সায়াটিকা ব্যথা কেন হয়? সায়াটিকা সারানোর উপায়।

সায়াটিকা ব্যথা কেন হয়? সায়াটিকা সারানোর উপায়

সায়াটিকা ব্যথা নীরব কিন্তু ভয়ংকর এক সমস্যা। আজকের ব্যস্ত জীবনে হঠাৎ করে কোমর থেকে পা পর্যন্ত ব্যথা, ঝিনঝিনে অনুভূতি, জ্বালাপোড়া বা অবশ ভাব অনেকের কাছেই পরিচিত একটি সমস্যা। বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট হওয়া, দীর্ঘ সময় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলে ব্যথা বেড়ে যাওয়া; এসব লক্ষণ আমরা প্রায়ই উপেক্ষা করি। বেশিরভাগ মানুষই এটাকে সাধারণ কোমর ব্যথা ভেবে অবহেলা করেন।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই ব্যথার পেছনে থাকতে পারে সায়াটিকা (Sciatica); একটি স্নায়ুজনিত জটিল সমস্যা, যা সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না করলে ধীরে ধীরে দৈনন্দিন জীবনকে অচল করে দিতে পারে। হাঁটা, বসা, ঘুমানো এমনকি স্বাভাবিক কাজকর্ম করাও তখন কঠিন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সায়াটিকা ব্যথার হার দিন দিন বাড়ছে। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, ভুল ভঙ্গিতে হাঁটা-বসা, ভারী জিনিস তোলা, অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস এবং শারীরিক ব্যায়ামের অভাব। অফিস কর্মী, ড্রাইভার, গার্মেন্টস কর্মী, ফ্রিল্যান্সার; সব শ্রেণির মানুষই এখন এই সমস্যায় ভুগছেন। 

এই ব্লগে আমরা সহজ ও বাস্তবভিত্তিক ভাষায় বিস্তারিত জানবো- 

  • সায়াটিকা ব্যথা কী এবং কেন হয়
  • সায়াটিকা ব্যথার সাধারণ ও জটিল লক্ষণ
  • সায়াটিকা ব্যথা কতদিন স্থায়ী হতে পারে
  • ঘরোয়া উপায়ে সায়াটিকা ব্যথা কমানোর উপায়
  • আধুনিক চিকিৎসা ও ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে সায়াটিকা সারানোর উপায়
  • বাংলাদেশে সায়াটিকা চিকিৎসা কোথায় ও কিভাবে পাওয়া যায়

আপনি যদি কোমর থেকে পা পর্যন্ত ব্যথা, ঝিনঝিনে ভাব বা পায়ে দুর্বলতা অনুভব করে থাকেন, তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্যই। সময়মতো সচেতন হলে এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে সায়াটিকা ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব অপারেশন ছাড়াই।

সায়াটিকা ব্যথা কী? (What is Sciatica Pain)

সায়াটিকা ব্যথা হলো এমন এক ধরনের স্নায়ুজনিত ব্যথা, যা শরীরের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু Sciatic Nerve আক্রান্ত হওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়। এই স্নায়ুটি আমাদের কোমরের নিচের অংশ (Lower Back) থেকে শুরু হয়ে নিতম্ব, উরু, হাঁটু পেরিয়ে পায়ের পাতা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। তাই এই নার্ভে সমস্যা হলে ব্যথা শুধু কোমরে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি ধীরে ধীরে পুরো পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

সাধারণত যখন কোনো কারণে সায়াটিক নার্ভের উপর চাপ পড়ে, স্নায়ুটি চাপে পড়ে যায় বা প্রদাহগ্রস্ত হয়, তখন যে তীব্র, জ্বালাপোড়া বা টান ধরার মতো ব্যথা অনুভূত হয়, তাকেই বলা হয় সায়াটিকা ব্যথা (Sciatica Pain)এই ব্যথার ধরন একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে-

  • কারো ক্ষেত্রে হালকা ঝিনঝিনে অনুভূতি
  • কারো ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শকের মতো ব্যথা
  • আবার কারো পায়ে অবশ ভাব বা দুর্বলতাও দেখা দিতে পারে

গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় মনে রাখা দরকার- সায়াটিকা নিজে কোনো আলাদা রোগ নয়। বরং এটি মেরুদণ্ড, ডিস্ক, পেশি বা অন্য কোনো সমস্যার কারণে সৃষ্ট একটি লক্ষণ (Symptom) মাত্র।  যেমন- 

  • ডিস্ক স্লিপ
  • মেরুদণ্ডের হাড়ের সমস্যা
  • দীর্ঘদিন ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকা
  • অতিরিক্ত ওজন বা বয়সজনিত পরিবর্তন

এসব সমস্যার ফলেই সাধারণত সায়াটিকা ব্যথা দেখা দেয়। বাংলাদেশে অনেক মানুষই বছরের পর বছর কোমর বা পায়ের ব্যথা সহ্য করেন, কিন্তু বুঝতেই পারেন না যে এটি আসলে সায়াটিকা। ফলে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না নেওয়ায় ব্যথা ধীরে ধীরে দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল আকার ধারণ করে। তবে সঠিক সময়ে শনাক্ত করা গেলে এবং উপযুক্ত চিকিৎসা ও ফিজিওথেরাপি নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সায়াটিকা ব্যথা অপারেশন ছাড়াই ভালো করা সম্ভব। সুতরাং, অপারেশন ছাড়া সায়াটিকা ব্যথার চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে জেনে নিনঃ সায়াটিক নার্ভের ব্যথা: লক্ষণ, কারণ ও অপারেশন ছাড়া চিকিৎসা

সায়াটিকা ব্যথা কেন হয়? (Causes of Sciatica)

সায়াটিকা ব্যথার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস, শারীরিক অবস্থা এবং বয়সজনিত পরিবর্তনের কারণে সাধারণত এই সমস্যা দেখা দেয়। নিচে সায়াটিকা ব্যথার সবচেয়ে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলো সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হলো- 

১. ডিস্ক স্লিপ বা হার্নিয়েটেড ডিস্ক (Slipped Disc): মেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝখানে থাকা নরম ডিস্কগুলো আমাদের শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু যখন এই ডিস্ক তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে সায়াটিক নার্ভের উপর চাপ সৃষ্টি করে, তখন সায়াটিকা ব্যথা শুরু হয়। বাংলাদেশে সায়াটিকা ব্যথার এটি সবচেয়ে সাধারণ ও প্রধান কারণ।

২. দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা: বর্তমান সময়ে অনেক মানুষকেই দীর্ঘ সময় বসে কাজ করতে হয়, যেমন-

  • অফিস ডেস্ক জব
  • কম্পিউটার অপারেটর
  • ফ্রিল্যান্সার
  • কল সেন্টার কর্মী 

ভুল ভঙ্গিতে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে কোমর ও মেরুদণ্ডের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে ধীরে ধীরে সায়াটিক নার্ভে সমস্যা তৈরি হয় এবং সায়াটিকা ব্যথার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

৩. ভারী জিনিস তোলা: হঠাৎ করে ভারী কিছু তোলা বা ভুল ভঙ্গিতে ওজন বহন করা সায়াটিক নার্ভের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে নার্ভে চাপ পড়ে বা মাংসপেশিতে টান লাগে, যার ফলে সায়াটিকা ব্যথা দেখা দিতে পারে।

৪. স্থূলতা (Obesity): অতিরিক্ত ওজন শরীরের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং কোমর ও মেরুদণ্ডের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন এই চাপ থাকলে সায়াটিক নার্ভ আক্রান্ত হয় এবং সায়াটিকা ব্যথার সমস্যা তৈরি হয়।

৫. ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্নায়ু ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে, যাকে বলা হয় Diabetic Neuropathy। এর ফলে সায়াটিক নার্ভ সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সায়াটিকা ব্যথা দেখা দেয়।

৬. বয়সজনিত সমস্যা: ৪০ বছরের পর থেকে আমাদের মেরুদণ্ডের ডিস্ক ও হাড়ে স্বাভাবিক ক্ষয় শুরু হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই পরিবর্তনের কারণে স্নায়ুর উপর চাপ পড়ে এবং সায়াটিকা ব্যথার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।

সায়াটিকা ব্যথার লক্ষণ (Symptoms of Sciatica)

সায়াটিকা ব্যথার লক্ষণ একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। কারো ক্ষেত্রে শুরুতে লক্ষণগুলো খুব হালকা থাকে, আবার কারো ক্ষেত্রে হঠাৎ করেই তীব্র ব্যথা দেখা দেয়। অনেক সময় ধীরে ধীরে সমস্যা বাড়ে, ফলে রোগী বুঝতেই পারেন না যে এটি আসলে সায়াটিকা। সাধারণত সায়াটিকা ব্যথার সবচেয়ে পরিচিত ও সাধারণ লক্ষণগুলো হলো-

  • কোমর থেকে নিতম্ব হয়ে পায়ের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে যাওয়া: এটি সায়াটিকা ব্যথার সবচেয়ে ক্লাসিক লক্ষণ। ব্যথা সাধারণত কোমরের নিচ থেকে শুরু হয়ে নিতম্ব, উরু, হাঁটু হয়ে পায়ের পাতা পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে।
  • পায়ে ঝিনঝিন ভাব, জ্বালাপোড়া বা অবশ অনুভূতি: অনেক সময় মনে হতে পারে যেন পায়ে পিঁপড়া হাঁটছে, বিদ্যুৎ শকের মতো অনুভূতি হচ্ছে অথবা পা ঠিকভাবে অনুভব করা যাচ্ছে না।
  • পায়ের পেশিতে দুর্বলতা: সায়াটিক নার্ভ আক্রান্ত হলে পায়ের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ফলে হাঁটতে কষ্ট হওয়া, সিঁড়ি ভাঙতে সমস্যা বা হঠাৎ পা শক্ত না থাকার অনুভূতি দেখা দেয়।
  • বসলে বা দাঁড়ালে ব্যথা বেড়ে যাওয়া: দীর্ঘ সময় বসে থাকা, চেয়ার থেকে উঠা বা একই ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকলে ব্যথা অনেক বেশি অনুভূত হয়।
  • হাঁচি, কাশি বা হঠাৎ নড়াচড়ার সময় ব্যথা তীব্র হওয়া: এসব কাজের সময় কোমরের ভেতরের চাপ বেড়ে যায়, যার ফলে সায়াটিক নার্ভে চাপ পড়ে এবং ব্যথা হঠাৎ তীব্র হয়ে ওঠে।
  • রাতে ব্যথা বেশি অনুভূত হওয়া: অনেক রোগীই বলেন, রাতে শুয়ে থাকার সময় ব্যথা বেড়ে যায় বা ঘুম ভেঙে যায়। এতে স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত হয় এবং শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষণীয়- সাধারণত সায়াটিকা ব্যথা শরীরের এক পাশের পায়েই বেশি হয়। ডান বা বাম যেকোনো এক পা আক্রান্ত হতে পারে, তবে খুব কম ক্ষেত্রেই দুই পায়ে একসাথে সায়াটিকা দেখা যায়। যদি এই লক্ষণগুলোর সাথে সাথে প্রস্রাব বা পায়খানা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, হঠাৎ খুব বেশি দুর্বলতা বা অসাড়তা দেখা দেয় তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

সায়াটিকার লক্ষণ এবং ঘরোয়া উপায়ে সায়াটিকা ব্যথার চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুনঃ সায়াটিকা (Sciatica) এর উপসর্গ ,কারন,ও চিকিৎসা। 

সায়াটিকা ব্যথা কতদিন থাকে? (How Long Does Sciatica Pain Last?)

সায়াটিকা ব্যথা কতদিন স্থায়ী হবে, তা একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। এটি মূলত নির্ভর করে ব্যথার কারণ, তীব্রতা, রোগীর জীবনযাপন, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নেওয়া হয়েছে কি না; এই বিষয়গুলোর উপর।  সাধারণভাবে সায়াটিকা ব্যথাকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়- 

মাইল্ড সায়াটিকা (Mild Sciatica)
সময়কাল: সাধারণত ২–৬ সপ্তাহ

এই পর্যায়ে ব্যথা সাধারণত হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার হয়। সঠিক বিশ্রাম, হালকা স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ, ফিজিওথেরাপি এবং দৈনন্দিন ভঙ্গি ঠিক রাখলে অনেক ক্ষেত্রেই ২–৬ সপ্তাহের মধ্যে ব্যথা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এই সময়টাতে অবহেলা না করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। 

মডারেট সায়াটিকা (Moderate Sciatica)
সময়কাল: সাধারণত ২–৩ মাস 

এই পর্যায়ে ব্যথা তুলনামূলকভাবে বেশি হয় এবং দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে শুরু করে। বসা, দাঁড়ানো, হাঁটা বা রাতে ঘুমানো; সবকিছুতেই কষ্ট হতে পারে।  এই ক্ষেত্রে সাধারণত প্রয়োজন হয়—

  • নিয়মিত ফিজিওথেরাপি
  • নির্দিষ্ট এক্সারসাইজ
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ। সঠিক চিকিৎসা চালিয়ে গেলে ২–৩ মাসের মধ্যেই বেশিরভাগ রোগী ভালো উন্নতি অনুভব করেন।

ক্রনিক সায়াটিকা (Chronic Sciatica)
সময়কাল: ৬ মাস বা তার বেশি 

যখন সায়াটিকা ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে এবং বারবার ফিরে আসে, তখন সেটিকে ক্রনিক সায়াটিকা বলা হয়। সাধারণত দীর্ঘদিন অবহেলা করা, ভুল চিকিৎসা বা নিয়ম না মানার কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়। 
এই পর্যায়ে চিকিৎসা তুলনামূলকভাবে দীর্ঘমেয়াদি হলেও— সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত ফিজিওথেরাপি ও জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে অপারেশন ছাড়াই অনেক ক্ষেত্রেই ব্যথা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে সায়াটিকা ব্যথার ৮০–৯০% ক্ষেত্রেই অপারেশনের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু ব্যথা সহ্য করে দেরি করলে সমস্যা জটিল আকার ধারণ করতে পারে এবং সুস্থ হতে সময় অনেক বেশি লেগে যায়।

সায়াটিকা সারানোর উপায় (Sciatica Treatment Options)

সায়াটিকা ব্যথা শুরু হলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিন্তু ভালো খবর হলো—প্রাথমিক ও মাঝারি পর্যায়ের সায়াটিকা ব্যথা অনেক ক্ষেত্রেই ঘরোয়া যত্ন ও সঠিক অভ্যাস মেনে চললে ধীরে ধীরে কমে যায়। বিশেষ করে যাদের ব্যথা নতুন বা তুলনামূলকভাবে কম, তাদের জন্য ঘরোয়া চিকিৎসা বেশ কার্যকর হতে পারে।

সায়াটিকা ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়

১. বিশ্রাম ও সঠিক ভঙ্গি (Proper Rest & Posture): সায়াটিকা ব্যথা কমানোর প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং শরীরের ভঙ্গি ঠিক রাখা।

  • শক্ত ও সমতল বিছানায় শোবেন: খুব নরম বা দেবে যাওয়া বিছানায় শুলে কোমরের উপর চাপ পড়ে, যা সায়াটিকা ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে।
  • নরম সোফা ও মেঝেতে বসা এড়িয়ে চলুন: এগুলোতে বসলে কোমর বাঁকা হয়ে যায় এবং সায়াটিক নার্ভে অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
  • সবসময় সোজা হয়ে বসার অভ্যাস করুন: চেয়ারে বসার সময় পিঠ সোজা রাখুন, প্রয়োজনে কোমরের পেছনে ছোট বালিশ ব্যবহার করুন। সঠিক ভঙ্গিতে বসা ও শোয়া সায়াটিকা ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে অনেক সময় ওষুধের মতোই কাজ করে।

২. গরম ও ঠান্ডা সেঁক (Hot & Cold Compress): গরম ও ঠান্ডা সেঁক সায়াটিকা ব্যথা উপশমের একটি সহজ কিন্তু কার্যকর পদ্ধতি।

  • প্রথম ২–৩ দিন ঠান্ডা সেঁক দিন: এতে প্রদাহ (Inflammation) কমে এবং ব্যথার তীব্রতা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
  • এরপর নিয়মিত গরম সেঁক দিন: গরম সেঁক পেশি শিথিল করে, রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং স্নায়ুর উপর চাপ কমাতে সাহায্য করে। প্রতিবার ১৫–২০ মিনিট করে দিনে ২–৩ বার সেঁক দেওয়া উপকারী।

৩. হালকা স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ (Gentle Stretching Exercises): সঠিক নিয়মে করা হালকা স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ সায়াটিকা ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে ব্যথা বেশি থাকলে বা ভুলভাবে করলে সমস্যা বাড়তে পারে—এটা মনে রাখা জরুরি। সাধারণত উপকারী কিছু এক্সারসাইজ হলো—

  • Knee to Chest Stretch: কোমরের পেশি শিথিল করে এবং সায়াটিক নার্ভের চাপ কমায়। 
  • Piriformis Stretch: নিতম্বের গভীর পেশি রিল্যাক্স করে, যা সায়াটিকা ব্যথার অন্যতম প্রধান উৎস।
  • Hamstring Stretch: উরুর পেছনের পেশি নমনীয় করে, ফলে কোমরের উপর চাপ কমে।

প্রতিদিন নিয়মিত, ধীরে ও সঠিক ভঙ্গিতে এই এক্সারসাইজগুলো করলে ব্যথা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। ব্যথা খুব বেশি হলে নিজে নিজে এক্সারসাইজ না করে ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। ঘরোয়া চিকিৎসা সায়াটিকা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে, কিন্তু ব্যথা যদি দীর্ঘদিন থাকে, বাড়তে থাকে বা পায়ে দুর্বলতা দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।  

সায়াটিকা সারানোর আধুনিক চিকিৎসা  (Medical Treatment for Sciatica)

যখন সায়াটিকা ব্যথা ঘরোয়া উপায়ে নিয়ন্ত্রণে আসে না, ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে থাকে অথবা পায়ে দুর্বলতা ও অবশ ভাব বাড়তে থাকে—তখন চিকিৎসাগত পদ্ধতির প্রয়োজন হয়। সঠিক ডায়াগনোসিসের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসক রোগীর অবস্থান অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করেন। বাংলাদেশে বর্তমানে সায়াটিকা চিকিৎসার জন্য আধুনিক ও কার্যকর একাধিক চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে।

১. ফিজিওথেরাপি (Physiotherapy) – সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা

বাংলাদেশে সায়াটিকা চিকিৎসার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি কে সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে ধরা হয়। অধিকাংশ রোগীই নিয়মিত ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে অপারেশন ছাড়াই ভালো হয়ে যান ফিজিওথেরাপিতে সাধারণত যা যা করা হয়- 

  • TENS Therapy: বৈদ্যুতিক তরঙ্গের মাধ্যমে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
  • Ultrasound Therapy: গভীর পেশি ও স্নায়ুর প্রদাহ কমাতে কার্যকর।
  • Lumbar Traction: মেরুদণ্ডের উপর চাপ কমিয়ে সায়াটিক নার্ভকে রিলিফ দেয়।
  • Core Strengthening Exercise: কোমর ও পেটের পেশি শক্তিশালী করে, যাতে ভবিষ্যতে সায়াটিকা পুনরায় না হয়। নিয়মিত ও সঠিকভাবে ফিজিওথেরাপি নিলে ৮০–৯০% রোগীর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়।

শশী হাসপাতালে ফিজিওথেরাপির বিশেষ সুফল

শশী হাসপাতালে সায়াটিকা ও বিভিন্ন মেরুদণ্ডজনিত সমস্যার জন্য আধুনিক ও উন্নত ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা প্রদান করা হয়। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করে অত্যন্ত যত্ন ও দক্ষতার সাথে চিকিৎসা প্রদান করেন। এখানে অভিজ্ঞ ডাক্তার ও দক্ষ ফিজিওথেরাপিস্টরা চিকিৎসা প্রদান করেন।  এর ফলস্বরূপ, শশী হাসপাতালে ফিজিওথেরাপি নেওয়া রোগীদের মধ্যে ৯০–৯৫% রোগীর ফলাফল সন্তোষজনক ও ইতিবাচক, যা এই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা সাফল্য ও রোগীর আস্থার প্রমাণ।

২. সায়াটিকা সারানোর ওষুধ

প্রাথমিক পর্যায়ে সায়াটিকা ব্যথা কমানোর জন্য চিকিৎসক কিছু ওষুধ দিতে পারেন, যেমন—

  • Painkiller: ব্যথার তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে, যাতে রোগী স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারেন।
  • Muscle Relaxant: কোমর ও পায়ের পেশির খিঁচুনি বা শক্তভাব কমাতে ব্যবহৃত হয়।
  • Anti-inflammatory Medicine: সায়াটিক নার্ভের চারপাশের প্রদাহ (Inflammation) কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ভুল ওষুধ বা অতিরিক্ত ডোজে ব্যথা সাময়িক কমলেও সমস্যা দীর্ঘমেয়াদে আরও জটিল হয়ে যেতে পারে।

৩. ইনজেকশন থেরাপি (Injection Therapy)

যেসব রোগীর ব্যথা অত্যন্ত তীব্র এবং ওষুধ বা ফিজিওথেরাপিতেও পর্যাপ্ত উপকার পাচ্ছেন না, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক Epidural Steroid Injection দেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন। এই ইনজেকশন—

  • সায়াটিক নার্ভের আশপাশের প্রদাহ দ্রুত কমায়
  • তীব্র ব্যথা থেকে সাময়িক কিন্তু কার্যকর আরাম দেয়
  • রোগীকে ফিজিওথেরাপি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। এটি সাধারণত অপারেশনের আগের একটি বিকল্প ধাপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৪. সার্জারি (অপারেশন)

সবশেষ বিকল্প হিসেবে সার্জারির কথা বিবেচনা করা হয়।  মাত্র ৫–১০% সায়াটিকা রোগীর ক্ষেত্রেই অপারেশনের প্রয়োজন হয়। সাধারণত নিচের পরিস্থিতিতে অপারেশন দরকার হতে পারে—

  • দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েও ব্যথা না কমা
  • পায়ের পেশি খুব বেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া
  • প্রস্রাব বা পায়খানা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেওয়া। সঠিক রোগ নির্ণয় ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত ছাড়া কখনোই অপারেশন করা উচিত নয়।

সায়াটিকা ব্যথা মানেই অপারেশন নয়। সময়মতো চিকিৎসা, নিয়মিত ফিজিওথেরাপি ও জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সায়াটিকা সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। 

সায়াটিকা ব্যথা হলে কী করা যাবে না? (What Not to Do in Sciatica Pain)

সায়াটিকা ব্যথা থাকাকালীন অনেক সময় কিছু ভুল অভ্যাস unknowingly ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ওষুধ বা ফিজিওথেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি কিছু কাজ এড়িয়ে চলা সায়াটিকা দ্রুত ভালো হওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে সায়াটিকা ব্যথা হলে যেসব কাজ অবশ্যই করা যাবে না, সেগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো-

ভারী কাজ বা ওজন তোলা

সায়াটিকা ব্যথা থাকাকালীন ভারী জিনিস তোলা সবচেয়ে ক্ষতিকর অভ্যাসগুলোর একটি।

  • ভারী কিছু তুললে কোমর ও মেরুদণ্ডের উপর হঠাৎ চাপ পড়ে
  • এতে সায়াটিক নার্ভ আরও বেশি চাপে পড়ে যায়
  • অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা হঠাৎ কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে। এমনকি হালকা কাজ হলেও নিচু হয়ে বা ঝুঁকে করলে সমস্যা বাড়তে পারে।

হঠাৎ দৌড়ানো বা ঝাঁকুনি দেওয়া কাজ

ব্যথা থাকা অবস্থায় দৌড়ানো, লাফানো বা হঠাৎ দ্রুত নড়াচড়া করলে-

  • স্নায়ুর উপর আকস্মিক চাপ পড়ে
  • পেশিতে টান লাগে
  • বিদ্যুৎ শকের মতো তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে। সায়াটিকা থাকলে ধীরে হাঁটা ঠিক আছে, কিন্তু দৌড়ানো বা ঝাঁকুনিযুক্ত ব্যায়াম একেবারেই এড়িয়ে চলতে হবে।

নিচু হয়ে কাজ করা বা বারবার ঝুঁকে পড়া

মেঝে ঝাড়ু দেওয়া, কাপড় কাচা, কিছু তুলতে নিচু হওয়া- এসব কাজ সায়াটিকা রোগীদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

  • এতে কোমর বাঁকা হয়ে যায়
  • ডিস্ক ও সায়াটিক নার্ভের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে
  • ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। প্রয়োজনে বসে বা দাঁড়িয়ে কাজ করার ভঙ্গি পরিবর্তন করুন।
মেঝেতে বসা বা নিচু জায়গায় বসে কাজ করা

বাংলাদেশে অনেকেরই মেঝেতে বসার অভ্যাস আছে, কিন্তু সায়াটিকা ব্যথা থাকলে এটি বড় একটি ভুল।

  • মেঝেতে বসলে কোমর স্বাভাবিক বাঁক হারায়
  • উঠে দাঁড়ানোর সময় সায়াটিক নার্ভে তীব্র চাপ পড়ে
  • ব্যথা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। চেয়ারে বসে পিঠ সোজা রেখে বসাই সবচেয়ে নিরাপদ।

দীর্ঘ সময় মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার

একটানা দীর্ঘ সময় মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহারের সময় আমরা অজান্তেই ভুল ভঙ্গিতে বসে পড়ি।

  • মাথা নিচু হয়ে যায়
  • পিঠ বাঁকা হয়ে পড়ে
  • কোমর ও স্নায়ুর উপর চাপ বাড়ে। প্রতি ৩০–৪০ মিনিট পরপর উঠে দাঁড়ানো, হালকা হাঁটা এবং স্ট্রেচিং করা খুব জরুরি।

মনে রাখবেন, সায়াটিকা ব্যথা থাকাকালীন এই ভুলগুলো এড়িয়ে চললে—ব্যথা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে, ফিজিওথেরাপির ফল ভালো হয়, অপারেশনের ঝুঁকি অনেক কমে যায়।  অনেক সময় শুধু এই “যা করা যাবে না” নিয়মগুলো মেনে চলাই ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।

সায়াটিকা প্রতিরোধের উপায় (Prevention Tips for Sciatica Pain)

সায়াটিকা ব্যথা একবার শুরু হলে তা দীর্ঘদিন ভোগাতে পারে। তবে ভালো খবর হলো- কিছু অভ্যাস সহজ নিয়মিত মেনে চললে সায়াটিকা হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষ করে যারা ডেস্ক জব করেন, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন বা আগেও কোমর-পায়ের ব্যথায় ভুগেছেন তাদের জন্য এই প্রতিরোধমূলক অভ্যাসগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে সায়াটিকা প্রতিরোধের কার্যকর উপায়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো-

নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম

সায়াটিকা সারানোর অন্যতম একটি অংশ হচ্ছে নিয়মিত ব্যায়াম করা। তাই প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটা এবং হালকা ব্যায়াম সায়াটিকা প্রতিরোধের অন্যতম সেরা উপায়। হাঁটাচলা করলে কোমর ও পায়ের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, মেরুদণ্ডের পেশি শক্তিশালী করে, সায়াটিক নার্ভের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমায়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হালকা হাঁটা এবং সপ্তাহে কয়েকদিন স্ট্রেচিং ও কোর এক্সারসাইজ করলে ভবিষ্যতে সায়াটিকা হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা

অতিরিক্ত ওজন কোমর ও মেরুদণ্ডের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, যা সায়াটিকা ব্যথার একটি বড় কারণ। ওজন বেশি হলে ডিস্ক ও স্নায়ুর উপর চাপ বাড়ে, দীর্ঘদিন এই চাপ থাকলে সায়াটিক নার্ভ আক্রান্ত হতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়ামের মাধ্যমে স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখা সায়াটিকা প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। 

জেনে নিনঃ স্থুলতা (Obesity) রোগের চিকিৎসায় আকুপাংচার

সঠিক ভঙ্গিতে বসার অভ্যাস

ভুল ভঙ্গিতে বসা সায়াটিকা হওয়ার অন্যতম সাধারণ কারণ, বিশেষ করে যারা অফিসে বা বাসায় দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন। চেয়ারে বসার সময় পিঠ সোজা রাখুন, কোমরের পেছনে সাপোর্ট ব্যবহার করুন, পা মেঝেতে সমানভাবে রাখুন। সঠিক ভঙ্গিতে বসলে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বাঁক বজায় থাকে এবং সায়াটিক নার্ভে চাপ পড়ে না।

দীর্ঘ সময় বসলে বিরতি নেওয়া

একটানা দীর্ঘ সময় বসে থাকলে even সঠিক ভঙ্গিতে হলেও সায়াটিকা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। প্রতি ৩০–৪০ মিনিট পরপর চেয়ার ছেড়ে দাঁড়ান, ২–৩ মিনিট হালকা হাঁটা বা স্ট্রেচিং করুন, একই ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় আটকে থাকবেন না। এই ছোট বিরতিগুলো স্নায়ু ও পেশিকে রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে।

শক্ত ও উপযুক্ত ম্যাট্রেস ব্যবহার

ঘুমানোর সময় শরীরের ভঙ্গিও সায়াটিকা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খুব নরম ম্যাট্রেসে শুলে কোমর দেবে যায়, এতে মেরুদণ্ডের উপর অস্বাভাবিক চাপ পড়ে। মাঝারি থেকে শক্ত ম্যাট্রেস মেরুদণ্ডকে সঠিক সাপোর্ট দেয় এবং সায়াটিকা হওয়ার ঝুঁকি কমায়। 

সায়াটিকা প্রতিরোধ মানে শুধু ব্যথা এড়ানো নয়; এটি একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য বিনিয়োগ। এই ছোট অভ্যাসগুলো নিয়মিত মেনে চললে সায়াটিকা হওয়ার সম্ভাবনা কমে, কোমর ও পায়ের শক্তি বজায় থাকে, ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন কমে যায়।  

বাংলাদেশে সায়াটিকা চিকিৎসা কোথায় পাওয়া যায়?

বর্তমানে বাংলাদেশে সায়াটিকা ব্যথার চিকিৎসার জন্য উন্নত ফিজিওথেরাপি ও অর্থোপেডিক সেবা পাওয়া যায়। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে সায়াটিকা চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সায়াটিকা চিকিৎসার জন্য ঢাকার মধ্যে একটি আস্থার নাম হলো- শশী হাসপাতাল। 

সায়াটিকা চিকিৎসার ক্ষেত্রে ঢাকার ভেতরে শশী হাসপাতাল বিশেষভাবে পরিচিত, বিশেষ করে তাদের আধুনিক ও রোগী-কেন্দ্রিক ফিজিওথেরাপি সেবার জন্য। এখানে প্রতিটি রোগীর সমস্যার ধরন অনুযায়ী ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরিকল্পনা (Personalized Treatment Plan) তৈরি করা হয়, যা দ্রুত ও নিরাপদ আরোগ্যে সহায়তা করে। এর ফলস্বরূপ, শশী হাসপাতালে ফিজিওথেরাপি নেওয়া রোগীদের মধ্যে প্রায় ৯০–৯৫% রোগীর ফলাফল সন্তোষজনক ও ইতিবাচক, যা এই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা সাফল্য এবং রোগীদের আস্থার একটি ভিত্তি। যারা ঢাকার মধ্যে সায়াটিকা চিকিৎসা খুঁজছেন (Best physiotherapy for sciatica in Dhaka), তাদের জন্য শশী হাসপাতাল একটি নির্ভরযোগ্য ও পরীক্ষিত চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।