দ্রুত বীর্যপাত (Premature Ejaculation) বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সাধারণ কিন্তু সবচেয়ে কম আলোচিত পুরুষ স্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর একটি। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বহু পুরুষ এই সমস্যায় ভুগলেও লজ্জা, ভয় কিংবা ভুল তথ্যের কারণে সঠিক সমাধান খুঁজে পান না।
অনেকেই জানতে চান- দ্রুত বীর্যপাত কেন হয়, কি খেলে দ্রুত বীর্যপাত বন্ধ হয়, দ্রুত বীর্যপাত বন্ধ করার উপায়, বীর্য ধরে রাখার উপায়, দ্রুত বীর্যপাতের প্রাকৃতিক চিকিৎসা। আজকে আমরা দ্রুত বীর্যপাতের কারণ থেকে শুরু করে আধুনিক চিকিৎসা, প্রাকৃতিক সমাধান, খাবার, ব্যায়াম এবং কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি- সবকিছু বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো।
দ্রুত বীর্যপাত কী?
সহবাসের সময় যদি একজন পুরুষ নিজের ইচ্ছা বা নিয়ন্ত্রণের আগেই, সাধারণত ১ মিনিটেরও কম সময়ে, বীর্যপাত করে ফেলেন এবং এর ফলে নিজে বা তাঁর সঙ্গী যৌন তৃপ্তি না পান তাহলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে দ্রুত বীর্যপাত (Premature Ejaculation) বলা হয়। এটি এমন একটি সমস্যা যেখানে পুরুষের শরীর ও মনের মধ্যে সমন্বয় ঠিকভাবে কাজ করে না। অনেক ক্ষেত্রে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর খুব দ্রুতই মস্তিষ্ক থেকে স্নায়ুর মাধ্যমে ইজাকুলেশনের সংকেত চলে আসে, ফলে বীর্যপাত হয়ে যায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- এটি কোনো বিরল বা অস্বাভাবিক রোগ নয়, এটি পুরুষত্ব শক্তি বা সক্ষমতার অভাবের প্রমাণ নয় এবং সবচেয়ে আশার কথা- এটি সম্পূর্ণ চিকিৎসাযোগ্য ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে প্রায় ৩০–৪০% পুরুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে দ্রুত বীর্যপাতের সমস্যায় ভোগেন। অনেকেই লজ্জা বা ভুল ধারণার কারণে বিষয়টি গোপন রাখেন, অথচ সঠিক তথ্য ও চিকিৎসা পেলে এই সমস্যা সহজেই সমাধান করা সম্ভব।
- কেউ জন্মগতভাবে এই সমস্যায় ভুগতে পারেন
- আবার কারো ক্ষেত্রে এটি মানসিক চাপ, জীবনযাপন বা শারীরিক কারণে ধীরে ধীরে তৈরি হয়
সুতরাং দ্রুত বীর্যপাতকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই; বরং এটিকে একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বুঝে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। জেনে নিনঃ দ্রুত বীর্যপাত এর কারণ ও মুক্তির উপায় সম্পর্কে।
অস্বাভাবিক ইজাকুলেশন কি?
ইজাকুলেশন বা বীর্যপাত হলো পুরুষ শরীরের একটি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, যা যৌন উত্তেজনার একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছালে ঘটে। সাধারণভাবে একজন পুরুষ যখন মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকেন এবং সহবাসের সময় নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারেন—তখন সেটিকে স্বাভাবিক ইজাকুলেশন বলা হয়। কিন্তু যখন এই প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিক সময়, নিয়ন্ত্রণ বা অনুভূতির বাইরে চলে যায়, তখন তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অস্বাভাবিক ইজাকুলেশন বলা হয়।
নিচের যেকোনো একটি বা একাধিক লক্ষণ নিয়মিত দেখা গেলে বিষয়টিকে অস্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়—
- সহবাস শুরু হওয়ার সাথে সাথেই বা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বীর্যপাত হয়ে যাওয়া
- বীর্যপাতের উপর নিজের কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকা
- দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের সমস্যা চলতে থাকা
- বীর্যপাত হলেও মানসিক বা শারীরিক তৃপ্তি না পাওয়া
- সহবাসের সময় একেবারেই বীর্য বের না হওয়া (Delayed বা Retrograde Ejaculation)
এই ধরনের সমস্যাগুলো অনেক সময় মানসিক চাপ, স্নায়বিক দুর্বলতা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, অতিরিক্ত উত্তেজনা কিংবা কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে হতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ভুল জীবনযাপন বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দায়ী হতে পারে।
মনে রাখা জরুরি, অস্বাভাবিক ইজাকুলেশন মানেই বড় কোনো রোগ—এমন নয়। তবে সমস্যা যদি নিয়মিত হয় বা দাম্পত্য জীবনে প্রভাব ফেলে, তাহলে এটিকে অবহেলা না করে সঠিক কারণ খুঁজে বের করা এবং সময়মতো সমাধানের পথে যাওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
দ্রুত বীর্যপাত কেন হয়?
দ্রুত বীর্যপাতের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। তবে বাস্তবতা হলো- বাংলাদেশসহ আমাদের উপমহাদেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সমস্যার মূল শিকড় থাকে মানসিক অবস্থার ভেতরেই। শরীরের চেয়ে মন এখানে বেশি প্রভাব ফেলে। অনেক পুরুষই জানেন না যে তাঁদের সমস্যার উৎস কোনো শারীরিক দুর্বলতা নয়, বরং অজান্তেই জমে থাকা মানসিক চাপ ও ভেতরের ভয়।
১) মানসিক কারণ (Psychological Causes)
বাংলাদেশে দ্রুত বীর্যপাতের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে কম আলোচিত কারণ হলো মানসিক চাপ। দৈনন্দিন জীবনের টেনশন, পারিবারিক চাপ, কাজের স্ট্রেস বা নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে অতিরিক্ত ভাবনা—সবকিছু মিলেই যৌন নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। মানসিক কারণে দ্রুত বীর্যপাত হওয়ার সাধারণ কারণগুলো হলো—
- অতিরিক্ত উত্তেজনা: দীর্ঘদিন সহবাস না করা, নতুন সম্পর্ক বা অতিরিক্ত কল্পনা করলে উত্তেজনা খুব দ্রুত বেড়ে যায়, ফলে শরীর আগেই সাড়া দিয়ে ফেলে।
- পারফরম্যান্স Anxiety (ভালো করতে হবে—এই চাপ): ঠিকমতো পারবো তো?”, “সঙ্গী সন্তুষ্ট হবে তো?”—এই ধরনের চিন্তা মস্তিষ্ককে অস্বাভাবিকভাবে সক্রিয় করে তোলে।
- প্রথম দিকের সহবাস: নতুন বিবাহিত বা নতুন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি খুবই সাধারণ। অভিজ্ঞতার অভাবে নিয়ন্ত্রণ তৈরি হতে সময় লাগে।
- ভয় ও অপরাধবোধ: সামাজিক ট্যাবু, ধর্মীয় ভয় বা ছোটবেলার ভুল ধারণা যৌন সম্পর্কের সময় অবচেতন মনে চাপ সৃষ্টি করে।
- আগের কোনো খারাপ অভিজ্ঞতা: একবার দ্রুত বীর্যপাত হলে অনেকেই পরের বার সেই ভয় নিয়েই সহবাসে যান, যা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
বৈজ্ঞানিকভাবে বলা যায়, যখন মস্তিষ্ক অতিরিক্ত উত্তেজিত বা চাপে থাকে, তখন স্নায়ুতন্ত্র খুব দ্রুত ইজাকুলেশনের সংকেত পাঠায়। ফলাফল হিসেবে বীর্যপাত ঘটে নিজের অজান্তেই এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সবচেয়ে আশার কথা হলো- মানসিক কারণে হওয়া দ্রুত বীর্যপাত সবচেয়ে সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য। সঠিক তথ্য, মানসিক প্রস্তুতি, কিছু ব্যায়াম ও জীবনযাপনের পরিবর্তনেই অনেক ক্ষেত্রে বড় উন্নতি দেখা যায়।
জেনে নিনঃ দ্রুত বীর্যপাত থেকে মুক্তির অন্যতম উপায় হিসেবে ব্যায়াম একটি অন্যতম অংশঃ Best Ways to Increase Blood Flow to Penis Naturally
২) শারীরিক কারণ (Physical Causes)
যদিও দ্রুত বীর্যপাতের ক্ষেত্রে মানসিক কারণ বড় ভূমিকা রাখে, তবে অনেক পুরুষের ক্ষেত্রে কিছু শারীরিক সমস্যাও সরাসরি এই অবস্থার জন্য দায়ী হতে পারে। শরীরের ভেতরের ভারসাম্য ঠিক না থাকলে স্নায়ু ও হরমোন সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, যার প্রভাব পড়ে ইজাকুলেশন নিয়ন্ত্রণের ওপর। নিচে দ্রুত বীর্যপাতের প্রধান শারীরিক কারণগুলো সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হলো—
স্নায়বিক দুর্বলতা
ইজাকুলেশন পুরোপুরি স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি প্রক্রিয়া। যদি স্নায়ু দুর্বল বা অতিসংবেদনশীল হয়ে যায়, তাহলে খুব অল্প উত্তেজনাতেই মস্তিষ্ক থেকে বীর্যপাতের সংকেত চলে আসে।
এই স্নায়বিক দুর্বলতা হতে পারে—
- দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ
- ডায়াবেটিস
- অতিরিক্ত হস্তমৈথুন
- ঘুমের অভাব
ফলে সহবাসের সময় নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
পুরুষ শরীরে টেস্টোস্টেরন, সেরোটোনিন ও প্রোল্যাকটিন—এই হরমোনগুলো যৌন ইচ্ছা ও ইজাকুলেশন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যখন এই হরমোনগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হয়—
- যৌন উত্তেজনা খুব দ্রুত বেড়ে যায়
- নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমে যায়
- বীর্যপাত তাড়াতাড়ি ঘটে
হরমোনের সমস্যা অনেক সময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না, কিন্তু এর প্রভাব খুব গভীর।
প্রোস্টেট গ্রন্থির সমস্যা
প্রোস্টেট গ্রন্থি পুরুষ প্রজনন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই গ্রন্থিতে যদি—
- প্রদাহ (Prostatitis)
- সংক্রমণ
- দীর্ঘদিনের জ্বালা বা ব্যথা থাকে
তাহলে ইজাকুলেশন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে না। প্রোস্টেট সমস্যায় আক্রান্ত অনেক পুরুষ দ্রুত বীর্যপাত, জ্বালা, কিংবা সহবাসের পর অস্বস্তির অভিযোগ করে থাকেন।
থাইরয়েড সমস্যা
থাইরয়েড হরমোন শরীরের সামগ্রিক মেটাবলিজম ও স্নায়ু কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। বিশেষ করে হাইপারথাইরয়েডিজম থাকলে—
- স্নায়ু অতিসক্রিয় হয়ে পড়ে
- উত্তেজনা দ্রুত বাড়ে
- ইজাকুলেশন দেরি করা কঠিন হয়। অনেক সময় রোগী নিজেই জানেন না যে তাঁর থাইরয়েড সমস্যা আছে, কিন্তু উপসর্গ হিসেবে দ্রুত বীর্যপাত দেখা দেয়।
লিঙ্গের অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা
কিছু পুরুষের ক্ষেত্রে লিঙ্গের ত্বক বা স্নায়ু স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়। ফলে সামান্য স্পর্শ বা উত্তেজনাতেই বীর্যপাত হয়ে যেতে পারে। এর কারণ হতে পারে—
- জন্মগত সংবেদনশীলতা
- দীর্ঘদিন পর্ন নির্ভরতা
- ভুল অভ্যাস
- ত্বকের সমস্যা
এই ক্ষেত্রে সঠিক কৌশল ও চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।
গুরুত্বপূর্ণ কথা
শারীরিক কারণে হওয়া দ্রুত বীর্যপাত মানেই বড় কোনো রোগ—এমনটা নয়। তবে সমস্যা যদি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় বা ধীরে ধীরে বাড়ে, তাহলে সেটিকে অবহেলা না করে কারণ নির্ণয় করা খুব জরুরি। সঠিক পরীক্ষা, জীবনযাপনের পরিবর্তন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে শারীরিক কারণজনিত দ্রুত বীর্যপাতও সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
৩) জীবনযাপনজনিত কারণ
বর্তমান ব্যস্ত ও চাপপূর্ণ জীবনে আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসগুলো অনেক সময় অজান্তেই শরীরের স্বাভাবিক যৌন ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। দ্রুত বীর্যপাতের ক্ষেত্রে জীবনযাপনজনিত কারণগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো ধীরে ধীরে যৌন নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাকে দুর্বল করে তোলে—অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই।
নিচে সবচেয়ে সাধারণ ও প্রভাবশালী জীবনযাপনজনিত কারণগুলো ব্যাখ্যা করা হলো—
অতিরিক্ত হস্তমৈথুন
অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত হস্তমৈথুন করলে শরীর ও মস্তিষ্ক দ্রুত উত্তেজনায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এতে করে সহবাসের সময়ও মস্তিষ্ক খুব দ্রুত ইজাকুলেশনের সংকেত পাঠায়। এর ফলাফল হতে পারে—
- বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়া
- স্নায়ু অতিসংবেদনশীল হয়ে পড়া
- সহবাসে সময় ধরে রাখতে না পারা
মাঝেমধ্যে স্বাভাবিক হস্তমৈথুন ক্ষতিকর নয়, কিন্তু অতিরিক্ত হলে তা দ্রুত বীর্যপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
পর্ন আসক্তি
পর্নোগ্রাফি মস্তিষ্ককে অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত উত্তেজনায় অভ্যস্ত করে তোলে। বাস্তব সহবাসের তুলনায় পর্নে উত্তেজনা অনেক বেশি ও দ্রুত তৈরি হয়, ফলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে সেই দ্রুততার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যায়। এর প্রভাব হিসেবে দেখা যায়—
- বাস্তব সহবাসে নিয়ন্ত্রণের অভাব
- দ্রুত বীর্যপাত
- কখনো কখনো যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া। দীর্ঘদিনের পর্ন আসক্তি দ্রুত বীর্যপাতের একটি নীরব কিন্তু শক্তিশালী কারণ।
ধূমপান
ধূমপান শরীরের রক্ত সঞ্চালন ও স্নায়ুতন্ত্রের উপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে—
- লিঙ্গে রক্ত প্রবাহ কমে যায়
- স্নায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে
- যৌন উত্তেজনা ও নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য নষ্ট হয়। নিয়মিত ধূমপান করা পুরুষদের মধ্যে দ্রুত বীর্যপাত ও অন্যান্য যৌন সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।
অ্যালকোহল
অনেকে মনে করেন অ্যালকোহল যৌন ক্ষমতা বাড়ায়, কিন্তু বাস্তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে যৌন নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অ্যালকোহল –
- স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত করে
- সিদ্ধান্ত ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দুর্বল করে
- ইজাকুলেশন দ্রুত ঘটাতে পারে। মাঝে মাঝে অল্প পরিমাণে নয়, নিয়মিত বা অতিরিক্ত অ্যালকোহলই সমস্যার মূল কারণ।
ঘুমের অভাব
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ঠিকমতো নিজেকে রিকভার করতে পারে না। এর ফলে—
- হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়
- টেস্টোস্টেরন কমে যেতে পারে
- মানসিক চাপ বাড়ে । দীর্ঘদিনের ঘুমের অভাব দ্রুত বীর্যপাতসহ নানা যৌন সমস্যার পথ তৈরি করে।
ফাস্ট ফুড ও জাঙ্ক ফুড
অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড, ভাজাপোড়া ও প্রসেসড খাবার শরীরে—
- পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করে
- ওজন বাড়ায়
- রক্ত সঞ্চালন ও হরমোনে সমস্যা সৃষ্টি করে। এসবের সম্মিলিত প্রভাব পড়ে যৌন স্বাস্থ্যের ওপর, যার একটি ফল হতে পারে দ্রুত বীর্যপাত।
কেন জীবনযাপনজনিত কারণগুলো গুরুত্বপূর্ণ?
এই অভ্যাসগুলো একদিনে সমস্যা তৈরি করে না। ধীরে ধীরে, নিঃশব্দে যৌন নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে অনেকেই বুঝতেই পারেন না সমস্যার শিকড় কোথায়। জীবনযাপনজনিত কারণে হওয়া দ্রুত বীর্যপাত সবচেয়ে সহজে প্রতিরোধযোগ্য ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য। সঠিক অভ্যাস, সচেতনতা ও নিয়মিত যত্ন নিলেই বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
ছেলেদের দ্রুত বীর্যপাত কেন হয়?
বিশেষ করে ১৮–৩০ বছর বয়সী ছেলেদের মধ্যে দ্রুত বীর্যপাতের সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। এই বয়সে শরীর শারীরিকভাবে শক্তিশালী থাকলেও মানসিক ও স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি পরিণত না হওয়াই এর প্রধান কারণ।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি কোনো রোগ নয়, বরং অভিজ্ঞতা, মানসিক অবস্থা ও ভুল ধারণার সমন্বিত ফল। নিচে তরুণ বয়সে দ্রুত বীর্যপাত হওয়ার প্রধান কারণগুলো সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হলো—
নতুন অভিজ্ঞতা
এই বয়সে অনেকেরই সহবাস নতুন একটি অভিজ্ঞতা। নতুনত্বের কারণে শরীর ও মস্তিষ্ক অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে পড়ে। ফলে মস্তিষ্ক খুব দ্রুত ইজাকুলেশনের সংকেত পাঠিয়ে দেয়, আর বীর্যপাত ঘটে নিজের অজান্তেই। নতুন অভিজ্ঞতায় এমন হওয়া স্বাভাবিক এবং সময়ের সাথে সাথে অনেক ক্ষেত্রেই নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়।
অতিরিক্ত উত্তেজনা
১৮–৩০ বয়সে হরমোনের কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। এই অতিরিক্ত যৌন উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে- সহবাসের শুরুতেই উত্তেজনা চূড়ায় পৌঁছে যায়, স্নায়ু দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়, বীর্যপাত তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। উত্তেজনা বেশি হওয়া খারাপ নয়, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ না থাকাই সমস্যা তৈরি করে।
মানসিক প্রস্তুতির অভাব
অনেক ছেলে শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকলেও মানসিকভাবে সহবাসের জন্য প্রস্তুত থাকে না। ফলে সহবাসের সময়— ভয়, অস্বস্তি, অজানা চাপ। এই অনুভূতিগুলো কাজ করে এবং ইজাকুলেশন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হয়।
ভুল ধারণা ও গুজব
সমাজ, বন্ধু মহল বা ইন্টারনেট থেকে পাওয়া ভুল তথ্য তরুণদের মনে অপ্রয়োজনীয় ভয় ঢুকিয়ে দেয়। যেমন, “দীর্ঘ সময় না পারলে আমি ব্যর্থ” “সবসময় পারফেক্ট হতে হবে” “একবার হলে সব শেষ”-এই ভুল ধারণাগুলো মানসিক চাপ বাড়ায়, যা দ্রুত বীর্যপাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
নিজের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করাঃ অনেক তরুণ নিজের অজান্তেই নিজেকে পরীক্ষার মধ্যে ফেলে দেন। “আমাকে প্রমাণ করতেই হবে”- এই চাপ মস্তিষ্ককে অস্বাভাবিকভাবে সক্রিয় করে তোলে। এর ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়, স্নায়ু উত্তেজিত থাকে, ইজাকুলেশন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়। বাস্তবে যৌন সম্পর্ক কোনো প্রতিযোগিতা নয়—এই বিষয়টি বুঝতে পারলেই অনেক সমস্যা অর্ধেক কমে যায়।
গুরুত্বপূর্ণ কথা তরুণদের জন্য
ছেলেদের দ্রুত বীর্যপাত হওয়া খুবই সাধারণ এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাময়িক। সঠিক তথ্য, ধৈর্য, মানসিক প্রস্তুতি এবং কিছু সহজ কৌশল শিখলেই এই সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
সবচেয়ে ভালো দিক হলো— এই বয়সে সমস্যা ধরা পড়লে সমাধানও সবচেয়ে দ্রুত ও কার্যকর হয়।
খুব দ্রুত বীর্যপাত হয় কেন?
অনেক পুরুষের ক্ষেত্রেই এমন পরিস্থিতি দেখা যায়, যেখানে সহবাস শুরু হওয়ার ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিটের মধ্যেই বীর্যপাত হয়ে যায়। প্রথম এক-দুবার হলে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও, যদি এটি নিয়মিত হতে থাকে তাহলে এটিকে আর সাধারণ সমস্যা হিসেবে দেখা যায় না। বিশেষ করে নিচের পরিস্থিতিগুলো যদি বারবার ঘটে—
- সহবাস শুরু করার পরই বা প্রবেশের আগেই বীর্যপাত হয়ে যাওয়া
- বারবার চেষ্টা করলেও সময় বাড়াতে না পারা
- আগের অভিজ্ঞতার ভয় থেকে সহবাস এড়িয়ে চলতে ইচ্ছা করা
- সঙ্গীর সামনে অস্বস্তি, লজ্জা বা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হওয়া
তখন বুঝতে হবে, এটি খুব দ্রুত বীর্যপাত (Severe Premature Ejaculation)–এর পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।
কেন এটিকে অবহেলা করা ঠিক নয়?
খুব দ্রুত বীর্যপাত শুধু শারীরিক সমস্যা নয়—এটি ধীরে ধীরে প্রভাব ফেলে—
- দাম্পত্য সম্পর্কে
- মানসিক স্বাস্থ্যে
- আত্মবিশ্বাসে
- এবং যৌন জীবনের প্রতি আগ্রহে। অনেক পুরুষ এই পর্যায়ে এসে নিজেকে গুটিয়ে নেন, কথা বলা বন্ধ করে দেন, বা সমস্যাকে লুকিয়ে রাখেন—যা দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এই অবস্থায় সমস্যাটিকে চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি, কারণ—
- সঠিক কারণ চিহ্নিত করা যায়
- প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাকৃতিক বা মেডিক্যাল সমাধান নেওয়া সম্ভব
- এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া যায়। খুব দ্রুত বীর্যপাত হলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সময়মতো পদক্ষেপ নিলে, সঠিক তথ্য ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শে এই সমস্যার কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান সম্ভব।
দ্রুত বীর্যপাত থেকে মুক্তির প্রাকৃতিক উপায়
দ্রুত বীর্যপাতের চিকিৎসা মানেই যে ওষুধ; এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই প্রাকৃতিক পদ্ধতি, সঠিক ব্যায়াম ও কিছু আচরণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সমস্যাকে উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
এই প্রাকৃতিক চিকিৎসার অংশ হিসেবেই আসে দ্রুত বীর্যপাত থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়। ঘরোয়া উপায় বলতে এমন কিছু সহজ অভ্যাস, দৈনন্দিন পরিবর্তন ও স্বাভাবিক কৌশল বোঝায়, যেগুলো ঘরে বসেই নিয়মিত চর্চা করা যায় এবং শরীরের উপর কোনো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ফেলে না। বিশেষ করে যাদের সমস্যা মানসিক চাপ, অভ্যাস বা স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত—তাদের জন্য এই প্রাকৃতিক উপায়গুলো খুবই কার্যকর।
১) কেগেল এক্সারসাইজ (Kegel Exercise) 
কেগেল এক্সারসাইজ হলো এমন একটি ব্যায়াম, যা পেলভিক ফ্লোর মাংসপেশি শক্তিশালী করে। এই পেশিগুলোই মূলত প্রস্রাব ও বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত কেগেল এক্সারসাইজ করলে ইজাকুলেশনের উপর নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
কেগেল এক্সারসাইজ কেন কার্যকর? – বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণকারী পেশি শক্তিশালী হয়, স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ উন্নত হয়, সহবাসের সময় সময় ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ে।
কিভাবে করবেন:
- প্রথমে প্রস্রাব আটকে রাখার পেশি চিহ্নিত করুন
- সেই পেশিটি ৫ সেকেন্ড চেপে ধরুন
- এরপর ৫ সেকেন্ড সম্পূর্ণ ছেড়ে দিন
- এভাবে ১০–১৫ বার
- দিনে ৩ সেট করার চেষ্টা করুন
শুরুতে বসে বা শুয়ে করা সহজ। পরে দাঁড়িয়ে করলেও একই ফল পাওয়া যায়। নিয়মিত ৪–৬ সপ্তাহ করলে বেশিরভাগ মানুষই পরিবর্তন টের পান।
২) স্টার্ট–স্টপ টেকনিক (Start–Stop Technique)
স্টার্ট–স্টপ টেকনিক হলো দ্রুত বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণের একটি বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত আচরণগত কৌশল। এটি মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়।
কীভাবে কাজ করে? – যখন বীর্যপাতের আগ মুহূর্ত আসে, তখন শরীর ও মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি উত্তেজিত থাকে। ঠিক এই সময়টায় নিজেকে থামাতে পারলে, ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা তৈরি হয়।
কিভাবে করবেন:
- সহবাস বা হস্তমৈথুনের সময়
- বীর্যপাতের আগ মুহূর্তে থেমে যান
- কয়েকবার গভীর শ্বাস নিন
- উত্তেজনা কমলে আবার শুরু করুন
প্রথমদিকে কয়েকবার থামতে হতে পারে, এটা স্বাভাবিক। নিয়মিত চর্চা করলে মস্তিষ্ক নতুনভাবে প্রশিক্ষিত হয়। এই পদ্ধতি বিশেষ করে খুব দ্রুত বীর্যপাত হয়—এমন পুরুষদের জন্য উপকারী।
৩) শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ
অনেকেই বুঝতে পারেন না যে শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে ইজাকুলেশনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। দ্রুত ও অগভীর শ্বাস নিলে স্নায়ু আরও উত্তেজিত হয়ে পড়ে, ফলে বীর্যপাত তাড়াতাড়ি ঘটে। শ্বাস নিয়ন্ত্রণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?- স্নায়ু শান্ত হয়, হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক থাকে, মস্তিষ্কে উত্তেজনার মাত্রা কমে।
কীভাবে করবেন:
- নাক দিয়ে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন
- ৩–৪ সেকেন্ড ধরে রাখুন
- মুখ দিয়ে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন
- সহবাসের সময় এই প্রক্রিয়ায় মনোযোগ দিন
শ্বাসের উপর ফোকাস রাখলে মন অন্যদিকে থাকে, ফলে ইজাকুলেশন দেরিতে হয়। এটি anxiety কমাতেও দারুণ কার্যকর। এই প্রাকৃতিক উপায়গুলো একদিনে ম্যাজিকের মতো কাজ করে না। তবে নিয়মিত অনুশীলন করলে— নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়ে, আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে, ওষুধের উপর নির্ভরতা কমে। সবচেয়ে বড় কথা, এগুলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ও নিরাপদ।
বীর্য ধরে রাখার উপায়
দ্রুত বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণের একটি বড় অংশই নির্ভর করে সহবাসের সময় আচরণ, মানসিক অবস্থা ও শরীরের সঠিক ব্যবহার–এর ওপর। অনেক সময় কোনো ওষুধ বা জটিল চিকিৎসা ছাড়াই কিছু সহজ কৌশল অনুসরণ করলে বীর্য ধরে রাখার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যায়। নিচে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত কিছু উপায় ব্যাখ্যা করা হলো-
তাড়াহুড়া না করা
সহবাসের সময় তাড়াহুড়া করা দ্রুত বীর্যপাতের অন্যতম বড় কারণ। অনেক পুরুষ অজান্তেই সহবাসকে একটি “টার্গেট” বানিয়ে ফেলেন, যার ফলে উত্তেজনা খুব দ্রুত চূড়ায় পৌঁছে যায়। ধীরে শুরু করুন, নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝতে সময় দিন, মুহূর্তটাকে উপভোগ করুন, শেষ ফল নিয়ে অতিরিক্ত ভাববেন না। তাড়াহুড়া কমাতে পারলেই নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই বাড়ে।
ফোরপ্লে বাড়ানো
ফোরপ্লে বলতে সহবাসের আগে সঙ্গীর সঙ্গে করা আদর-স্পর্শ, নরম কথা, চুমু, আলিঙ্গন ও মানসিক ঘনিষ্ঠতা তৈরির সব আচরণকে বোঝায়—যার মাধ্যমে শরীর ও মন ধীরে ধীরে সহবাসের জন্য প্রস্তুত হয় ফোরপ্লে শুধু সঙ্গীর জন্য নয়, নিজের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ফোরপ্লে করলে সহবাসের সময় সরাসরি চাপ কমে যায় এবং উত্তেজনা ধীরে ধীরে বাড়ে। ফোরপ্লে বাড়ালেউত্তেজনার ভারসাম্য তৈরি হয়, হঠাৎ বীর্যপাতের ঝুঁকি কমে, দুজনেরই সন্তুষ্টি বাড়ে. এতে সহবাসের মূল অংশে সময় ধরে রাখা সহজ হয়।
পজিশন পরিবর্তন
একই পজিশনে দীর্ঘ সময় থাকলে লিঙ্গে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে পারে। তাই সহবাসের সময় পজিশন পরিবর্তন করা একটি কার্যকর কৌশল। পজিশন পরিবর্তনের সময়- উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমে, স্নায়ু নতুনভাবে অ্যাডজাস্ট করে, বীর্যপাত দেরি হয়। বিশেষ করে যেসব পজিশনে উত্তেজনা বেশি হয়, সেগুলো এড়িয়ে চলা বা মাঝেমধ্যে বিরতি নেওয়া ভালো।
শ্বাস নিয়ন্ত্রণ
সহবাসের সময় শ্বাস-প্রশ্বাস যদি দ্রুত ও অগভীর হয়, তাহলে শরীর আরও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এর ফলে বীর্যপাত তাড়াতাড়ি হয়ে যেতে পারে।
বীর্য ধরে রাখতে কী করবেন?
নাক দিয়ে ধীরে গভীর শ্বাস নিন, শ্বাস ছাড়ার সময় মন শান্ত রাখুন, উত্তেজনার মুহূর্তে শ্বাসের দিকে মনোযোগ দিন। শ্বাস নিয়ন্ত্রণ করলে স্নায়ু শান্ত থাকে এবং ইজাকুলেশন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
মানসিক ফোকাস অন্যদিকে নেওয়া
সহবাসের সময় পুরো মন যদি শুধু উত্তেজনার দিকেই থাকে, তাহলে বীর্যপাত দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই মাঝে মাঝে মানসিক ফোকাস হালকা অন্যদিকে নেওয়া কাজে দেয়। যেমনঃ নিজের শ্বাসের দিকে মন দেওয়া, শরীরের অন্য অনুভূতিগুলো খেয়াল করা, মুহূর্তটাকে চাপমুক্তভাবে উপভোগ করা। তবে অতিরিক্ত চিন্তা বা স্ট্রেস তৈরি করে এমন কিছু ভাবা ঠিক নয়। লক্ষ্য থাকবে মনকে শান্ত রাখা।
বীর্য ধরে রাখার এই উপায়গুলো কোনো ম্যাজিক নয়, কিন্তু নিয়মিত চর্চা করলে নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ে, আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে, সহবাসের মান উন্নত হয়। এই কৌশলগুলো নিরাপদ, প্রাকৃতিক এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন।
কি খেলে দ্রুত বীর্যপাত হবে না?
খাবার এখানে শুধু পেট ভরানোর বিষয় নয়- সঠিক খাবার অনেক সময় প্রাকৃতিক মেডিসিনের মতো কাজ করে। কারণ যৌন নিয়ন্ত্রণ, স্নায়ুর কার্যকারিতা ও হরমোনের ভারসাম্যের সঙ্গে আমাদের প্রতিদিনের খাবারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। যেসব খাবার নিয়মিত খেলে স্নায়ু শক্তিশালী হয়, উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শরীর ধীরে প্রতিক্রিয়া দিতে শেখে সেগুলো দ্রুত বীর্যপাতের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
উপকারী খাবারসমূহ
- ডিম – প্রোটিন ও ভিটামিন B সমৃদ্ধ, যা স্নায়ু ও হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে
- কলা – ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে
- দুধ – শরীর শান্ত রাখতে ও শক্তি বাড়াতে সহায়ক
- খেজুর – প্রাকৃতিক শক্তিবর্ধক, দীর্ঘদিন ধরে যৌন স্বাস্থ্যে ব্যবহৃত
- বাদাম (কাঠবাদাম, আখরোট) – স্নায়ু শক্তিশালী করে ও রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে
- মধু – প্রাকৃতিক এনার্জি বুস্টার, সহবাসের আগে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে
- পালং শাক – আয়রন ও ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ, স্নায়বিক দুর্বলতা কমায়
- সামুদ্রিক মাছ – ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড স্নায়ু ও হরমোনের জন্য খুব উপকারী
এই খাবারগুলো মূলত জিঙ্ক, ম্যাগনেশিয়াম, প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় ভিটামিনে সমৃদ্ধ, যা দ্রুত বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
কি খেলে বীর্য বাড়ে?
বীর্যের পরিমাণ ও গুণগত মান বাড়াতে হলে শরীরকে ভেতর থেকে পুষ্ট করতে হয়। শুধু একটি খাবার নয়, বরং সুষম খাদ্যাভ্যাসই এখানে মূল চাবিকাঠি।
উপকারী পুষ্টি উপাদান
- প্রোটিন জাতীয় খাবার – ডিম, মাছ, দুধ, ডাল
- জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার – বাদাম, বীজ, সামুদ্রিক মাছ
- ভিটামিন E ও D – হরমোন ব্যালান্স ও প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
- পর্যাপ্ত পানি – শরীর ও বীর্য উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে অপরিহার্য
এসব খাবার নিয়মিত খেলে বীর্যের পরিমাণের পাশাপাশি শক্তি ও সহনশীলতাও বাড়ে।
দ্রুত বীর্য বৃদ্ধির উপায়
খাবারের পাশাপাশি জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস বীর্য বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। শুধু খাওয়াই নয়, শরীরকে সেই খাবার কাজে লাগানোর সুযোগ দিতে হয়।
কার্যকর উপায়গুলো
- নিয়মিত ব্যায়াম – রক্ত সঞ্চালন ও হরমোন কার্যক্রম উন্নত করে
- পর্যাপ্ত ঘুম – টেস্টোস্টেরন ও বীর্য উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত জরুরি
- মানসিক চাপ কমানো – অতিরিক্ত স্ট্রেস বীর্য উৎপাদন কমিয়ে দেয়
- পর্ন ও অতিরিক্ত হস্তমৈথুন বন্ধ করা – স্নায়ু ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা রক্ষা করে। এই অভ্যাসগুলো একসাথে অনুসরণ করলে বীর্য বৃদ্ধির ফল সবচেয়ে ভালো পাওয়া যায়।
সহবাসের সময় বীর্য বের না হওয়ার কারণ
কিছু ক্ষেত্রে উল্টো সমস্যাও দেখা যায়- যেখানে সহবাসের সময় বীর্যপাত একেবারেই হয় না বা খুব দেরিতে হয়। এটি অবহেলা করার মতো বিষয় নয়।
সম্ভাব্য কারণ
- স্নায়ু দুর্বলতা
- ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ু ক্ষতি
- কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (বিশেষ করে antidepressant)
- হরমোনের ভারসাম্যহীনতা। এই সমস্যা নিয়মিত হলে বা হঠাৎ শুরু হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক কারণ।
দ্রুত বীর্যপাতের আধুনিক চিকিৎসা
দ্রুত বীর্যপাতের চিকিৎসা একেকজনের ক্ষেত্রে একেকরকম হতে পারে। কারণ এই সমস্যার পেছনে মানসিক, শারীরিক ও জীবনযাপনজনিত কারণ একসাথে কাজ করে। তাই চিকিৎসাও হতে হবে ব্যক্তিভেদে আলাদা এবং পরিকল্পিত। অনেক ক্ষেত্রেই প্রাকৃতিক উপায় ও আচরণগত পরিবর্তনেই ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যখন সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে বা দৈনন্দিন ও দাম্পত্য জীবনে গুরুতর প্রভাব ফেলে—তখন ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে ঔষধ নির্ভর চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
আকুপাংচার ও থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা
বর্তমানে ওষুধের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে আকুপাংচার ও সাপোর্টিভ থেরাপি দ্রুত বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে শরীরের নির্দিষ্ট স্নায়ু ও প্রেসার পয়েন্টে কাজ করা হয়, যার ফলে-
- স্নায়বিক উত্তেজনা ধীরে ধীরে কমে
- মানসিক চাপ ও anxiety নিয়ন্ত্রণে আসে
- শরীরের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা উন্নত হয়
এই ধরনের আকুপাংচার ও থেরাপি-ভিত্তিক চিকিৎসা বাংলাদেশে শশী হাসপাতাল-এ অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে প্রদান করা হয়, যেখানে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়। অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ওষুধের পাশাপাশি এই থেরাপিগুলো যুক্ত করলে দীর্ঘস্থায়ী ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত ফল পাওয়া সম্ভব।
জেনে নিনঃ ইরেক্টাইল ডিসফাংশন (Erectile dysfunction) বা উত্থান জনিত সমস্যা প্রতিরোধে আকুপাংচার চিকিৎসা
কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চিকিৎসক রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, মানসিক চাপের মাত্রা এবং সমস্যার গভীরতা বিবেচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ দিতে পারেন। এই ধরনের চিকিৎসার উদ্দেশ্য হলো-ইজাকুলেশন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করা, স্নায়ুর অতিরিক্ত উত্তেজনা কমানো, মানসিক চাপ ও পারফরম্যান্স anxiety নিয়ন্ত্রণ করা। বাংলাদেশে বর্তমানে শশী হাসপাতাল-এ এই ধরনের সমস্যার জন্য অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আধুনিক ও নিরাপদ চিকিৎসা দেওয়া হয়, যেখানে রোগীর অবস্থা বুঝে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি নির্বাচন করা হয়। তবে এখানে একটি বিষয় খুব পরিষ্কারভাবে বলা জরুরি—
নিজে নিজে কোনো ওষুধ খাওয়া বিপজ্জনক। কারণ-
- সব ওষুধ সবার শরীরে একইভাবে কাজ করে না
- ভুল ওষুধ বা ভুল মাত্রা সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে
- কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি বা মানসিক অস্বস্তি দেখা দিতে পারে
- দীর্ঘদিন নিজে নিজে ওষুধ খেলে শরীর ও স্নায়ু ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যেতে পারে
বিশেষ করে ইন্টারনেট বা পরিচিত কারো পরামর্শে ওষুধ খাওয়া অনেক সময় স্বল্পমেয়াদে উপকার মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দ্রুত বীর্যপাতের জন্য যদি ঔষধ প্রয়োজন হয়, তাহলে অবশ্যই-
- অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে
- প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে
- এবং চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ওষুধ ব্যবহার করতে হবে।
এই ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা শশী হাসপাতালে রোগীর গোপনীয়তা ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রেখে প্রদান করা হয়, যাতে রোগী নিশ্চিন্তভাবে চিকিৎসা নিতে পারেন।
ইজালং ৬০ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ইজালং ৬০ হলো ড্যাপোক্সেটিন হাইড্রোক্লোরাইড ৬০ মি.গ্রা. সমন্বিত একটি ওষুধ, যা মূলত দ্রুত বীর্যপাত (Premature Ejaculation) সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি স্নায়ু ও মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে কাজ করে এবং শুধুমাত্র ডাক্তারের পরামর্শে সেবন করা উচিত।
দ্রুত বীর্যপাতের সমস্যায় ভুগে অনেক পুরুষই আশপাশের মানুষের কথা শুনে বা ইন্টারনেটের তথ্য দেখে নিজে নিজে ইজালং ৬০-এর মতো ওষুধ খাওয়া শুরু করেন। কিন্তু না জেনে, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের ওষুধ গ্রহণ করলে উপকারের চেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি থাকে।
ইজালং ৬০ মূলত স্নায়ু ও মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব ফেলে কাজ করে। ফলে এটি সবার শরীরে একরকমভাবে কাজ নাও করতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে সাময়িক উপকার মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো হলো—
- মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা: ওষুধের প্রভাবে রক্তচাপ বা স্নায়ুর স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হলে মাথা ঘোরা, ক্লান্তি বা শরীর ঝিমুনি অনুভূত হতে পারে।
- যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া: অনেক ক্ষেত্রে বীর্যপাত দেরি হলেও যৌন আগ্রহ বা উত্তেজনা কমে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে দাম্পত্য জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- হৃদস্পন্দন সমস্যা: কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বুক ধড়ফড় করা, অস্বাভাবিক হার্টবিট বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে, বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে।
- মানসিক অবসাদ বা অস্থিরতা: দীর্ঘদিন এই ধরনের ওষুধ সেবনে মন খারাপ থাকা, উদ্বেগ, বিরক্তি বা হালকা ডিপ্রেশনের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো সবাই আগে থেকে বুঝতে পারেন না, অনেক সময় ধীরে ধীরে সমস্যা তৈরি হয়।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
দ্রুত বীর্যপাতের সমস্যা শুরু হলে অনেক সময় কিছু প্রাকৃতিক উপায়েই উন্নতি দেখা যায়। তবে নিচের পরিস্থিতিগুলো দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত—
- ৬ মাসের বেশি সমস্যা থাকলে: নিয়মিত চেষ্টা করার পরও যদি দীর্ঘ সময় ধরে দ্রুত বীর্যপাতের সমস্যা থেকে যায়, তাহলে এর পেছনে শারীরিক বা স্নায়বিক কারণ থাকতে পারে।
- মানসিক চাপ বাড়লে: এই সমস্যা যদি আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়, ভয় বা দুশ্চিন্তা বাড়ায়, কিংবা মানসিক শান্তি নষ্ট করে তাহলে সেটি চিকিৎসা নেওয়ার স্পষ্ট সংকেত।
- সহবাসে সম্পূর্ণ ব্যর্থতা এলে: বারবার ব্যর্থতার কারণে সহবাস এড়িয়ে চলা, আগ্রহ কমে যাওয়া বা সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলে অবশ্যই ডাক্তারের সাহায্য প্রয়োজন।
সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে দ্রুত বীর্যপাতের সমস্যার নিরাপদ ও কার্যকর সমাধান পাওয়া সম্ভব।
কেন ডাক্তারের পরামর্শ জরুরি?
দ্রুত বীর্যপাতের চিকিৎসায় ওষুধ লাগবে কি না, লাগলেও কোন ওষুধ, কতদিন ও কী মাত্রায়- এই সিদ্ধান্ত শুধু অভিজ্ঞ চিকিৎসকই সঠিকভাবে নিতে পারেন। বাংলাদেশে বর্তমানে শশী হাসপাতাল-এ দ্রুত বীর্যপাতসহ বিভিন্ন যৌন সমস্যার চিকিৎসা রোগীর অবস্থা বুঝে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এবং সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে করা হয়। এখানে লক্ষ্য থাকে শুধু সাময়িক উপসর্গ কমানো নয়, বরং সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান দেওয়া।
উপসংহার
দ্রুত বীর্যপাত কোনো লজ্জার বিষয় নয়- এটি একটি সাধারণ, পরিচিত এবং সম্পূর্ণ চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা। অনেক পুরুষই জীবনের কোনো না কোনো সময় এই অবস্থার মধ্য দিয়ে যান, কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাবে অযথা ভয় বা দ্বিধায় ভোগেন। বাস্তবতা হলো, সঠিক কারণ চিহ্নিত করা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, প্রাকৃতিক কৌশল এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সহায়তা নিলে এই সমস্যার কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান সম্ভব। সময়মতো পদক্ষেপ নিলে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে এবং দাম্পত্য জীবনও স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- নিজের সমস্যাকে অস্বীকার না করে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। তাহলেই সুস্থ, স্বাভাবিক ও আত্মবিশ্বাসী জীবন ফিরে পাওয়া সম্ভব।