অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা গর্ভাবস্থায় বাচ্চার অবস্থান (Malposition of the Fetus) এবং আকুপাংচার চিকিৎসা

গর্ভাবস্থায় বাচ্চার অবস্থান (Malposition of the Fetus) এবং আকুপাংচার চিকিৎসা

গর্ভাবস্থায় বাচ্চার অবস্থান বা গর্ভে শিশুর অবস্থান ঘন ঘন পরিবর্তিত হতে পারে, বিশেষ করে আগের পর্যায়ে। গর্ভাবস্থার অগ্রগতির সাথে সাথে বেশিরভাগ শিশু জন্মের প্রস্তুতির জন্য মাথা নিচু করে ফেলে। এই হেড-ডাউন অবস্থানটি শীর্ষবিন্দু উপস্থাপনা হিসাবে পরিচিত এবং একটি মসৃণ এবং নিরাপদ প্রসবের জন্য সর্বোত্তম অবস্থান হিসাবে বিবেচিত হয়।

আকুপাংচার চিকিৎসা গর্ভে বাচ্চার অবস্থান ঠিক রাখতে সহযোগিতা করে। আকুপাংচার একটি প্রাচীন চীনা পদ্ধতি, এই পদ্ধতিতে কোন প্রকার ঔষধ ছাড়া গর্ভাবস্থার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা যায়। বাংলাদেশের একমাত্র আকুপাংচার স্পেশালাইজড হাসপাতাল, শশী হাসপাতাল এখানে মহিলাদের জন্য আকুপাংচার চিকিৎসার (Female acupuncture service center in Bangladesh) বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।

Malposition of the Fetus কী?

Malposition of the fetus বলতে গর্ভাবস্থায় বাচ্চার এমন অবস্থানকে বোঝায়, যা স্বাভাবিক প্রসবের জন্য আদর্শ নয়। সাধারণত প্রসবের সময় বাচ্চার মাথা নিচের দিকে এবং মুখ মায়ের পিঠের দিকে থাকা সবচেয়ে উপযোগী একটি প্রসব অবস্থান। কিন্তু যদি বাচ্চা নিতম্ব, পা বা শরীর আড়াআড়িভাবে অবস্থান করে, কিংবা মাথা নিচে থাকলেও মুখ বা পিঠ ভুল দিকে থাকে; তখন সেই অবস্থাকে Malposition বলা হয়। এই অবস্থায় বাচ্চার মাথা ও শরীর জরায়ুর সঙ্গে সঠিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় প্রসব প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে বা জটিলতা দেখা দিতে পারে। Malposition কোনো রোগ নয়, বরং গর্ভের ভেতরে বাচ্চার একটি ভিন্ন ভঙ্গি, যা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিতও হতে পারে।

 

গর্ভাবস্থায় শিশুর কিছু সাধারণ অবস্থান

হেড ডাউন (ভারটেক্স): এটি জন্মের জন্য আদর্শ অবস্থান, যেখানে শিশুর মাথাটি জন্মের খালের দিকে নিচের দিকে থাকে।

ব্রীচঃ ব্রীচ পজিশনে, শিশুর নিতম্ব বা পা প্রথমে বেরিয়ে আসার জন্য অবস্থান করে। যদিও কিছু শিশু গর্ভাবস্থার শুরুতে ব্রীচ করে, বেশিরভাগ স্বাভাবিকভাবেই শেষের দিকে মাথা নিচু করে।

ট্রান্সভার্সঃ ট্রান্সভার্স পজিশনে, বাচ্চা জরায়ু জুড়ে পাশে শুয়ে থাকে। এই অবস্থানে সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমের জটিলতা দেখা দিতে পারে।

তির্যকঃ তির্যক অবস্থানে শিশুটি মাথা-নিচ এবং তির্যক অবস্থানের মধ্যে একটি কোণে থাকে।

গর্ভাবস্থা জুড়ে বাচ্চাদের অবস্থান পরিবর্তন করা সাধারণ ব্যাপার, এবং নির্ধারিত তারিখ কাছাকাছি আসার সাথে সাথে অনেক শিশু স্বাভাবিকভাবেই মাথা-নিচু অবস্থানে চলে যাবে। আপনি যদি আপনার শিশুর অবস্থান সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হন তবে আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে এটি নিয়ে আলোচনা করা অপরিহার্য। আকুপাংচার চিকিৎসা গর্ভে বাচ্চার অবস্থান ঠিক রাখতে সহযোগিতা করে

গর্ভাবস্থায় বাচ্চার অবস্থান কেন পরিবর্তিত হয়?

গর্ভাবস্থায় বাচ্চার অবস্থান পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। জরায়ুর ভেতরের জায়গা, মায়ের শরীরের গঠন ও নড়াচড়া, এবং বাচ্চার নিজস্ব প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি সবকিছু মিলেই বাচ্চার অবস্থান নির্ধারিত হয়। মিম্নে, এই বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলচনা করা হলঃ 

জরায়ুর ভেতরে জায়গার অভাব: গর্ভের শেষ দিকে বাচ্চা বড় হয়ে গেলে জরায়ুর ভেতরে বাচ্চার নড়াচড়ার জায়গা অনেকাংশে কমে আসে। বিশেষ করে যদি জরায়ুর গঠন স্বাভাবিক না হয়, একাধিক গর্ভধারণ থাকে বা আগের কোনো অস্ত্রোপচারের প্রভাব থাকে, তাহলে বাচ্চা সুবিধাজনক অবস্থান খুঁজে নিতে পারে না ফলশ্রুতিতে বাচ্চার অবস্থান পরিবর্তন হয়।

পানির পরিমাণ (Amniotic Fluid): গর্ভের পানির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে বাচ্চা সহজেই নড়াচড়া করতে পারে এবং অবস্থান বারবার পরিবর্তন করে। আবার পানির পরিমাণ কম হলে বাচ্চার নড়াচড়া সীমিত হয়ে পড়ে, ফলে সে ভুল অবস্থানে আটকে যেতে পারে।

একাধিক গর্ভধারণ: যমজ বা একাধিক বাচ্চা থাকলে জরায়ুর ভেতরে জায়গা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। এতে সব বাচ্চার জন্য স্বাভাবিক অবস্থানে থাকা কঠিন হয়ে যায় এবং Malposition হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

গর্ভফুলের অবস্থান: গর্ভফুল (Placenta) যদি জরায়ুর নিচের দিকে বা সামনে অবস্থান করে, তাহলে বাচ্চার জন্য মাথা নিচে নামার জায়গা সীমিত হয়ে যায়। এতে বাচ্চার নিতম্ব বা আড়াআড়ি ভঙ্গিতে থাকতে পারে।

 বাচ্চার প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি: আরামদায়ক অবস্থান বাচ্চা স্বাভাবিকভাবেই এমন ভঙ্গি নিতে চায় যেখানে সে নিজেকে আরামদায়ক মনে করে। কখনো কখনো এই স্বাভাবিক প্রবৃত্তির কারণেই বাচ্চা মাথা নিচে না এসে নিতম্ব বা আড়াআড়ি অবস্থানে থেকে যায়।

মায়ের শরীর ও নড়াচড়া: মায়ের দৈনন্দিন ভঙ্গি, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, কম হাঁটাচলা বা সবসময় একই ভঙ্গিতে বিশ্রাম নেওয়া বাচ্চার স্বাভাবিক অবস্থানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই, শরীর যত বেশি সক্রিয় ও ভারসাম্যপূর্ণ থাকে, ততই বাচ্চার স্বাভাবিক অবস্থানে আসার সম্ভাবনা বাড়ে।

পেশী ও স্নায়ুর ভূমিকা: জরায়ু, পেলভিস ও আশপাশের পেশি এবং স্নায়ুগুলো যদি খুব শক্ত বা অসমভাবে টানটান থাকে, তাহলে জরায়ুর ভেতরের স্বাভাবিক সমন্বয় ব্যাহত হয়। এতে বাচ্চা সঠিকভাবে নিচের দিকে স্থির হতে দেরি করতে পারে।

আকুপাংচার চিকিৎসায় যে সব রোগ ভালো হয়! স্বাস্থ্য জিজ্ঞাসা-ATN Bangla

Malposition এর লক্ষণ (Symptoms of Malposition)

গর্ভাবস্থায় Malposition of the fetus সব সময় আগেই স্পষ্ট লক্ষণ তৈরি করে না। অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রসবের সময় বা লেবার চলাকালীন প্রথম ধরা পড়ে। তবে গর্ভের শেষ ত্রৈমাসিক এবং প্রসবের সময় কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ Malposition-এর সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করতে পারে।

পেটের আকৃতিতে অস্বাভাবিকতা: বাচ্চা স্বাভাবিক অবস্থানে না থাকলে পেট একপাশে বেশি উঁচু, চ্যাপ্টা বা অসমান মনে হতে পারে। অনেক মায়ের ক্ষেত্রে পেটের নিচের অংশ ভারী না হয়ে উপরের দিকে চাপ বেশি অনুভূত হয়।

জরায়ুর নিচের দিকে ভারী চাপ বা অস্বস্তি:: Malposition থাকলে জরায়ুর ভেতরে চাপ সমানভাবে বণ্টিত হয় না। ফলে যোনিপথ বা তলপেটে ভারী চাপ অনুভূত হতে পারে, যা স্বাভাবিক গর্ভকালীন চাপের তুলনায় আলাদা মনে হয়।

কোমর ও পিঠে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা: বিশেষ করে Occiput posterior অবস্থানে (বাচ্চার মুখ মায়ের পেটের দিকে থাকলে) তীব্র ও একটানা কোমর বা পিঠের ব্যথা দেখা যায়, যা বিশ্রামে কমে না।

বাচ্চার নড়াচড়ার ধরন বদলে যাওয়া: স্বাভাবিক অবস্থায় নড়াচড়া তলপেটে বেশি অনুভূত হয়। Malposition হলে নড়াচড়া পাশের দিকে বা উপরের পেটে বেশি টের পাওয়া যেতে পারে।

 

প্রসবের সময় Malposition-এর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ 

লেবার ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হওয়া বা অগ্রগতি ধীর হওয়া: বাচ্চা সঠিকভাবে পেলভিসে না বসলে জরায়ুমুখ খুলতে দেরি হয়। ফলে লেবার দীর্ঘ হয় এবং প্রসবের অগ্রগতি স্বাভাবিক গতিতে এগোয় না।

লেবার পেইন অনিয়মিত বা কার্যকর না হওয়া:  জরায়ু সংকোচন হলেও তা পর্যাপ্ত শক্তিশালী বা সমন্বিত না হলে প্রসব কার্যকর হয় না এটি Malposition-এর একটি পরিচিত লক্ষণ।

প্রচণ্ড চাপ অনুভব হলেও বাচ্চা নিচে নামতে না পারা: মা চাপ দেওয়ার প্রবল অনুভূতি পেলেও বাচ্চা পেলভিসে নামতে পারে না, কারণ বাচ্চার মাথা বা শরীর পেলভিসের সঙ্গে সঠিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

Malposition কীভাবে নির্ণয় করা হয়? 

Malposition কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

গর্ভাবস্থায় Malposition of the fetus নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বীকৃত একাধিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। শুধুমাত্র লক্ষণের ওপর নির্ভর না করে নিচের পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—

শারীরিক পরীক্ষা (Abdominal & Pelvic Examination):
অভিজ্ঞ গাইনোকোলজিস্ট পেট স্পর্শ করে বাচ্চার মাথা, পিঠ ও শরীরের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করেন। এই শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে বাচ্চা মাথা নিচে আছে কি না, অথবা শরীর আড়াআড়ি বা তির্যকভাবে অবস্থান করছে কি না—তা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। প্রসবের কাছাকাছি সময়ে প্রয়োজনে যোনিপথ পরীক্ষা করে বাচ্চার মাথা কতটা নিচে নেমেছে এবং সার্ভিক্সের অবস্থাও মূল্যায়ন করা হয়।

আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা:
Malposition নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আল্ট্রাসাউন্ড সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ পদ্ধতি। এর মাধ্যমে বাচ্চার সঠিক ভঙ্গি, মাথা বা নিতম্বের অবস্থান, গর্ভফুল কোথায় আছে এবং গর্ভের পানির পরিমাণ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষ ত্রৈমাসিকে আল্ট্রাসাউন্ডের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রসব চলাকালীন পর্যবেক্ষণ:
প্রসবের সময় যদি লেবর ব্যথা (Labor Pain) দীর্ঘস্থায়ী হয়, অগ্রগতি ধীর হয় বা বারবার চাপ দেওয়া সত্ত্বেও বাচ্চা নিচে নামতে না পারে তখন Malposition-এর সন্দেহ জোরালো হয় এবং পুনরায় পরীক্ষা বা আল্ট্রাসাউন্ড করা হয়। Malposition নিশ্চিত করতে সবসময় চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও আল্ট্রাসাউন্ডের ওপর নির্ভর করা উচিত। সময়মতো সঠিক নির্ণয় করলে প্রসব ব্যবস্থাপনা নিরাপদভাবে পরিকল্পনা করা যায় এবং মা ও শিশুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত? 

গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু নির্দিষ্ট অবস্থায় দেরি না করে গাইনোকোলজিস্টের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে বাচ্চার অবস্থান নিয়ে সন্দেহ বা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসাগত মূল্যায়ন প্রয়োজন।

  • গর্ভাবস্থার শেষ ত্রৈমাসিকে বাচ্চা এখনও স্বাভাবিক অবস্থানে আছে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে
  • পেটের আকৃতি হঠাৎ অস্বাভাবিক, অসমান বা একপাশে বেশি উঁচু মনে হলে
  • তলপেট বা যোনিপথে অতিরিক্ত ভারী চাপ বা অস্বস্তি অনুভূত হলে
  • কোমর বা পিঠে অস্বাভাবিক, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা দেখা দিলে
  • বাচ্চার নড়াচড়ার স্বাভাবিক ধরনে হঠাৎ পরিবর্তন লক্ষ্য করলে
  • প্রসব ব্যথা শুরু হলেও লেবার স্বাভাবিকভাবে এগোচ্ছে না বলে মনে হলে
  • প্রবল চাপ অনুভব হওয়া সত্ত্বেও বাচ্চা নিচে নামছে না বলে অনুভূত হলে
  • পানি ভেঙে যাওয়া বা শ্লেষ্মার সঙ্গে রক্তমিশ্রিত স্রাব দেখা দিলে

এই উপসর্গগুলোর যেকোনোটি- তে অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করলে প্রসব ব্যবস্থাপনা নিরাপদভাবে করা যায় এবং মা ও শিশুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

 

প্রসবকালীন জটিলতা ও গর্ভাবস্থায় বাচ্চার অবস্থান পরিবর্তনে আকুপাংচার চিকিৎসা

আকুপাংচার হল একটি ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা অনুশীলন যা বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় এবং থেরাপিউটিক প্রভাবকে উদ্দীপিত করার জন্য শরীরের নির্দিষ্ট পয়েন্টগুলিতে পাতলা সূঁচ দিয়ে উদ্দীপনা তৈরি করা হয়। আকুপাংচার সাধারণত বিভিন্ন স্বাস্থ্য অবস্থার জন্য ব্যবহৃত হয়। এই সূঁই অনেক পাতলা যা শরীরের গভীরে সামান্য চাপে প্রবেশ করে এবং শরীরকে উদ্দীপিত করে। আকুপাংচারের প্রতিক্রিয়া ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে। জীবনধারা পরিবর্তন এবং খাদ্যতালিকাগত পরিবর্তনের সাথে সাথে আকুপাংচার চিকিৎসা গ্রহণের ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং নার্ভের জটিলতা দূর করে।

প্রসবকালীন বেশ কিছু জটিলতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হল অসামঞ্জস্যপূর্ণ বাচ্চার অবস্থান। প্রসবকালীন জটিলতা ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বাচ্চার অবস্থান পরিবর্তনে পরিমিত জীবনযাপনের পাশাপাশি চিকিৎসা আকুপাংচার চিকিৎসা একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ্য হতে পারে। এক্ষেত্রে আলোচনার বিষয় হচ্ছে আকুপাংচার কিভাবে প্রসবকালীন জটিলতা ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বাচ্চার অবস্থান পরিবর্তনে সহায়তা করবে? আকুপাংচার শরীরের ভেতরে এক ধরনের উদ্দীপনা সৃষ্টি করে, যার ফলে নার্ভের সংকোচন এবং প্রসারণ ঘটে এবং শরীরবৃত্তীয় বিভিন্ন ব্যথা কার্যকারে  বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

নিয়মিত আকুপাংচার চিকিৎসা গ্রহণের ফলে শরীরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং একজন গর্ভবতী মহিলাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে  প্রস্তুত করে তোলে। যার ফলে তার শরীরের কার্যক্রম সঠিকভাবে চলে এবং কোন ওষুধের প্রয়োজন হয় না। অতিরিক্ত ওষুধ গ্রহণ গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ অবস্থায় শারীরিক কার্যকলাপ আরো সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য আকুপাংচার চিকিৎসাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আকুপাংচার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কে আর উন্নত করে এবং শরীরকে আরো কর্মক্ষম করে তোলে। যার ফলে ছোটখাটো অনেক রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে পারে না। গর্ভাবস্থায় একজন নারীর সুস্থতা সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আকুপাংচার চিকিৎসা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে এবং শরীরকে আরও বেশি সতেজ ও কর্মক্ষম রাখতে সহায়তা করে।   

প্রসবকালীন জটিলতা ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বাচ্চার অবস্থান পরিবর্তনের জন্য আকুপাংচারের কার্যকারিতার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে। কিছু গবেষণা দেখা যায়, আকুপাংচার প্রসবের সময় ব্যথা উদ্বেগ, প্রসবকালীন জটিলতা ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বাচ্চার অবস্থান পরিবর্তনে সাহায্য করে। অসামঞ্জস্যপূর্ণ বাচ্চার অবস্থান পরিবর্তনে  কোনো পরিপূরক বা বিকল্প থেরাপি নেওয়ার আগে আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে পরামর্শ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রসবকালীন জটিলতা ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বাচ্চার অবস্থান পরিবর্তনের জন্য আকুপাংচার বিবেচনা করছেন, তাহলে আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে সেশনের সময় নিয়ে আলোচনা করা অপরিহার্য।

আকুপাংচার চিকিৎসার মাধ্যমে ব্যথার কার্যকরী চিকিৎসা (Pain treatment in Dhaka, Bangladesh) করা যায়। বাংলাদেশের মধ্যে ওষুধ ছাড়া ব্যথার চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে আকুপাংচার চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে শশী হাসপাতাল।

See More

ডায়াবেটিস হলে কি সমস্যা হয়? এর করণীয় ও চিকিৎসা

প্রসব ব্যথার (Induction of Labor) কারণ, লক্ষণ এবং আকুপাংচার চিকিৎসা