কোমর ব্যথার, কোমর ব্যথা কেন হয়, কোমরের ব্যথা কমানোর উপায় ব্যায়াম, কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ, গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা হয় কেন, মাজা ব্যথা

কোমর ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায়

অসংখ্য রোগীর কেবলমাত্র একটিই অভিযোগ- মাজা ব্যথা বা কোমর ব্যথা।  পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি মানুষই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে এই যন্ত্রণার মুখোমুখি হন। এর পেছনে দায়ী- আধুনিক জীবনে দীর্ঘক্ষণ ডেস্কে বসে কাজ করা, ভুল ভঙ্গিতে শোয়া কিংবা হঠাৎ ভারী কোনো বস্তু তোলার মতো ছোটখাটো ভুলগুলোই অনেক সময় কোমর ব্যথা (Low Back Pain)-কে দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র করে তোলে। আসলে এই সমস্যা শুধু শারীরিক অস্বস্তিই বাড়ায় না, বরং আপনার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা, হাঁটাচলা এবং রাতের শান্তির ঘুমকেও কেড়ে নেয়।

কোমর ব্যথার চিকিৎসায় আমরা অনেকেই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সেরা ব্যথানাশক ওষুধ (Pain Killer) খেয়ে থাকি যা আমাদের সাময়িক উপকারে আসলেও দীর্ঘমেয়াদী সুফলের জন্য প্রয়োজন জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং সুশৃঙ্খল নিয়ম মেনে চলা।  প্রাথমিক অবস্থায় যদি কোমর ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায়গুলো অনুসরণ করলে এবংসঠিক নিয়মে কিছু স্ট্রেচিং বা ব্যায়াম করা শুরু হয়, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপারেশন ছাড়াই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আজকের এই ব্লগে আমরা জানতে পারবো- কোমর ব্যথার কারণ, কি খেলে কোমর ব্যথা কমে, এবং  কোমর ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে।

কোমর ব্যথা আজকাল শুধুমাত্র বয়স্কদের ক্ষেত্রে নয়; অল্প বয়সীদের মধ্যেও মাজা ব্যাথার সমস্যাটি দৃশ্যমান। অনেক সময় ব্যথা কোমর থেকে শুরু হলেও ধীরে ধীরে সেটি পায়ের দিকে নেমে যায় যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় সায়াটিকা বলা হয়। চলুন জেনে নিই- কোমর ব্যথার কারণসমূহ সম্পর্কে-

1. ভুল ভঙ্গিতে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা (Poor Posture): কম্পিউটার, মোবাইল বা অফিস ডেস্কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা স্পাইনের স্বাভাবিক অ্যালাইনমেন্ট নষ্ট করে। ফলে কোমরের মাংসপেশি ও লিগামেন্টে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা কোমর ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ।

2. মাংসপেশি বা লিগামেন্টে টান ধরা (Muscle Strain / Sprain): হঠাৎ ভারী কিছু তোলা, দ্রুত নড়া–চড়া, বা ব্যায়ামের ভুল টেকনিক ব্যবহার করলে কোমরের মাংসপেশিতে স্ট্রেন তৈরি হয়। এতে ব্যথা, শক্তভাব ও চলাচলে অস্বস্তি দেখা দেয়।

3. ডিস্ক সমস্যার কারণে নার্ভে চাপ (Slip Disc / Herniation): লম্বার স্পাইনের ডিস্ক যদি স্থানচ্যুত হয়ে নার্ভে চাপ দেয়, তাহলে তীব্র ব্যথা, ঝিনঝিনি, বা পা অব্দি ব্যথা এসব লক্ষণ দেখা যায়। এটি সায়াটিকার অন্যতম প্রধান কারণ।

4. সায়াটিকা নার্ভে Irritation বা Compression: সায়াটিক নার্ভে চাপ তৈরি হলে কোমর থেকে নিতম্ব হয়ে পুরো পা পর্যন্ত ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে। বসা, দাঁড়ানো বা হাঁটার সময় ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে।

5. আর্থ্রাইটিস বা স্পাইনাল ক্ষয় (Arthritis / Spondylosis): বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্পাইনের জয়েন্টে ক্ষয় শুরু হয়, ডিস্ক পাতলা হয় এবং জয়েন্ট শক্ত হয়ে যায়। এর ফলে chronic low back pain দেখা দেয়, যা সকালে বেশি অনুভূত হয়।

6. অতিরিক্ত ওজন ও দুর্বল Core Muscles: অতিরিক্ত ওজন মেরুদণ্ডের ওপর সরাসরি লোড বাড়ায় এবং একই সঙ্গে দুর্বল কোর মাংসপেশি থাকলে কোমর পর্যাপ্ত সাপোর্ট পায় না; যার ফলে কোমর ব্যাথা আরও তীব্র হয়ে উঠে।

7. মানসিক চাপ ও ঘুমের সমস্যা: দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ মাংসপেশি টাইট করে দেয় এবং ঘুম কম হলে ব্যথা রিকভারি ধীর হয়ে যায়, ফলে chronic pain বেড়ে যেতে পারে।

মাজা ব্যথা বা কোমর ব্যথা যে কারণেই হোক না কেন, সঠিক চিকিৎসা করলে দ্রুত এই ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কোমর ব্যাথা নিরাময়ে শশী হাসপাতাল (আকুপাংচার) বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান (The Best Hospital For Low Back Pain Treatment)। বাংলাদেশের অন্যতম সেরা আকুপাংচার চিকিৎসক ডা. এস. এম. শহীদুল ইসলাম পিএইচ, ডি, পিপিএম দীর্ঘদিন ধরে কোন প্রকার ঔষধ ও অপারেশন ছাড়াই কোমর ব্যথার চিকিৎসা প্রদান করে আসছেন।  জেনে নিনঃ অপারেশন ছাড়া কোমর ব্যথার দূর করার সহজতর উপায়ঃ Electro Physiotherapy.

কোমর ব্যথার চিকিৎসা নিয়ে আমাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করে। কেননা, অনেকেই মনে করেন, কোমরের সমস্যা মানেই বোধহয় অপারেশন করতে হবে। আসলে অপারেশন ছাড়াও কোমরের ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে কোমর ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায়ে কিছু চিকিৎসা রয়েছে যেগুলো নিয়মিত ব্যবহার করলে অনেকটাই ভালো থাকা সম্ভব। নিম্নে সেই ঘরোয়া চিকিৎসার বিষয়গুলো প্রদান করা হলঃ   

১. গরম পানি ও বরফের সেঁক দেওয়া 

২. নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা

৩. ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম জাতীয় খাদ্য বেশি গ্রহণ করা 

৪. আদা, হলুদ, মেথি ইত্যাদি খাবার নিয়মিত খাওয়া 

৫. নিয়ম করে হাঁটাচলা করা

উপরোক্ত ঘরোয়া উপায়গুলো মেনে চললে কোমর ব্যথা থেকে অনেক ক্ষেত্রেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আরও বিস্তারিত জানুনঃ কোমর ব্যথা কমানোর দ্রুত উপায়

Close up of man rubbing his painful back isolated on white background.

স্থায়ীভাবে কোমর ব্যথা নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেক গুলো বিধিনিষেধ মেনে চলা জরুরী। এই ব্যথা মূলত আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্মের সাথে বেড়ে থাকে। তাই সেসব কাজ থেকে বিরত রাখতে হবে যেগুলো করলে এ ব্যথা বেড়ে যায়। চলুন জেনে নিই সেই সকল বাধানিষেধ সমূহ সম্পর্কে-

  • ভারি কিছু বহন করা যাবে না
  • শরীরের ওজন বাড়ানো যাবে না
  • একভাবে দীর্ঘ সময়বসে থাকা যাবে না
  • নরম বিছানা ব্যবহার করা যাবে না
  • অনিয়মিত খাবার খাওয়া যাবে না, ইত্যাদি।

উপরোক্ত বিধি নিষেধ গুলো মেনে চললে কোমর ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সেই সাথে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম ও আধুনিক কোমর ব্যথার চিকিৎসা দিয়ে আসছেন ডা. এস. এম. শহিদুল ইসলাম। তার তত্বাবধানে আকুপাংচার ও কম্বিনেশন চিকিৎসার মাধ্যমে কোমর ব্যথা থেকে মুক্তি পেয়েছেন দেশ-বিদেশের অসংখ্য রোগী।  

বিস্তারিত জানুনঃ কোমর ব্যথা কেন হয়? জেনে নিন সম্পূর্ণ ঔষধবিহীন পদ্ধতিতে কোমর ব্যথার দূর করার উপায়

কোমর ব্যাথা নিয়ন্ত্রণে ঘরোয়া উপায়গুলি সহায়ক মাত্র । তবে এগুলোই শেষ চিকিৎসা নয়, ব্যথা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, পায়ে ছড়িয়ে যায়, অসাড়তা বা দুর্বলতা অনুভূত হয় তাহলে ঘরোয়া উপায়ের পাশাপাশি একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। 

ঔষধ ও অপারেশন বিহীন কোমর ব্যথার চিকিৎসায় আকুপাংচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের অন্যতম আকুপাংচার বিশেষজ্ঞ ডা. এস. এম. শহীদুল ইসলাম দীর্ঘদিন কোমর ব্যথার চিকিৎসা করে আসছেন। দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতায় আকুপাংচার চিকিৎসা হতে পারে আপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ্য।