অপারেশন পরবর্তী খিচুনি বলতে কোন অপারেশন করার পরবর্তী সময়ে এক ধরনের খিঁচুনির সৃষ্টি হয় যা খুবই কষ্টকর। বিশেষ করে মায়েদের সিজারের পর খিঁচুনি হয়ে থাকে। এটি একটি বিপদজনক সমস্যা।অপারেশনের পর অনেকেই দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা ব্যথা অনুভব করেন কিন্ত হঠাৎ খিঁচুনি দেখা দিলে এটি রোগী ও পরিবারের জন্য ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। অপারেশন-পরবর্তী খিঁচুনি সাধারণত শরীরের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক পরিবর্তন, অ্যানেস্থেশিয়া ওষুধের প্রতিক্রিয়া, অথবা পূর্বে অজানা স্নায়ুজনিত সমস্যার কারণে দেখা দিতে পারে। তাই এই খিঁচুনি কেন হয়, কোন লক্ষণগুলো বিপদের সংকেত দেয় এবং কীভাবে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে, এসব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো কারণ নির্ণয় করতে পারলে অপারেশনের পর খিঁচুনি সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকিও কমে যায়। এজন্য রোগীর পূর্ণ মেডিকেল ইতিহাস, সার্জারির ধরণ, ব্যবহৃত ওষুধ এবং ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালান্স মূল্যায়ন করা অপরিহার্য। চলুন জেনে নেই সিজারের পর খিঁচুনি কেন হয়, এর কারণ ও লক্ষণসমুহ।
আকুপাংচার এর মাধ্যমে কোন প্রকার ঔষধের ব্যবহার ছাড়া সিজারের পর খিঁচুনির চিকিৎসা করা হয়। আকুপাংচার একটি চীনা চিকিৎসা পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে কোন ঔষধের ব্যবহার করা হয় না। বাংলাদেশের সুনামধন্য আকুপাংচার চিকিৎসক ডা. এস. এম. শহীদুল ইসলাম এই রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে এখনো পর্যন্ত অসংখ্য রোগী সুস্থ্য হয়েছেন।
অপারেশন পরবর্তী খিঁচুনি কি? (Postoperative convalescence)
অপারেশনের পর অচেতনতা থেকে জাগ্রত হওয়ার সময় বা সার্জারি সম্পন্ন হওয়ার কয়েক ঘণ্টা/দিনের মধ্যে যদি শরীরে হঠাৎ অনিয়ন্ত্রিত পেশি সংকোচন, কাঁপুনি বা অস্বাভাবিক স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তাকে অপারেশন-পরবর্তী খিঁচুনি বলা হয়। এটি সাধারণ খিঁচুনি থেকে আলাদা, কারণ এর পেছনে থাকে সার্জারি-সম্পর্কিত নানা কারণ থাকে। যেমনঃ অ্যানেস্থেশিয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, মস্তিষ্ক বা স্নায়ুতন্ত্রে চাপ, ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা কিংবা অন্যান্য পোস্ট-অপারেটিভ জটিলতা। সময়মতো কারণ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসা শুরু করা গেলে এ ধরনের খিঁচুনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ করা সম্ভব।
স্বাভাবিক বনাম জটিল ধরনের খিঁচুনি
স্বাভাবিক বা মৃদু খিঁচুনি:
এগুলো সাধারণত কয়েক সেকেন্ড বা ১–২ মিনিট স্থায়ী হয় এবং রোগী দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
- শরীরে হালকা ঝাঁকুনি
- চেতনা কিছুটা ধোঁয়াটে লাগা
- সাময়িক দুর্বলতা
এগুলো অনেক সময় অ্যানেস্থেশিয়ার প্রভাব, ঘুমের অভাব কিংবা ইলেক্ট্রোলাইট কমে যাওয়ার কারণে হয়।
জটিল বা গুরুতর খিঁচুনি:
এগুলো বেশি সময় স্থায়ী হয় এবং তাৎক্ষণিক মেডিকেল সাপোর্ট ছাড়া বিপজ্জনক হতে পারে। যেমন:
- ৫ মিনিটের বেশি চলমান খিঁচুনি
- বারবার খিঁচুনি আসা (শরীর পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ার আগেই)
- সম্পূর্ণ অচেতন হয়ে পড়া
- শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া বা নীলাভ হয়ে যাওয়া
- স্নায়বিক দুর্বলতা (হাত–পা নড়াতে না পারা)
এই ধরণের লখণসমূহ দেখা দিলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া জরুরী।
‘ মা ’ দের ক্ষেত্রে সিজারের পর খিঁচুনির কিছু জটিলতা দেখা যায়
সিজারের পর মায়েদের বেশ কিছু জটিলতা দেখা দেয় শরীরে। যা কিনা খুবই অসহ্যকর ও বেদনাদায়ক। এমন কিছু বিষয় নিচে দেওয়া হল:
- স্থুলতা
- একাধিক সন্তান থাকা
- কিছু ওষুধের প্রতি প্রতিক্রিয়া
- গর্ভকালীন সময়ে রক্তের অভাব
- প্রি-ম্যাচিউর প্রসব বেদনা
- ডায়াবেটিস
আকুপাংচার চিকিৎসার মাধ্যমে সিজারের পর খিঁচুনির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। বাংলাদেশের শশী হাসপাতালে আকুপাংচার চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ্য হয়েছেন অনেক রোগী। এখানে দেশের স্বনামধন্য আকুপাংচার চিকিৎসক ডা. এস. এম. শহীদুল ইসলাম তার দীর্ঘদিনের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সুস্থ্য করেছেন দেশ ও বিদেশের অনেক রোগীকে। বর্তমানে শুধুমাত্র চিকিৎসা নেওয়ার জন্য দেশের বাহিরে থেকে রোগীরা বাংলাদেশে আসে। আকুপাংচার চিকিৎসায় সুস্থ্য ব্যক্তিদের অভিব্যক্তি জানুন।
অপারেশন পরবর্তী খিঁচুনির লক্ষণগুলো কী হতে পারে?
অপারেশনের পর কোনো রোগীর মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হলে খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। এর লক্ষণগুলো সাধারণত হঠাৎ শুরু হয় এবং দ্রুত রোগীর শারীরিক ও স্নায়বিক পরিবর্তন বোঝা যায়। নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো খিঁচুনির সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হয়:
১. হঠাৎ চেতনা হারানো বা অচেতন হয়ে পড়া: রোগী আচমকা সাড়া না দেওয়া, চোখ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা পরিস্থিতি বুঝে কথা না বলা, এগুলো খিঁচুনির প্রাথমিক সতর্কবার্তা হতে পারে।
২. হাত–পা বা শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া: শরীরের পেশিগুলো হঠাৎ টান টান হয়ে যেতে পারে, যেন রোগী নিজের শরীর নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না।
৩. শরীরে কাঁপুনি বা অনিয়মিত ঝাঁকুনি (Jerking):হাত, পা বা পুরো শরীর অনিয়ন্ত্রিতভাবে কেঁপে ওঠা, খিঁচুনির অন্যতম স্পষ্ট লক্ষণ।
৪. চোখের অস্বাভাবিক নড়াচড়া বা চোখ উল্টে যাওয়া: চোখ ওপরের দিকে উঠে যাওয়া, পাশের দিকে ঘুরে থাকা অথবা দ্রুত নড়াচড়া হওয়া পোস্ট-অপারেটিভ সিজারের ক্লাসিক সাইন।
৫. শ্বাস-প্রশ্বাস ধীর হয়ে যাওয়া বা অনিয়মিত হওয়া: খিঁচুনির সময় শ্বাস আটকে আসা, খুব দ্রুত বা খুব ধীরে শ্বাস নেওয়া দেখা দিতে পারে।
৬. বিভ্রান্তি, দিকভ্রান্ত আচরণ বা অস্বাভাবিক নীরবতা: রোগী খিঁচুনির আগে বা পরে হঠাৎ স্বাভাবিক আচরণ হারিয়ে ফেলতে পারেন, কথা বুঝতে না পারা, অসংলগ্ন আচরণ বা অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব ইত্যাদি দেখা যায়।
৭. কথা অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া বা বাকশক্তি সাময়িকভাবে হারানো: মস্তিষ্কের স্নায়ু সংকেত ব্যাহত হলে রোগী ঠিকভাবে কথা বলতে পারেন না।
৮. বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা বা প্রচণ্ড দুর্বলতা: এগুলো সাধারণত খিঁচুনির আগে বা পরে অনুভূত হয়, যাকে মেডিকেল ভাষায় postictal symptoms বলা হয়।
অপারেশনের পর যদি এসব লক্ষণের যেকোনোটি দেখা যায়, তাহলে এটি খিঁচুনির সূচক হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসককে জানানো জরুরি। সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে জটিলতা কমানো সম্ভব।
অপারেশন পরবর্তী খিঁচুনি কেন হয়? (Root Causes)
অপারেশনের পর কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক পরিবর্তন ও জটিলতার কারণে সাধারণত খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। সার্জারির সময় ব্যবহৃত অ্যানেস্থেশিয়া, শরীরের রাসায়নিক ভারসাম্য, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় থাকে। এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সামান্য পরিবর্তন মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে খিঁচুনি দেখা দেয়। নিম্নে খিঁচুনির কারণগুলো তুলে ধরা হলো:
১. অ্যানেস্থেশিয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
অপারেশনের সময় ব্যবহৃত অ্যানেস্থেশিয়া সাধারণত নিরাপদ, তবে কিছু রোগীর শরীরে এটি ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। শরীরের ওজন, বয়স, লিভারের কার্যকারিতা ও জেনেটিক ফ্যাক্টরের কারণে অ্যানেস্থেশিয়ার প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে:
- শ্বাসপ্রশ্বাস সাময়িকভাবে কমে যাওয়া
- রক্তে গ্যাসের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। যা খিঁচুনির ট্রিগার হিসেবে কাজ করতে পারে।
২. ইলেক্ট্রোলাইটের অসমতা (Electrolyte Imbalance)
ইলেক্ট্রোলাইট শরীরের স্নায়ু-সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপারেশনের পরে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম এসব খনিজ উপাদান হঠাৎ কমে গেলে মস্তিষ্কে নিউরনগুলোর অতিরিক্ত উত্তেজনা (hyperexcitability) তৈরি হয়, যা খিঁচুনির প্রধান কারণগুলোর একটি যায়। অনেক সময়:
- অপারেশনের সময় বা পরে বেশি স্যালাইন বা IV fluid দিলে
- বমি বা ঘামের কারণে লবণ কমে যাওয়া। এই দুই অবস্থায় সোডিয়াম হঠাৎ কমে গিয়ে খিঁচুনি হতে পারে। এটি postoperative খিঁচুনির অন্যতম সাধারণ কারণ।
৩. রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি বা CO₂ বেড়ে যাওয়া
অপারেশনের সময় শ্বাসপ্রশ্বাস মেশিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। কোনো কারণে যদি শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছায় বা CO₂ জমে যায়, তখন মস্তিষ্ক চাপের মধ্যে পড়ে এবং খিঁচুনি শুরু হতে পারে। বিশেষত যাদের:
- COPD অথবা Sleep apnea
- Asthma আছে, তাদের postoperative respiratory complication বেশি হয়, ফলে খিঁচুনির সম্ভাবনাও তুলনামূলক বেশি থাকে।
৪. ইনফেকশন বা জ্বর
অপারেশনের পর wound infection বা শরীরে জ্বর হলে অনেক রোগীর স্নায়ুতন্ত্র সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে উচ্চ জ্বর খিঁচুনির অন্যতম লক্ষণ হত পারে।
যদি সংক্রমণ গুরুতর হয়ে সেপসিসে রূপ নেয়, তাহলে শরীরের অক্সিজেন সরবরাহ কমে গিয়ে অবস্থাটি আরও জটিল হতে পারে।
৫. পূর্ববর্তী স্নায়ুজনিত রোগ
যাদের এপিলেপসি, ব্রেইনের কোনো রোগ কিংবা স্ট্রোকের ইতিহাস রয়েছে, তাদের postoperative seizures দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। সুতরাং, অপারেশন পূর্ববর্তী সময়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে এসকল বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা জরুরী। অপারেশনের স্ট্রেস, ঘুমের ঘাটতি বা ঔষধ গ্রহণ বর্জন কজ এসব বিষয় খিঁচুনি হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে।
৬. রক্তে সুগারের হঠাৎ ওঠানামা
অপারেশনের আগে বা পরে রক্তে সুগার খুব কমে যাওয়া (Hypoglycemia) বা খুব বেড়ে যাওয়া (Hyperglycemia) মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক সংকেত তৈরি হতে পারে। বিশেষত ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে:
- ইনসুলিন ডোজ পরিবর্তন
- অপারেশনের স্ট্রেস। এসব কারণে সুগার দ্রুত ওঠানামা করে, যা খিঁচুনির কারণ হতে পারে।
অপারেশনের পর যদি খিঁচুনি দেখা দেয়, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। খিঁচুনির মূল কারণ সনাক্তকরণের মাধ্যমে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার যথাযথ চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারেন এবং রোগীর দ্রুত সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
অপারেশন-পরবর্তী খিঁচুনি কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
অপারেশনের পর খিঁচুনি দেখা দিলে সঠিকভাবে কারণ নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। ডাক্তাররা সাধারণত কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে নির্ণয় করেন:
১. শারীরিক পরীক্ষা
ডাক্তার প্রথমেই রোগীর শরীরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। যেমন: চেতনা, পেশির শক্তি বা ঝাঁকুনি, চোখের নড়াচড়া, এবং শ্বাস-প্রশ্বাস। এগুলো খিঁচুনির ধরন ও গুরুত্বর মাত্রা বোঝাতে সাহায্য করে।
২. রক্ত পরীক্ষা
রক্ত পরীক্ষা করা হয় যাতে জানা যায়:
- শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য ঠিক আছে কি না (সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম)
রক্তে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক কি না - কোনো সংক্রমণ বা জ্বরের চিহ্ন আছে কি না
৩. EEG (Electroencephalogram)
EEG পরীক্ষা মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ চিহ্নিত করে। এটি খিঁচুনির প্রকৃতি ও সম্ভাব্য উৎস নির্ধারণে সহায়ক।
৪. CT Scan বা MRI
প্রয়োজনে ডাক্তাররা মস্তিষ্ক বা স্পাইনাল কর্ডের কোনো জটিলতা দেখার জন্য CT Scan বা MRI করেন। এটি বিশেষ করে জটিল বা বারবার খিঁচুনি হলে অত্যন্ত দরকারি।
৫. ওষুধের ইতিহাস পর্যালোচনা
রোগীর চলমান ও পূর্বের ব্যবহৃত ঔষধের ব্যবহার খিঁচুনির সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা যাচাই করা হয়। এটি চিকিৎসককে সঠিক চিকিৎসা নির্ধারণে সহায়তা করে।
অপারেশনের পর স্নায়ুজনিত ব্যথা ও খিঁচুনির সমন্বিত চিকিৎসায় আকুপাংচারের ভুমিকাঃ
আকুপাংচার আজ থেকে প্রায় ৫ হাজার বছর আগে প্রাচীন চীনে আবিষ্কৃত একটি ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতি। এই চিকিৎসা বর্তমানে সমস্ত পৃথিবীতে বহুল প্রচলিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দ্বারা ১০০ টির ও বেশি রোগের জন্য আকুপাংচার চিকিৎসাকে সুপারিশ করা হয়েছে। আকুপাংচার যেকোনো খিচুনি সমস্যার সমাধান দেয়। যার চিকিৎসা দেওয়া হয় সূক্ষ্ম সুচের মাধ্যমে। আকুপাংচার দেওয়ার ফলে শরীর উদ্দীপ্ত হয়, ব্যথা উপশম করে, প্রদাহ কমায়, রক্ত চলাচলে বৃদ্ধি ঘটে, অবসন্নতা দূর করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গবেষণা অনুসারে আকুপাংচার সূঁচ শরীরের বিভিন্ন অংশকে উদ্দীপিত করে ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে। এটি ব্যথা উপশমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আকুপাংচার শরীরের শক্তি প্রবাহ বা “কিউই” ভারসাম্য বজায় রাখে এবং সম্ভাব্য ভারসাম্যহীনতা মোকাবেলা করে হরমোন এবং নিউরোট্রান্সমিটারকে প্রভাবিত করতে সাহায্য করে।
অপারেশন পরবর্তী খিচুনির জটিলতা ও তাঁর চাপ কমাতে পারে। এছাড়া এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, আকুপাংচার শরীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে এক ধরণের উদ্দীপনা তৈরী করে। যার কারণে অপারেশন পরবর্তী খিচুনির জটিলতা ও ব্যথাযুক্ত স্থান গুলির মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরী হয় এবং ব্যথা ধীরে ধীরে প্রশমিত হতে থাকে। সুতরাং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত আকুপাংচার অপারেশন পরবর্তী খিচুনির জটিলতার বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বহু বছর ধরে। আকুপাংচার চিকিৎসার মূল ভিত্তি হলো শরীরের মাংসপেশি, ব্লাড ভেসেল, রক্তনালী, ইত্যাদি। আকুপাংচার পদ্ধতিতে রোগীর কশেরুকার যে লেভেলে সমস্যা আছে, আকুপাংচার পদ্ধতিটি সেই স্থানের আশেপাশে অবস্থিত চ্যানেলগুলোকে এর মাধ্যমে ইলেকট্রিক শক দিয়ে উদ্দীপিত করে। এতে সেই স্থানে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং বিভিন্ন রকম হরমোন নিঃসরণ হয়। এর ফলে উক্ত স্থানের ব্যথা উপশম হতে থাকে। এছাড়া অপারেশন পরবর্তী খিচুনির জটিলতা সহ আরো বিভিন্ন ব্যথা ও নার্ভ জনিত সমস্যার ক্ষেত্রে আকুপা চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
উপসংহার
অপারেশনের পর খিঁচুনি হঠাৎ ভয় তৈরি করতে পারে, তবে সচেতনতা, খিঁচুনির কারণ সনাক্তকরণ এবং সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করলে এটি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। খিঁচুনির মূল কারণ বোঝা এবং সময়মতো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখানো রোগীকে দ্রুত সুস্থ করে তুলতে পারে। তাই, কোনো অস্বাভাবিক ঝাঁকুনি, অজ্ঞান হওয়া বা বিভ্রান্তির লক্ষণ দেখলেই দেরি না করে পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করুন।
See More…