বিকল্প চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করছে শশী হাসপাতাল (আকুপাংচার)

SUO XI Hospital (Acupuncture): best hospital for pain management
Facebook
WhatsApp
LinkedIn
Email
Print

রোগীকেন্দ্রিক সেবা, আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সমন্বিত চিকিৎসায় আস্থার নতুন ঠিকানা

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাত দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাশাপাশি বিকল্প ও সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতির প্রতিও মানুষের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। দীর্ঘদিনের ব্যথা, স্নায়বিক সমস্যা, চলাফেরার সীমাবদ্ধতা কিংবা জীবনযাপনজনিত নানা স্বাস্থ্য জটিলতায় অনেকেই এখন এমন চিকিৎসা পদ্ধতির খোঁজ করছেন, যা রোগ নিরাময়ের পাশাপাশি সুস্থ জীবনযাপনের পথও দেখায়। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় রোগীকেন্দ্রিক সেবা, সমন্বিত চিকিৎসা এবং মানবিক স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে নতুন আস্থা তৈরি করছে শশী হাসপাতাল।

Acupuncture for Back Painশশী হাসপাতাল (আকুপাংচার) এর মূল দর্শন হলো—চিকিৎসা শুধু রোগ নিরাময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একজন মানুষের সামগ্রিক শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতা নিশ্চিত করাই প্রকৃত স্বাস্থ্যসেবা। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটি রোগীদের জন্য আন্তরিক, সহানুভূতিশীল এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিবেশ গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আধুনিক চিকিৎসায় আকুপাংচার চিকিৎসা সমন্বয়

প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম শক্তি হলো আকুপাংচারভিত্তিক চিকিৎসাকে আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সমন্বিত করা। হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা জ্ঞানকে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত করে রোগীদের জন্য একটি সমন্বিত সেবা কাঠামো তৈরি করেছে হাসপাতালটি। আকুপাংচারের পাশাপাশি পুনর্বাসন, ব্যথা ব্যবস্থাপনা, জীবনধারাভিত্তিক স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং সুস্থতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সহায়ক সেবাও এখানে গুরুত্বের সঙ্গে প্রদান করা হয়।

বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবার ধারণা এখন কেবল রোগের চিকিৎসা থেকে অনেক দূর এগিয়েছে। বর্তমানে রোগ প্রতিরোধ, পুনর্বাসন, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা নিশ্চিত করাই আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য। শশী হাসপাতালও এই বৈশ্বিক দর্শনকে ধারণ করে রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য পরিকল্পিত চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান করছে। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, শারীরিক অস্বস্তি, কর্মক্ষমতা হ্রাস এবং জীবনযাপনজনিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতি ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি করছে।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে গবেষণা, প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য সচেতনতা

চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি গবেষণা ও জ্ঞানচর্চাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে শশী হাসপাতাল (আকুপাংচার)। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা, রোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং জীবনধারাগত পরিবর্তনের ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে নিয়মিত কাজ করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের জন্য বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজবোধ্য স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে একটি সচেতন সমাজ গঠনের প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার হাসপাতালটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে রোগীদের জন্য ভিডিওভিত্তিক স্বাস্থ্য তথ্য, চিকিৎসা-সংক্রান্ত সচেতনতামূলক কনটেন্ট এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক উপকরণ তৈরি করা হচ্ছে। ফলে চিকিৎসা গ্রহণের আগে রোগীরা প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারছেন এবং আরও সচেতনভাবে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

রোগীর আস্থা ও সন্তুষ্টিকে শশী হাসপাতাল (আকুপাংচার) তাদের সেবার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। হাসপাতালটির দাবি, তাদের সেবা গ্রহণের মাধ্যমে বহু রোগী দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যার উন্নতি অনুভব করেছেন এবং স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবনে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছেন। রোগীদের এই ইতিবাচক অভিজ্ঞতা নতুন রোগীদের মধ্যেও আস্থা ও আশাবাদ তৈরি করছে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে বর্তমানে মানবিক আচরণ, রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসা এবং সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এই বাস্তবতায় শশী হাসপাতাল আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাশাপাশি গবেষণাভিত্তিক পরিপূরক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা মডেল গড়ে তুলছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাস, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানসম্মত সেবার সমন্বয়ই রোগীদের জন্য সর্বোত্তম ফল নিশ্চিত করতে পারে।

শুধু চিকিৎসা প্রদান নয়, বরং সুস্থ জীবনযাপনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতেও কাজ করছে শশী হাসপাতাল। স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধে উদ্বুদ্ধকরণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণে মানুষকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে একটি সুস্থ সমাজ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

শশী হাসপাতালের চিকিৎসার খরচ কত?

আকুপাংচার চিকিৎসা পদ্ধতিতে দক্ষ চিকিৎসাকর্মীর প্রয়োজন কারণ সূঁচের গভিরতা ঠিক না হলে রোগীর স্নায়ুবিক সমস্যা হতে পারে এবং অঙ্গহানি পর্যন্ত হতে পারে। চিকিৎসার পরিবেশ যদি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন না হয় তাহলে রোগীর ইনফেকশন হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। শশী হাসপাতালে চিকিৎসা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় রোগী ও তাদের স্বজনরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। অনেক রোগীর স্বজন বলেন, ভর্তি, চিকিৎসক ফি, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ওষুধের খরচ মিলিয়ে চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো আর্থিক চাপে পড়ছে।

খরচের বিষয়ে শশী হাসপাতালের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, তাদের হাসপাতালে আকুপাংচার, ফিজিওথেরাপি, ওজন থেরাপি, সিএফটি, থোলিয়াওসহ ২৭ ধরনের সমন্বিত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। পৃথকভাবে প্রতিটি সেবার বিল না করে রোগীর অসুস্থতার ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বিত চিকিৎসার জন্য এককালীন ব্যয় নির্ধারণ করা হয় যা বেশি মনে হতে পারে। কিন্তু সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যয় তুলনামূলক কম। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, পিএলআইডি রোগীর ক্ষেত্রে আকুপাংচারভিত্তিক চিকিৎসার খরচ অস্ত্রোপচারের তুলনায় অনেক কম। ফলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে চিকিৎসা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন এবং হাসপাতালের প্রতি আস্থা রাখছেন।

ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যসেবা হবে আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং সমন্বিত—এমন ধারণা এখন বিশ্বজুড়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শশী হাসপাতালও এগিয়ে চলেছে নতুন উদ্যমে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাস, প্রকৃত সুস্বাস্থ্য কেবল রোগমুক্ত থাকা নয়; বরং শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতার পূর্ণ সমন্বয়। এই বিশ্বাসকে ধারণ করেই রোগীদের সুস্থ, সক্রিয় ও আনন্দময় জীবন গড়ে তুলতে শশী হাসপাতাল (আকুপাংচার) প্রতিদিন নতুন প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

তথ্যসূত্রে: ফোকাস বাংলা

Receive the latest news

Subscribe To My Weekly Newsletter

Get notified about new articles