – অটোইমিউন আক্রমণের ফল

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি অটোইমিউন ডিজিজ, যেখানে শরীরের নিজস্ব ইমিউন সিস্টেম ভুলবশত জয়েন্টের আবরণ (synovial membrane) আক্রমণ করে। এর ফলে হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে প্রদাহ, ব্যথা এবং ধীরে ধীরে জয়েন্ট ক্ষয় শুরু হয়।

এই রোগটি শুধু বয়সজনিত নয়—তরুণ ও মধ্যবয়সীরাও এতে আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশে অনেক সময় এই সমস্যাটি সাধারণ হাঁটু ব্যথা বা অস্টিওআর্থারাইটিস ভেবে অবহেলা করা হয়, যা পরবর্তীতে গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে সাধারণত শরীরের দুই পাশের জয়েন্ট একসাথে আক্রান্ত হয়, যা এটিকে অন্য ধরনের হাঁটু ব্যথা থেকে আলাদা করে।

লক্ষণ- 

  • দুই হাঁটু একসাথে ব্যথা ও অস্বস্তি: সাধারণত ডান ও বাম হাঁটু সমানভাবে ব্যথায় আক্রান্ত হয়, যা autoimmune arthritis-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
  • হাঁটু ফোলা, লালচে ভাব ও উষ্ণ অনুভূতি: জয়েন্টে প্রদাহের কারণে হাঁটু ফুলে যায় এবং স্পর্শ করলে গরম লাগতে পারে।
  • দীর্ঘ সময় stiffness বা শক্তভাব: বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর হাঁটু শক্ত লাগে এবং স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করতে সময় লাগে (morning stiffness)।
  • ক্লান্তি ও দুর্বলতা: অনেক রোগীর ক্ষেত্রে হাঁটু ব্যথার পাশাপাশি শরীর দুর্বল লাগা, সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়াও দেখা যায়।

যদি রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এটি হাঁটুর জয়েন্ট স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এমনকি জয়েন্ট বিকৃতি, হাঁটার অক্ষমতা এবং দৈনন্দিন কাজের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এই কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুই হাঁটুতে একসাথে ব্যথা, ফোলা ও stiffness থাকলে অবশ্যই একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ বা রিউমাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বিস্তারিত জানুনঃ রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা বাত ব্যথা (Rheumatoid Arthritis)প্রতিরোধের আকুপাংচারের ভূমিকা

লিগামেন্ট ইনজুরি 

হাঁটুর জয়েন্টকে স্থিতিশীল ও শক্ত করে রাখার জন্য লিগামেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা, হঠাৎ মোচড়, ভুলভাবে পা ফেলা, পড়ে যাওয়া বা সড়ক দুর্ঘটনার কারণে হাঁটুর লিগামেন্টে আঘাত লাগতে পারে বা ছিঁড়ে যেতে পারে। তরুণ বয়সীদের মধ্যে এবং খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এই ধরনের হাঁটু ইনজুরি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।

লিগামেন্ট ইনজুরি হলে হাঁটু তার স্বাভাবিক ভারসাম্য হারায়। ফলে হাঁটা, দৌড়ানো বা দিক পরিবর্তনের সময় হাঁটু অস্থির মনে হয়। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য আঘাত মনে হলেও ভেতরে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, যা চিকিৎসা ছাড়া সেরে ওঠে না।

সাধারণ লিগামেন্ট ইনজুরি-

  • ACL (Anterior Cruciate Ligament): সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। হঠাৎ দিক পরিবর্তন, লাফ দিয়ে নামার সময় বা খেলাধুলার সময় ACL ছিঁড়ে যেতে পারে।
  • PCL (Posterior Cruciate Ligament): সাধারণত দুর্ঘটনায় হাঁটুতে সরাসরি আঘাত লাগলে PCL ইনজুরি হয়।
  • MCL (Medial Collateral Ligament): হাঁটুর ভেতরের দিকে চাপ পড়লে বা পাশ থেকে আঘাত লাগলে এই লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  • LCL (Lateral Collateral Ligament): হাঁটুর বাইরের দিকে আঘাত লাগলে LCL ইনজুরি হতে পারে।

লক্ষণ-

  • তীব্র ও হঠাৎ হাঁটু ব্যথা: আঘাতের সাথে সাথে বা কিছু সময় পর ব্যথা বেড়ে যায়, যা knee ligament tear-এর সাধারণ লক্ষণ।
  • হাঁটু অস্থির বা ঢিলে লাগা: হাঁটার সময় মনে হয় হাঁটু ঠিকভাবে শরীরের ওজন বহন করতে পারছে না।
  • দ্রুত ফোলা ও শক্ত হয়ে যাওয়া: আঘাতের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাঁটু ফুলে যেতে পারে, যা ভেতরের রক্তক্ষরণ বা প্রদাহের ইঙ্গিত দেয়।
  • চলাচলে সীমাবদ্ধতা: হাঁটু পুরোপুরি ভাঁজ বা সোজা করা কঠিন হয়ে যায়।

লিগামেন্ট ইনজুরির ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে বিশ্রাম, বরফ সেঁক ও সঠিক মূল্যায়ন অত্যন্ত জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি ও ব্রেস ব্যবহারেই উন্নতি হয়, তবে গুরুতর ইনজুরিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অপরিহার্য।

অতিরিক্ত ওজন, সেডেন্টারি লাইফ এবং যান্ত্রিক সমস্যা

বাংলাদেশের শহুরে জীবনে হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথার একটি বড় ও নীরব কারণ হলো অতিরিক্ত ওজন এবং সেডেন্টারি লাইফস্টাইল। অনেক সময় হাঁটুতে কোনো আঘাত বা রোগ না থাকলেও শুধুমাত্র লাইফস্টাইলের কারণে ধীরে ধীরে হাঁটু ব্যথা শুরু হয়। হাঁটু শরীরের সম্পূর্ণ ওজন বহন করে। সাধারণ হিসাব অনুযায়ী, শরীরের প্রতি ১ কেজি অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর ওপর প্রায় ৩–৪ কেজি অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ফলে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ওজন থাকলে হাঁটুর জয়েন্ট, তরুণাস্থি ও লিগামেন্ট ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে।

শহরের অফিসভিত্তিক জীবনে দীর্ঘ সময় একটানা বসে কাজ করা, লিফট ব্যবহার, হাঁটার অভাব এবং শারীরিক ব্যায়ামের ঘাটতি হাঁটুর স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এতে জয়েন্ট শক্ত হয়ে যায় এবং সামান্য নড়াচড়াতেই ব্যথা অনুভূত হয়।

প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো-

  • ওজন বাড়লে হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে: অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর cartilage দ্রুত ক্ষয় করে এবং osteoarthritis হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
  • দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা (Sedentary lifestyle): অফিস ডেস্কে বা বাসায় দীর্ঘ সময় বসে থাকলে হাঁটুর চারপাশের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে, যা জয়েন্টকে ঠিকভাবে সাপোর্ট দিতে পারে না।
  • ভুল ভঙ্গিতে হাঁটা বা বসা (Mechanical problem): পা বেঁকে হাঁটা, ভুল জুতা ব্যবহার, নিচু চেয়ারে বসা, মেঝেতে বসে কাজ করা বা নামাজে ভুল ভঙ্গি হাঁটুর যান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট করে।
  • নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব: হাঁটু শক্তিশালী করার ব্যায়াম না করলে জয়েন্ট ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায়, ফলে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

এই ধরনের হাঁটু ব্যথা অনেক সময় ধীরে শুরু হয়, তাই শুরুতে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এটি chronic knee pain, joint stiffness এবং দৈনন্দিন চলাফেরায় বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে তবে, এই কারণগুলো লাইফস্টাইল পরিবর্তন, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে অনেকাংশে প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব

বিস্তারিত জেনে নিনঃ ওজন নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে আকুপাংচার কিভাবে ভূমিকা রাখে

হাড় ক্ষয় (Osteoporosis)

বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের হাড়ের ঘনত্ব ধীরে ধীরে কমতে থাকে, যাকে চিকিৎসা ভাষায় bone loss বা osteopenia / osteoporosis বলা হয়। হাড় ক্ষয় হলে হাঁটুর জয়েন্ট স্বাভাবিকের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সামান্য চাপ বা নড়াচড়াতেই ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

হাঁটুর জয়েন্ট যেহেতু শরীরের ওজন বহন করে, তাই হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে হাঁটু ব্যথা, অস্বস্তি এবং হাঁটার অসুবিধা তুলনামূলকভাবে দ্রুত দেখা দেয়। অনেক সময় এই ব্যথা ধীরে ধীরে শুরু হয়, ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের পর হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বাংলাদেশে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি ঘাটতি এই সমস্যাকে আরও ত্বরান্বিত করে। ঝুঁকি বেশি যাদের- 

  • পোস্টমেনোপজ নারীরা: ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যাওয়ার কারণে হাড় দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে।
  • ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি ঘাটতি: পর্যাপ্ত দুধ, ডিম, মাছ বা সূর্যালোকের অভাব হাড় ক্ষয়ের অন্যতম কারণ।
  • দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ওষুধ ব্যবহারকারী: কিছু ওষুধ দীর্ঘদিন সেবনে হাড়ের ঘনত্ব কমে যেতে পারে।
  • শারীরিক ব্যায়ামের অভাব: নিয়মিত হাঁটা বা weight-bearing exercise না করলে হাড় আরও দুর্বল হয়।

হাড় ক্ষয়জনিত হাঁটু ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সময়মতো পরীক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্ট এবং লাইফস্টাইল পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আইটি ব্যান্ড সিনড্রোম – IT (Iliotibial) Band Syndrome  

IT (Iliotibial) Band Syndrome হলো হাঁটুর বাইরের অংশে ব্যথার একটি পরিচিত কারণ, যা মূলত iliotibial band নামক একটি শক্ত ফাইব্রাস টিস্যুর অতিরিক্ত টান বা ঘর্ষণের ফলে হয়। এই ব্যান্ডটি নিতম্ব থেকে শুরু করে হাঁটুর বাইরের দিক দিয়ে নিচ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।

এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় দৌড়বিদ, সাইক্লিস্ট, খেলোয়াড় এবং নিয়মিত সিঁড়ি ওঠানামা করেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে। তবে দীর্ঘদিন ভুল ভঙ্গিতে হাঁটা, অনুপযুক্ত জুতা ব্যবহার বা হঠাৎ ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ালেও IT band syndrome হতে পারে।

লক্ষণ- 

  • হাঁটুর বাইরের দিকে ব্যথা: সাধারণত হাঁটুর এক পাশেই ব্যথা অনুভূত হয়, যা lateral knee pain নামে পরিচিত।
  • দীর্ঘ সময় দৌড়ানো বা হাঁটার পর ব্যথা বেড়ে যাওয়া: শুরুতে হালকা অস্বস্তি থাকলেও কাজ চালিয়ে গেলে ব্যথা ধীরে ধীরে তীব্র হয়ে ওঠে।
  • হাঁটু ভাঁজ-সোজা করার সময় জ্বালাপোড়া অনুভূতি: বিশেষ করে নিচের দিকে নামার সময় বা সিঁড়ি ভাঙার সময় ব্যথা স্পষ্ট হয়। 

IT band syndrome সাধারণত অপারেশন ছাড়াই ভালো হয়ে যায় যদি সময়মতো বিশ্রাম, সঠিক স্ট্রেচিং, ফিজিওথেরাপি এবং লাইফস্টাইল সংশোধন করা হয়। তবে দীর্ঘদিন অবহেলা করলে এটি chronic knee pain-এ রূপ নিতে পারে।

টেন্ডন ইনজুরি

হাঁটুর টেন্ডন হলো এমন এক ধরনের শক্ত কিন্তু নমনীয় টিস্যু, যা পেশির সাথে হাড়কে যুক্ত করে এবং হাঁটুর নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হাঁটুর টেন্ডনে প্রদাহ বা ক্ষতি হলে একে টেন্ডোনাইটিস (Tendinitis) বলা হয়, যা ধীরে ধীরে হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথার একটি সাধারণ কিন্তু বিরক্তিকর কারণ হয়ে ওঠে। এই ধরনের হাঁটু ব্যথা সাধারণত হঠাৎ তীব্র না হয়ে ধীরে ধীরে বাড়ে। শুরুতে হালকা অস্বস্তি থাকলেও সময়ের সাথে ব্যথা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বিশেষ করে হাঁটুর ওপর চাপ পড়লে।

সাধারণ কারণ- 

  • জাম্পিং, দৌড়ানো বা ভারী কাজ করা: নিয়মিত লাফানো, সিঁড়ি বাওয়া, ভারী জিনিস তোলা বা খেলাধুলার কারণে টেন্ডনের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
  • হঠাৎ ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ানো: দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর হঠাৎ ভারী ব্যায়াম শুরু করলে টেন্ডন সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  • ভুল ভঙ্গিতে হাঁটা বা অনুপযুক্ত জুতা ব্যবহার: এতে হাঁটুর ওপর অসম চাপ পড়ে, যা tendon inflammation বাড়িয়ে দেয়।

লক্ষণ- 

  • হাঁটুর সামনের দিকে বা নিচের অংশে ব্যথা
  • চাপ দিলে বা সিঁড়ি ওঠানামায় ব্যথা বেড়ে যাওয়া
  • ব্যথা ধীরে ধীরে তীব্র হওয়া
  • সকালে বা ব্যায়ামের শুরুতে বেশি অস্বস্তি

টেন্ডন ইনজুরি সময়মতো শনাক্ত হলে বিশ্রাম, ফিজিওথেরাপি ও সঠিক ব্যায়ামের মাধ্যমে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপারেশন ছাড়াই ভালো হয়ে যায়।

স্ট্রেন বা মোচ

স্ট্রেন বা মোচ হলো হাঁটুর সবচেয়ে সাধারণ ও হঠাৎ ঘটে যাওয়া আঘাতগুলোর একটি। পা পিছলে যাওয়া, হঠাৎ পড়ে যাওয়া, অসম জায়গায় হাঁটা বা ভুলভাবে পা ফেলার ফলে হাঁটুর পেশি, লিগামেন্ট বা টেন্ডন অতিরিক্ত টান খেলে এই সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় এটিকে তুচ্ছ আঘাত মনে করে অবহেলা করা হয়, কিন্তু সঠিক বিশ্রাম ও যত্ন না নিলে এটি দীর্ঘমেয়াদি হাঁটু ব্যথায় পরিণত হতে পারে।

লক্ষণ- 

  • সাময়িক ফোলা বা চাপ অনুভূত হওয়া: আঘাতের কিছুক্ষণের মধ্যেই হাঁটু ফুলে যেতে পারে।
  • নড়াচড়ায় ব্যথা ও অস্বস্তি: হাঁটা, ভাঁজ করা বা সোজা করার সময় ব্যথা অনুভূত হয়।
  • হালকা শক্তভাব বা অস্বাভাবিক অনুভূতি: হাঁটু পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না-এমন অনুভূতি হতে পারে। 

মাইল্ড স্ট্রেন বা মোচ সাধারণত বিশ্রাম, বরফ সেঁক এবং হালকা ব্যায়ামে সেরে যায়। তবে যদি ফোলা ও ব্যথা কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে হাঁটুর ভেতরে বড় ধরনের ক্ষতি আছে কি না তা যাচাই করা জরুরি।

তরুণাস্থি আঘাত 

হাঁটুর জয়েন্টে থাকা তরুণাস্থি (Cartilage) হাড়ের দুই প্রান্তের মাঝে একটি নরম, মসৃণ স্তর হিসেবে কাজ করে। এটি হাঁটুকে মসৃণভাবে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে এবং হাড়ের ঘর্ষণ কমায়। যখন এই কার্টিলেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন হাঁটু স্বাভাবিকভাবে ভাঁজ-সোজা হতে পারে না এবং ব্যথা ও অস্বস্তি তৈরি হয়। তরুণাস্থি আঘাত অনেক সময় হঠাৎ ঘটে, আবার অনেক ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘদিনের অবহেলার ফলেও ধীরে ধীরে তৈরি হয়। সমস্যা হলো—কার্টিলেজে রক্ত সরবরাহ কম থাকায় এটি নিজে থেকে সহজে সেরে ওঠে না। 

সাধারণ কারণ- 

  • খেলাধুলাজনিত আঘাত: ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন বা দৌড়ানোর সময় হঠাৎ মোচড় বা পড়ে গেলে কার্টিলেজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
  • দীর্ঘমেয়াদি অবহেলা: দীর্ঘদিন হাঁটু ব্যথা উপেক্ষা করা, অতিরিক্ত ওজন বহন করা বা অস্টিওআর্থারাইটিসের কারণে কার্টিলেজ ধীরে ধীরে নষ্ট হয়।

লক্ষণ- 

  • হাঁটু ভাঁজ-সোজা করার সময় ব্যথা
  • হাঁটু লক হয়ে যাওয়ার অনুভূতি
  • হাঁটার সময় অস্বস্তি বা ঘর্ষণের অনুভব
  • দীর্ঘ সময় হাঁটলে বা দাঁড়িয়ে থাকলে ব্যথা বেড়ে যাওয়া

কার্টিলেজ আঘাতের ক্ষেত্রে দ্রুত সঠিক মূল্যায়ন ও চিকিৎসা না হলে এটি ভবিষ্যতে chronic knee pain বা জয়েন্ট ক্ষয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

ইলিওটিবিয়াল ব্যান্ড সিন্ড্রোম

ইলিওটিবিয়াল ব্যান্ড সিন্ড্রোম (Iliotibial Band Syndrome) মূলত হাঁটুর বাইরের দিকে ব্যথার একটি বিশেষ কারণ। ইলিওটিবিয়াল ব্যান্ড হলো একটি শক্ত ফাইব্রাস টিস্যু, যা নিতম্ব থেকে শুরু করে হাঁটুর বাইরের দিক দিয়ে নিচ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। অনেক সময় একই ধরনের হাঁটু সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও এই সিন্ড্রোমটি ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়—বিশেষ করে outer knee pain বা হাঁটুর বাইরের ধারাবাহিক ব্যথার মাধ্যমে। 

কেন হয়- 

  • দীর্ঘ সময় দৌড়ানো বা হাঁটা
  • সাইক্লিং বা সিঁড়ি ওঠানামা বেশি করা
  • ভুল ভঙ্গিতে হাঁটা বা অনুপযুক্ত জুতা ব্যবহার
  • হঠাৎ ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ানো

লক্ষণ- 

  • হাঁটুর বাইরের দিকে জ্বালাপোড়া বা ব্যথা
  • দৌড়ানোর সময় বা পরে ব্যথা বেড়ে যাওয়া
  • সিঁড়ি নামার সময় বেশি অস্বস্তি
  • বিশ্রামে কমে গেলেও কাজ শুরু করলে আবার ব্যথা ফিরে আসা

চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রতির ধারার ফলে এই সমস্যাটি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপারেশন ছাড়াই, বিশ্রাম, স্ট্রেচিং, ফিজিওথেরাপি ও লাইফস্টাইল সংশোধনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

হাড়ের ফাটল

দুর্ঘটনা, উঁচু জায়গা থেকে পড়ে যাওয়া বা শক্ত কিছুর সাথে সরাসরি আঘাত লাগলে হাঁটুর হাড়ে ফাটল (Knee fracture) হতে পারে। এটি হাঁটুর ব্যথার সবচেয়ে গুরুতর কারণগুলোর একটি এবং এতে অবহেলা করার সুযোগ নেই। হাড়ের ফাটল হলে হাঁটুর স্বাভাবিক গঠন ও কার্যক্ষমতা হঠাৎ করে নষ্ট হয়ে যায় এবং দ্রুত চিকিৎসা না নিলে স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি থাকে।

লক্ষণ- 

  • তীব্র ও অসহনীয় ব্যথা: সামান্য নড়াচড়াতেই ব্যথা তীব্র হয়ে ওঠে। 
  • হাঁটা বা দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব: হাঁটু শরীরের ওজন নিতে পারে না।
  • দ্রুত ফোলা ও বিকৃত আকৃতি: হাঁটু ফুলে যায়, কখনো স্বাভাবিক আকৃতিও বদলে যেতে পারে।
  • স্পর্শে তীব্র ব্যথা: হাঁটুর আক্রান্ত স্থানে হালকা স্পর্শ বা চাপ দিলেই তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। এমনকি সামান্য পরীক্ষা বা নড়াচড়ার চেষ্টাতেও রোগী অসহ্য যন্ত্রণা অনুভব করে, যার ফলে হাঁটু পরীক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। 

হাড়ের ফাটলের ক্ষেত্রে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে এক্স-রে বা প্রয়োজনীয় ইমেজিং করানো অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে হাঁটুর স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা অনেকাংশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। 

হাঁটুর ব্যাথা সারানোর খাবার

হাঁটুর ব্যথা শুধু ওষুধ বা চিকিৎসার বিষয় নয়; প্রতিদিনের খাবারও হাঁটুর সুস্থতায় বড় ভূমিকা রাখে। সঠিক পুষ্টি জয়েন্টকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে, প্রদাহ কমায় এবং কার্টিলেজ ও হাড়ের ক্ষয় ধীর করে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি হাঁটু ব্যথা, অস্টিওআর্থারাইটিস বা জয়েন্ট স্টিফনেসের ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক সময় ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি পুষ্টির ঘাটতির কারণে হাঁটু ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যায়। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কিছু নির্দিষ্ট খাবার সচেতনভাবে রাখা প্রয়োজন।

উপকারী খাবার- 

  • ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার: দুধ, দই, ছানা ও পনির হাড়ের গঠন শক্ত রাখতে সাহায্য করে। ক্যালসিয়াম ঘাটতি হলে হাঁটুর জয়েন্ট দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ব্যথা বাড়তে পারে। নিয়মিত ক্যালসিয়াম গ্রহণ হাড় ক্ষয় প্রতিরোধে সহায়ক।
  • ভিটামিন ডি: ভিটামিন ডি ছাড়া ক্যালসিয়াম ঠিকমতো শরীরে কাজ করতে পারে না। ডিমের কুসুম, সামুদ্রিক মাছ এবং প্রতিদিন ১৫–২০ মিনিট সকালের সূর্যালোক ভিটামিন ডির প্রাকৃতিক উৎস। ভিটামিন ডি ঘাটতি থাকলে হাঁটু ব্যথা, মাংসপেশির দুর্বলতা ও জয়েন্ট স্টিফনেস বেশি দেখা যায়।
  • ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: ইলিশ মাছ, সামুদ্রিক মাছ, চিয়া সিড ও তিসি বীজে থাকা ওমেগা-৩ জয়েন্টের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এটি বিশেষ করে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও দীর্ঘমেয়াদি হাঁটু ব্যথার ক্ষেত্রে খুব উপকারী।
  • আদা ও হলুদ: আদা ও হলুদ প্রাকৃতিক anti-inflammatory খাবার হিসেবে পরিচিত। নিয়মিত আদা চা বা রান্নায় হলুদ ব্যবহার হাঁটুর ফোলা ও ব্যথা কমাতে সহায়তা করে। অনেক সময় এগুলো প্রাকৃতিক pain reliever হিসেবেও কাজ করে।
  • শাকসবজি ও ফল: সবুজ শাক, লাল শাক, পালং শাক, গাজর, টমেটো, কমলা, পেয়ারা ও লেবুতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জয়েন্টের কোষ রক্ষা করে। এগুলো শরীরের ভেতরের প্রদাহ কমিয়ে হাঁটুর জয়েন্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। 

মজবুত হাঁটু ও জয়েন্টের জন্য অর্গানিক দুধ, সবজি ও ফল বেছে নিন। রাসায়নিক মুক্ত, পুষ্টিকর ও প্রাকৃতিকভাবে ব্যথা কমাতে সহায়ক। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুনঃ শশী অর্গানিক ফুড

যা এড়িয়ে চলবেন- 

  • অতিরিক্ত চিনি: চিনি শরীরে প্রদাহ বাড়ায়, যা হাঁটু ব্যথা ও জয়েন্ট ফুলে যাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। মিষ্টি, সফট ড্রিংক ও প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত রাখা ভালো।
  • ফাস্ট ফুড ও ভাজাপোড়া: বার্গার, ফ্রাই, অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার জয়েন্টে ইনফ্ল্যামেশন বাড়ায় এবং ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে—যা হাঁটুর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
  • অতিরিক্ত লবণ: বেশি লবণ শরীরে পানি জমিয়ে ফোলা বাড়াতে পারে। ফলে হাঁটু ব্যথা আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।

 হাঁটুর জয়েন্টের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়সমূহ

হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা শুরু হলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে ঘরোয়া যত্ন ও সচেতনতা ব্যথা কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। সব সময় ওষুধ বা চিকিৎসা শুরু করার আগেই কিছু সহজ অভ্যাস ও প্রাকৃতিক উপায় অনুসরণ করলে হাঁটুর ব্যথা, ফোলা ও শক্তভাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিশেষ করে মাইল্ড knee pain, early stage joint problem বা কাজের চাপজনিত হাঁটু ব্যথার ক্ষেত্রে এই ঘরোয়া উপায়গুলো বেশ কার্যকর। 

গরম পানির সেঁক

হাঁটু ব্যথা কমানোর সবচেয়ে পরিচিত ও কার্যকর ঘরোয়া উপায় হলো গরম পানির সেঁকগরম সেঁক দিলে হাঁটুর চারপাশের মাংসপেশি শিথিল হয়, রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং stiffness বা শক্তভাব কমে। কীভাবে করবেন- 

  • পরিষ্কার কাপড় গরম পানিতে ভিজিয়ে হালকা চিপে নিন
  • হাঁটুর চারপাশে ১০–১৫ মিনিট সেঁক দিন
  • দিনে ১–২ বার করা যেতে পারে

গরম সেঁক বিশেষ করে অস্টিওআর্থারাইটিস, morning stiffness ও দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পরের ব্যথায় উপকারী। 

ঠান্ডা বরফ সেঁক (ফোলা থাকলে)

যদি হাঁটুতে ফোলা, লালচে ভাব বা হঠাৎ ব্যথা থাকে, তাহলে গরম নয়—বরং ঠান্ডা বরফ সেঁক বেশি কার্যকর। বরফ সেঁক হাঁটুর প্রদাহ (inflammation) কমায় এবং আঘাতজনিত ব্যথা প্রশমিত করে।

কীভাবে করবেন- 

  • বরফ পরিষ্কার কাপড়ে মুড়িয়ে নিন
  • সরাসরি ত্বকে না লাগিয়ে হাঁটুর ওপর ১০–১৫ মিনিট রাখুন
  • দিনে ২–৩ বার করা যেতে পারে

বিশেষ করে স্ট্রেন, মোচ, টেন্ডন ইনজুরি বা খেলাধুলাজনিত হাঁটু ব্যথায় এটি বেশ উপকারী।

সরিষার তেল দিয়ে হালকা ম্যাসাজ

সরিষার তেল আমাদের অঞ্চলে সহজলভ্য এবং হাঁটুর ব্যথা কমাতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি প্রাকৃতিক উপায়। সরিষার তেল হালকা গরম করে ম্যাসাজ করলে জয়েন্টের চারপাশে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং ব্যথা কমে।

উপকারিতা

  • হাঁটুর stiffness কমায়
  • মাংসপেশি শিথিল করে
  • সাময়িক ব্যথা উপশমে সাহায্য করে

রাতে ঘুমানোর আগে হালকা হাতে ম্যাসাজ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে খুব বেশি চাপ দেওয়া উচিত নয়। 

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া

হাঁটু ব্যথা থাকাকালীন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিশ্রাম। ব্যথা থাকা অবস্থায় অতিরিক্ত হাঁটা, সিঁড়ি ওঠানামা বা ভারী কাজ করলে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।

  • প্রয়োজনে কাজের ফাঁকে হাঁটু একটু উঁচু করে রাখুন
  • দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে থাকবেন না
  • হাঁটুর ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ এড়িয়ে চলুন। বিশ্রাম হাঁটুর প্রাকৃতিকভাবে সেরে ওঠার সুযোগ করে দেয়, বিশেষ করে overuse injury বা মাইল্ড ইনজুরির ক্ষেত্রে।

মেঝেতে না বসে চেয়ারে বসা

বাংলাদেশে অনেকেই মেঝেতে বসে কাজ করা, খাওয়া বা নামাজ পড়ার অভ্যাসে অভ্যস্ত। কিন্তু হাঁটু ব্যথা থাকলে এই অভ্যাস হাঁটুর জয়েন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। কেন চেয়ারে বসা ভালো

  • হাঁটু কম ভাঁজ করতে হয়
  • জয়েন্টে চাপ কম পড়ে
  • বসা থেকে ওঠা সহজ হয়

চেয়ার বা উঁচু টুল ব্যবহার করলে হাঁটুর ব্যথা ধীরে ধীরে কমে এবং ভবিষ্যতে ব্যথা বাড়ার ঝুঁকিও কমে।  এই ঘরোয়া উপায়গুলো হালকা থেকে মাঝারি হাঁটু ব্যথার ক্ষেত্রে সহায়ক হলেও, যদি ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, ফোলা না কমে বা হাঁটতে সমস্যা বাড়তে থাকে তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

অপারেশন ছাড়া হাঁটু ব্যথার চিকিৎসা

অনেক মানুষের মনে একটি সাধারণ ভয় কাজ করে- হাঁটু ব্যথা মানেই বুঝি শেষ পর্যন্ত অপারেশন। কিন্তু  বাস্তবতা হলো, সব হাঁটু ব্যথার জন্য অপারেশন প্রয়োজন হয় না। সঠিক সময়ে সঠিক নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসা শুরু করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপারেশন ছাড়াই হাঁটু ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিশেষ করে early stage knee pain, osteoarthritis, ligament বা tendon সমস্যা, এবং লাইফস্টাইলজনিত হাঁটু ব্যথার ক্ষেত্রে অপারেশন ছাড়া চিকিৎসাই প্রথম ও সবচেয়ে নিরাপদ পছন্দ।

নিচে অপারেশন ছাড়া হাঁটু ব্যথা কমানোর কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো—

আকুপাংচার চিকিৎসা 

আকুপাংচার হলো একটি প্রাচীন কিন্তু আধুনিক গবেষণায় সমর্থিত চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে শরীরের নির্দিষ্ট acupuncture points-এ সূক্ষ্ম ও জীবাণুমুক্ত সূঁচ প্রয়োগ করে ব্যথা, প্রদাহ এবং জয়েন্টের অস্বস্তি কমানো হয়। বর্তমানে হাঁটু ব্যথা, অস্টিওআর্থারাইটিস, দীর্ঘমেয়াদি জয়েন্ট পেইন ও মাংসপেশির সমস্যায় আকুপাংচার চিকিৎসা বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।   বাংলাদেশে এই চিকিৎসা পদ্ধতিটি এখন আরও সংগঠিত ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিশেষ করে শশী হাসপাতাল-এ হাঁটু ব্যথার আকুপাংচার চিকিৎসা অনেক গুরুত্বসহকারে ও সফলতার সাথে প্রদান করা হচ্ছে। 

শশী হাসপাতালে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত আকুপাংচার থেরাপিস্টদের মাধ্যমে রোগীর সমস্যা অনুযায়ী ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়। হাঁটুর ব্যথার ধরন, বয়স, জয়েন্টের অবস্থা এবং রোগের স্থায়িত্ব বিবেচনা করে নির্দিষ্ট পয়েন্টে আকুপাংচার প্রয়োগ করা হয়, যার ফলে রোগীরা দ্রুত উপকার পেয়ে থাকেন।

আকুপাংচারের উপকারিতা ও সাফল্য- 

  • হাঁটুর ব্যথা ও ফোলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে
  • জয়েন্টের stiffness বা শক্তভাব ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়
  • রক্ত সঞ্চালন উন্নত হওয়ায় হাঁটুর নড়াচড়া সহজ হয়
  • দীর্ঘদিনের হাঁটু ব্যথায় প্রাকৃতিক pain relief পাওয়া যায়
  • অনেক রোগীর ক্ষেত্রে নিয়মিত ওষুধের প্রয়োজনীয়তা কমে আসে 

শশী হাসপাতালে নিয়মিত আকুপাংচার চিকিৎসা গ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী অপারেশন ছাড়াই হাঁটু ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন, যা এই চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা ও সাফল্যের হারকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে হাঁটু ব্যথায় ভুগছেন, ওষুধে সাময়িক উপকার পাচ্ছেন বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগছেন—তাদের জন্য শশী হাসপাতালের আকুপাংচার চিকিৎসা একটি নিরাপদ, প্রাকৃতিক ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে সর্বোত্তম ফল পাওয়ার জন্য আকুপাংচার চিকিৎসা অবশ্যই প্রশিক্ষিত থেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে এবং সঠিক চিকিৎসা পরিকল্পনার মাধ্যমে গ্রহণ করা উচিত—যা শশী হাসপাতালে নিয়মিতভাবে অনুসরণ করা হয়। জেনে নিনঃ আকুপাংচার কি এবং কোন কোন রোগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য

ফিজিওথেরাপি

ফিজিওথেরাপি হলো হাঁটু ব্যথার সবচেয়ে কার্যকর ও প্রমাণিত নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসা পদ্ধতিগুলোর একটি। সঠিক ব্যায়াম, ম্যানুয়াল থেরাপি এবং আধুনিক ফিজিওথেরাপি টেকনিকের মাধ্যমে হাঁটুর চারপাশের পেশি শক্তিশালী করা হয়, জয়েন্টের নড়াচড়া উন্নত করা হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।  বাংলাদেশে এই চিকিৎসা পদ্ধতির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে শশী হাসপাতাল-এ হাঁটু ব্যথার ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা খুবই গুরুত্বসহকারে, পরিকল্পিতভাবে এবং উল্লেখযোগ্য সাফল্যের সাথে প্রদান করা হচ্ছে।

শশী হাসপাতালে প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা করে personalized physiotherapy plan তৈরি করা হয়। রোগীর বয়স, হাঁটুর সমস্যার ধরন, ব্যথার স্থায়িত্ব এবং দৈনন্দিন কাজের ধরন বিবেচনা করে থেরাপির ধরন ও ব্যায়াম নির্ধারণ করা হয়। এই ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণেই ফিজিওথেরাপিতে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে।

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার উপকারিতা 

  • হাঁটুর ব্যথা ও stiffness ধীরে ধীরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে
  • জয়েন্টের নড়াচড়া স্বাভাবিক ও সহজ হয়
  • হাঁটু স্থিতিশীল থাকে, হঠাৎ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি কমে
  • হাঁটার সক্ষমতা ও দৈনন্দিন কাজের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ে
  • ভবিষ্যতে ব্যথা বাড়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে

শশী হাসপাতালে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি গ্রহণকারী অনেক রোগীই অপারেশন ছাড়াই হাঁটু ব্যথার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয়েছে, যা এই চিকিৎসা পদ্ধতির উচ্চ সাফল্যের হারকে প্রমাণ করে। বিশেষ করে অস্টিওআর্থারাইটিস, লিগামেন্ট দুর্বলতা, টেন্ডন ইনজুরি এবং লাইফস্টাইলজনিত হাঁটু ব্যথায় ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত কার্যকর ফল দিচ্ছে।

অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত থেরাপি নেওয়ার ফলে রোগীরা শুধু ব্যথা কমাচ্ছেন না, বরং হাঁটুর দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতাও নিশ্চিত করতে পারছেন—যা শশী হাসপাতালের ফিজিওথেরাপি সেবার একটি বড় শক্তি।
বিস্তারিত জানুনঃ
Benefits of Manual Physiotherapy for Pain Management

ওষুধ (ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী)

হাঁটু ব্যথা তীব্র হলে অনেক সময় ব্যথানাশক বা anti-inflammatory ওষুধ প্রয়োজন হয়। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- নিজে নিজে ওষুধ সেবন করা উচিত নয়ডাক্তার রোগীর বয়স, ব্যথার ধরন ও অন্যান্য শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে ওষুধ নির্ধারণ করেন। ওষুধ সাধারণত দেওয়া হয়

  • তীব্র ব্যথা বা জয়েন্ট ইনফ্ল্যামেশনে
  • রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে
  • ফিজিওথেরাপির সহায়ক হিসেবে। দীর্ঘদিন ভুলভাবে ওষুধ খেলে কিডনি, পাকস্থলী ও হৃদযন্ত্রের ক্ষতির ঝুঁকি থাকে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অত্যন্ত জরুরি।

হাঁটুর সাপোর্ট (Knee brace) ব্যবহার

Knee brace বা হাঁটুর সাপোর্ট ব্যবহার করলে হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ কম পড়ে এবং চলাফেরার সময় স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

কাদের জন্য উপকারী

  • অস্টিওআর্থারাইটিস রোগী
  • লিগামেন্ট বা টেন্ডন দুর্বলতা থাকলে
  • দীর্ঘ সময় হাঁটা বা দাঁড়িয়ে কাজ করতে হলে। সঠিক ধরনের brace ব্যবহার করলে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং দৈনন্দিন কাজ করা সহজ হয়।

ইনজেকশন থেরাপি

যখন ওষুধ ও ফিজিওথেরাপিতে পর্যাপ্ত উন্নতি হয় না, তখন কিছু ক্ষেত্রে ইনজেকশন থেরাপি ব্যবহার করা হয়।  এটি সাধারণত- 

  • তীব্র জয়েন্ট প্রদাহ
  • মাঝারি পর্যায়ের অস্টিওআর্থারাইটিস
  • অপারেশন সাময়িকভাবে এড়ানোর জন্য। এই থেরাপি হাঁটুর ভেতরের ব্যথা ও ফোলা কমিয়ে রোগীকে দ্রুত স্বস্তি দিতে সাহায্য করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ

হাঁটু ব্যথা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর ও প্রাকৃতিক সমাধানগুলোর একটি হলো ওজন নিয়ন্ত্রণ। অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর জয়েন্টের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করে এবং কার্টিলেজ ক্ষয় দ্রুত বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে

  • শরীরের ওজন ৫–১০% কমাতে পারলে হাঁটু ব্যথা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে
  • জয়েন্টের ওপর চাপ কমে
  • অন্যান্য চিকিৎসার ফল দ্রুত পাওয়া যায় 

সুষম খাবার, হালকা ব্যায়াম ও নিয়মিত হাঁটার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ওজন নিয়ন্ত্রণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। হাঁটু ব্যথা মানেই অপারেশন—এই ধারণা পুরোপুরি ভুল। আকুপাংচার, ফিজিওথেরাপি, সঠিক চিকিৎসা ও লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে অধিকাংশ হাঁটু ব্যথাই অপারেশন ছাড়াই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভবতবে ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, হাঁটতে সমস্যা বাড়লে বা ফোলা না কমলে দেরি না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথার ব্যায়াম 

নিয়মিত ও সঠিক ব্যায়াম হাঁটুর জয়েন্টকে শক্তিশালী করে, ব্যথা কমায় এবং ভবিষ্যতে হাঁটু সমস্যার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়—ওষুধ বা বিশ্রামের পাশাপাশি উপযুক্ত ব্যায়াম না করলে হাঁটু ব্যথা বারবার ফিরে আসে।

হাঁটুর চারপাশের পেশি (muscle) যত শক্তিশালী হয়, জয়েন্টের ওপর চাপ তত কম পড়ে। ফলে knee joint pain, joint stiffness, এবং walking difficulty ধীরে ধীরে কমে আসে। তবে মনে রাখতে হবে—ব্যায়াম হতে হবে সহজ, নিয়ন্ত্রিত এবং নিয়মিত। নিচে হাঁটু ব্যথার জন্য সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ কিছু ব্যায়াম তুলে ধরা হলো— 

Straight Leg Raise 

এই ব্যায়ামটি হাঁটুর চারপাশের মাংসপেশি শক্তিশালী করার জন্য খুবই কার্যকর, বিশেষ করে যাদের হাঁটু ভাঁজ করলে ব্যথা বাড়ে।

কীভাবে করবেন

  • চিত হয়ে শুয়ে এক পা ভাঁজ করুন
  • অন্য পা সোজা রেখে ধীরে ধীরে ওপরে তুলুন
  • ৫–১০ সেকেন্ড ধরে রেখে আবার নামান
  • প্রতিদিন ৮–১০ বার, ২–৩ সেট

উপকারিতা

  • হাঁটুর ওপর চাপ না দিয়ে পেশি শক্তিশালী করে
  • অস্টিওআর্থারাইটিস ও দুর্বল হাঁটুতে নিরাপদ

Quadriceps Strengthening

Quadriceps হলো হাঁটুর সামনের দিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পেশি। এই পেশি দুর্বল হলে হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা ও অস্থিরতা বেড়ে যায়।

সহজ পদ্ধতি

  • চেয়ারে বসে বা শুয়ে হাঁটু সোজা রাখুন
  • হাঁটুর নিচের পেশি শক্ত করে ৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন
  • ধীরে ধীরে ছাড়ুন

উপকারিতা

  • হাঁটু স্থিতিশীল রাখে
  • বসা থেকে ওঠা ও সিঁড়ি ভাঙা সহজ হয়
  • দীর্ঘমেয়াদি হাঁটু ব্যথা কমাতে সাহায্য করে 

Hamstring Stretch

Hamstring হলো হাঁটুর পেছনের পেশি। এই পেশি শক্ত বা টানটান হলে হাঁটু ভাঁজ-সোজা করতে ব্যথা হয়।

কীভাবে করবেন

  • চিত হয়ে শুয়ে এক পা সোজা তুলে ধরুন
  • পায়ের পেছনে হাত বা তোয়ালে দিয়ে ধরে রাখুন
  • ১০–১৫ সেকেন্ড ধরে রেখে নামান

উপকারিতা

  • হাঁটুর পেছনের টান কমায়
  • stiffness ও morning pain কমাতে সহায়ক
  • হাঁটার স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনে

হাঁটু ভাঁজ ও সোজা করার ব্যায়াম

এটি সবচেয়ে সহজ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যায়াম, যা হাঁটুর নড়াচড়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

কীভাবে করবেন

  • চেয়ারে বসে ধীরে ধীরে হাঁটু ভাঁজ করুন
  • এরপর আবার সোজা করুন
  • ব্যথা না বাড়লে দিনে ১০–১৫ বার

উপকারিতা

  • জয়েন্টের ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়ায়
  • হাঁটু লক হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়
  • দৈনন্দিন চলাফেরা সহজ করে 

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: ব্যথা বেশি থাকলে বা হাঁটু ফুলে গেলে নিজে নিজে ব্যায়াম শুরু করবেন না, হঠাৎ বা জোর করে ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকুন, ব্যথা বাড়লে সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম বন্ধ করুন।   ব্যথা বেশি থাকলে বা দীর্ঘদিন হাঁটু সমস্যায় ভুগলে অবশ্যই ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে ব্যায়াম করা উচিত। সঠিক নির্দেশনা ছাড়া ব্যায়াম করলে উপকারের বদলে সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

লাইফস্টাইল পরিবর্তনের গুরুত্ব 

হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের ক্ষেত্রে চিকিৎসার পাশাপাশি লাইফস্টাইল পরিবর্তন সবচেয়ে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে কাজ করে। অনেক সময় ওষুধ বা থেরাপিতে সাময়িক উপকার মিললেও দৈনন্দিন অভ্যাস ঠিক না করলে হাঁটু ব্যথা বারবার ফিরে আসে।

বিশেষ করে শহুরে জীবনে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং ভুল অভ্যাস হাঁটুর জয়েন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। তাই হাঁটু সুস্থ রাখতে নিচের লাইফস্টাইল পরিবর্তনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ— 

  • নিয়মিত হাঁটা: প্রতিদিন হালকা থেকে মাঝারি গতিতে হাঁটা হাঁটুর জয়েন্টকে সচল রাখে এবং চারপাশের পেশি শক্তিশালী করে। নিয়মিত হাঁটলে জয়েন্টে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, stiffness কমে এবং হাঁটু ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়। তবে খুব বেশি দ্রুত বা দীর্ঘ সময় হাঁটা এড়িয়ে চলা উচিত।
  • দীর্ঘক্ষণ বসে না থাকা: একটানা দীর্ঘ সময় বসে থাকলে হাঁটুর জয়েন্ট শক্ত হয়ে যায় এবং ব্যথা বাড়তে পারে। অফিসে কাজ করার সময় প্রতি ৩০–৪৫ মিনিট পরপর উঠে একটু হাঁটা বা স্ট্রেচ করা হাঁটুর জন্য উপকারী। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা হাঁটু ব্যথার একটি নীরব কিন্তু বড় কারণ।
  • সঠিক জুতা ব্যবহার: ভুল বা শক্ত জুতা হাঁটুর ওপর অসম চাপ সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে হাঁটু ব্যথা বাড়িয়ে দেয়। নরম সোলযুক্ত, আরামদায়ক ও সঠিক সাইজের জুতা হাঁটুর জয়েন্টের ওপর চাপ কমায় এবং হাঁটার সময় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • সিঁড়ি ওঠানামায় সতর্কতা: হাঁটু ব্যথা থাকলে দ্রুত সিঁড়ি ওঠানামা বা একসাথে অনেক ধাপ ওঠা-নামা করা উচিত নয়। ধীরে ধীরে, রেলিং ধরে সিঁড়ি ব্যবহার করলে হাঁটুর ওপর চাপ কম পড়ে এবং ব্যথা বাড়ার ঝুঁকি কমে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর জয়েন্টের সবচেয়ে বড় শত্রু। শরীরের ওজন যত বাড়ে, হাঁটুর ওপর চাপ তত বেশি পড়ে। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাবার ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে হাঁটু ব্যথা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। 

লাইফস্টাইল পরিবর্তন ছাড়া হাঁটু ব্যথার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নিয়মিত হাঁটা, সঠিক অভ্যাস এবং সচেতন জীবনযাপন হাঁটুর জয়েন্টকে দীর্ঘদিন সুস্থ ও কার্যক্ষম রাখতে সাহায্য করে।

হাটুর জয়েন্টে ব্যথা কোন ডাক্তার দেখাবেন

হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা হলে সবার আগে যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো—অপারেশন ছাড়া ব্যথা কমানো এবং হাঁটুর স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনা। আধুনিক চিকিৎসায় এখন এই লক্ষ্যেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই কারণে বর্তমানে হাঁটু ব্যথার ক্ষেত্রে আকুপাংচার বিশেষজ্ঞ-এর ভূমিকা সবার আগে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

আকুপাংচার বিশেষজ্ঞ

হাঁটুর দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, অস্টিওআর্থারাইটিস, জয়েন্ট স্টিফনেস, হাঁটার সময় ব্যথা বা বসা থেকে উঠতে কষ্ট—এই ধরনের সমস্যায় আকুপাংচার চিকিৎসা এখন প্রথম সারির নন-সার্জিক্যাল সমাধান হিসেবে স্বীকৃত। আকুপাংচার শরীরের নির্দিষ্ট পয়েন্টে সূক্ষ্ম সূঁচ প্রয়োগের মাধ্যমে—

  • ব্যথা ও প্রদাহ কমায়
  • রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে
  • জয়েন্টের শক্তভাব দূর করে
  • প্রাকৃতিকভাবে pain relief দেয় 

Best Pain Specialist Doctor in Dhaka, Bangladesh

এই চিকিৎসা পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—এতে দীর্ঘদিন ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন কমে আসে এবং অনেক ক্ষেত্রেই অপারেশন এড়িয়ে চলা সম্ভব হয়। বাংলাদেশে হাঁটু ব্যথার আকুপাংচার চিকিৎসায় অত্যন্ত আস্থার একটি নাম হলো ডা. এস. এম. শহীদুল ইসলাম পিএইচডি, পিপিএম। তিনি বর্তমানে শশী হাসপাতাল-এ আকুপাংচার বিশেষজ্ঞ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে চিকিৎসা প্রদান করছেন। ডা. এস. এম. শহীদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে শশী হাসপাতালে হাঁটু ব্যথার আকুপাংচার চিকিৎসায়—

  • উল্লেখযোগ্য সাফল্যের হার দেখা যাচ্ছে
  • বহু রোগী অপারেশন ছাড়াই স্বাভাবিক হাঁটাচলা করতে পারছেন
  • দীর্ঘদিনের ব্যথা ও stiffness ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে। এই কারণেই হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথার ক্ষেত্রে সবার আগে আকুপাংচার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত হবে।  শশী হাসপাতাল-এ হাঁটু ব্যথাসহ অন্যান্য ব্যথাজনিত সমস্যার চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে ইউটিউব চ্যানেলটি ভিজিট করুন।

অন্যান্য বিশেষজ্ঞ (প্রয়োজন অনুযায়ী)

আকুপাংচার চিকিৎসার পাশাপাশি বা নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে নিচের বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা থাকতে পারে—

  • ফিজিওথেরাপিস্ট – হাঁটুর পেশি শক্তিশালী ও নড়াচড়া উন্নত করার জন্য
  • অর্থোপেডিক স্পেশালিস্ট – গুরুতর গঠনগত সমস্যা বা আঘাত থাকলে
  • রিউমাটোলজিস্ট – রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা অটোইমিউন সমস্যায় 

তবে অধিকাংশ হাঁটু ব্যথার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে—আকুপাংচার চিকিৎসাই প্রথম ধাপে সবচেয়ে বেশি উপকার দিচ্ছে।   শেষ কথা হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা মানেই অপারেশন নয়। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা শুরু করলে অপারেশন ছাড়াই সুস্থ থাকা সম্ভব।

উপসংহার

হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা কখনোই অবহেলা করার মতো বিষয় নয়। শুরুতে হালকা ব্যথা মনে হলেও সময়ের সাথে সাথে এটি দৈনন্দিন চলাফেরা, কাজের সক্ষমতা এবং জীবনযাত্রার মানকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তাই হাঁটু ব্যথাকে সাময়িক সমস্যা না ভেবে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা, সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রয়োজনীয় লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপারেশন ছাড়াই হাঁটু ব্যথা নিয়ন্ত্রণ ও উন্নতি করা সম্ভব। বিশেষ করে আকুপাংচার ও ফিজিওথেরাপির মতো আধুনিক নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসা পদ্ধতি বর্তমানে হাঁটু ব্যথার ক্ষেত্রে নিরাপদ ও কার্যকর সমাধান হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।