আইবিএস (IBS) থেকে মুক্তির উপায় এর কারণ ও উপসর্গ | Dr S.M. Shahidul Islam

আইবিএস থেকে মুক্তির উপায়, আইবিএস রোগীর খাবার তালিক, আইবিএস এর আধুনিক চিকিৎসা, আইবিএস কি মানসিক রোগ, আইবিএস হলে কি কি সমস্যা হয়, আইবিএস কি ভালো হয়, আইবিএস এর ওষুধ, আইবিএস এর লক্ষণ ও প্রতিকার আইবিএস (IBS - Irritable Bowel Syndrome) কি? বলতে
Facebook
WhatsApp
LinkedIn
Email
Print

গত ৩০ বছর ধরে আইবিএস রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে আমি দেখেছি, অনেকেই দীর্ঘস্থায়ী পেট ব্যথা, গ্যাস কিংবা ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা নিয়ে দিনের পর দিন কষ্ট পান। বেশিরভাগ মানুষই এগুলোকে কেবল ‘গ্যাসের সমস্যা’ বা ‘হজমের গণ্ডগোল’ ভেবে (IBS medicine) সাধারণ ওষুধ খেয়ে চেপে রাখার চেষ্টা করেন।

কিন্তু যখন এই সমস্যাগুলো বারবার ফিরে আসে, তখন বুঝতে হবে এটি সাধারণ কোনো সমস্যা নয়; হয়তো আপনি আইবিএস (IBS) বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমে ভুগছেন। অবহেলা করলে এই সমস্যা আপনার জীবনযাত্রার মান কমিয়ে দিতে পারে। একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি মনে করি, সঠিক সময়ে এর কারণ নির্ণয় করা এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। এই লেখায় আমি আইবিএস কেন হয়, এর লক্ষণগুলো কী এবং আইবিএর থেকে মুক্তির ০৮টি উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

আকুপাংচার বিশেষজ্ঞ Dr. S.M Shahidul Islam PhD. এর তত্বাবধানে শশী হাসপাতালে সম্পূর্ণ ঔষধ ছাড়াই আইবিএস এর চিকিৎসা (Best IBS treatment without medicine in Dhaka, Bangladesh) প্রদান করা হয়।

আইবিএস (IBS) কি? কারণ, লক্ষণ ও মুক্তির সহজ উপায়

আইবিএস একটি দীর্ঘমেয়াদি (chronic) গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ডিসঅর্ডার, মস্তিকের সাথে স্নায়ুর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বিঘ্নিত হয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী, IBS-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

  • পেটের ব্যথা বা ক্র্যাম্প: বিশেষ করে খাওয়ার পর বা অন্ত্রে গ্যাস জমে গেলে।
  • বদহজম বা ডায়রিয়া/কনস্টিপেশন: কখনও ডায়রিয়া, কখনও কনস্টিপেশন, আবার কখনও উভয়ই মিলিত হতে পারে।
  • পেট ফোলা বা গ্যাস জমা হওয়া: অন্ত্রে অতিরিক্ত বাতাস জমে বা অস্বাভাবিক পেট ফাঁপা (Flatulence) দেখা দেয়।
  • Bowel movement-এর পরিবর্তন: অন্ত্রের ফ্রিকোয়েন্সি, ধরণ বা consistency হঠাৎ পরিবর্তিত হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, IBS সাধারণত ঘটে অন্ত্রের স্নায়ু ও মস্তিষ্কের মধ্যে সিগন্যালের অসঙ্গতি, অন্ত্রের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি, অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম পরিবর্তন, মানসিক চাপ বা অসঙ্গতি জীবনধারার কারণে। পাশ্চাত্য দেশে প্রতি ১০ জনে অন্তত একজন মানুষ এ রোগে তার জীবদ্দশায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। বাংলাদেশসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, প্রতি ১০০ জন পুরুষে ২০ দশমিক ৬ জন এবং ১০০ জন নারীর মধ্যে ২৭ দশমিক ৭ জন এ রোগে আক্রান্ত হন। 

IBS কত প্রকার?  

IBS বা Irritable Bowel Syndrome হলো একটি ক্রনিক অন্ত্রের সমস্যা, যার ধরন এবং উপসর্গের ভিত্তিতে এটিকে মূলত চার ভাগে বিভক্ত করেছে। সঠিক টাইপ নির্ধারণ করা চিকিৎসা এবং জীবনধারার পরিবর্তনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

১. IBS-C (Constipation-Predominant IBS)

এটি হলো কনস্টিপেশন-ডমিন্যান্ট টাইপ
লক্ষণসমূহ:

  • শক্ত ও শুকনো মল
  • দীর্ঘ সময় ধরে বowel movement না হওয়া
  • মলত্যাগের সময় ব্যথা বা অস্বস্তি
  • পেট ফোলা বা ক্র্যাম্প

২. IBS-D (Diarrhea-Predominant IBS)

এটি হলো ডায়রিয়া-ডমিন্যান্ট টাইপ
লক্ষণসমূহ:

  • ঘন ঘন পাতলা পায়খানা
  • খাবার খাওয়ার পরে হঠাৎ বাথরুমের প্রয়োজন
  • পেটের ক্র্যাম্প বা গ্যাস
  • কখনও কখনও অস্থায়ী দুর্বলতা বা ক্লান্তি

৩. IBS-M (Mixed Type IBS)

এটি হলো মিশ্র টাইপ, যেখানে কনস্টিপেশন এবং ডায়রিয়া পালাক্রমে দেখা দেয়
লক্ষণসমূহ:

  • কখনও কনস্টিপেশন, কখনও ডায়রিয়া
  • অনিয়মিত bowel movement
  • পেটের ফোলা ও ক্র্যাম্প
    বিশেষ তথ্য: IBS-M রোগীদের জন্য ব্যক্তিগতকৃত ডায়েট এবং জীবনধারার পরিবর্তন সবচেয়ে কার্যকর।

৪. IBS-U (Unclassified IBS)

যেসব ক্ষেত্রে উপসর্গ কোনো নির্দিষ্ট টাইপে ফিট করে না, তাকে বলা হয় Unclassified IBS
লক্ষণসমূহ:

  • কখনও কনস্টিপেশন
  • কখনও ডায়রিয়া
  • উপসর্গ স্থায়ী নয় বা অপ্রত্যাশিতভাবে আস

সঠিক টাইপ নির্ণয় করলে চিকিৎসক রোগীর বয়স, ওজন এবং উচ্চতা অনুযায়ী সঠিক ডায়েট চার্ট, ওষুধ এবং জীবনধারার পরিবর্তনের মাধ্যমে IBS-এর উপসর্গ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

আইবিএস (IBS) কেন হয়?

IBS বা ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম হলো অন্ত্রের একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা, যা হঠাৎ পেট ব্যথা, বদহজম, ডায়রিয়া বা কনস্টিপেশন এবং গ্যাস জমা হওয়ার মতো উপসর্গ তৈরি করে। যথাযথ কারণ সনাক্ত করলে

  • ১. মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের মধ্যে যোগাযোগের ব্যাঘাত: অন্ত্র এবং মস্তিষ্ক একে অপরের সঙ্গে ক্রমাগত সংকেত বিনিময় করে। এই সিগন্যালের ভারসাম্যহীনতা পেটে ব্যথা বা অন্ত্রের অতিসংবেদনশীলতার কারণ হতে পারে।
  • ২. অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যহীনতা: অন্ত্রে থাকা স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হলে হজম প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। ফলে পেট ফোলা, গ্যাস জমা এবং বowel movement-এর অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়।
  • ৩. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগ মস্তিষ্ক-অন্ত্র সিগন্যালকে প্রভাবিত করে, যা IBS-এর উপসর্গ বাড়াতে পারে।
  • ৪. খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা: ফ্যাটি বা অতিস্বাদযুক্ত খাবার, অনিয়মিত খাবারের সময়, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া- এগুলো IBS-এর ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে।
  • ৫. হরমোনের পরিবর্তন: বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে হরমোনের ওঠানামা অন্ত্রের সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে IBS-এর উপসর্গকে তীব্র করতে পারে।
  • ৬. পূর্ববর্তী সংক্রমণ বা প্রদাহ: কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ শেষ হওয়ার পর অন্ত্রের অস্বাভাবিক সংবেদনশীলতা বা হালকা প্রদাহ দেখা দিতে পারে, যা IBS-এর ঝুঁকি বাড়ায়।

বাংলাদেশের সুনামধন্য আকুপাংচার বিশেষজ্ঞ ডা. এস. এম. শহীদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আইবিএস এর চিকিৎসা প্রদান (IBS treatment in Dhaka, Bangladesh) করে আসছেন। তার হাত ধরে দেশ ও বিদেশের অনেক রোগী আইবিএস থেকে সুস্থ্যতা পেয়েছেন।

আইবিএস (IBS) এর লক্ষণসমূহঃ

হজমের সমস্যাজনিত পেটে ব্যথা বা আইবিএস (IBS) একটি রোগের জন্য হয় না। বেশ কয়েকটি রোগের সমন্বয়ে Irritable Bowel Syndrome রোগটি শরীরে বাসা বাঁধে। IBS রোগের লক্ষণ বা বেশ কিছু উপসর্গ রয়েছে এর উল্লেখযোগ্য উপসর্গগুলো হলো, পেটব্যথা, পেটফাঁপা, পায়খানার সঙ্গে আম যাওয়া, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমন্বয় ইত্যাদি।

কোনো রোগীকে আইবিএস (IBS) হিসেবে শনাক্ত করতে হলে এ লক্ষণগুলোতে অন্তত দুটি লক্ষণ তিন মাস পর্যন্ত উপস্থিত থাকতে হবে। এছাড়া অন্য যেসব লক্ষণ থাকতে পারে, সেগুলো হল- পেটে অত্যধিক গ্যাস, পেটে অত্যধিক শব্দ, বুক জ্বালা, বদহজম, পায়খানা সম্পূর্ণ না হওয়া, পেটে ব্যথা হলে টয়লেটে যাওয়ার খুব তাড়া, পেটব্যথা হলে পাতলা পায়খানা হওয়া, শারীরিক অবসাদ ও দুর্বলতা, মাথাব্যথা, পিঠে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চলাকালীন কিংবা মিলনের সময় ব্যথা। যদি পায়খানার সঙ্গে রক্ত পড়ে, শরীরের ওজন কমে যায় এবং হঠাৎ পায়খানার ঘনত্বের পরিমাণ কমে যায়, তবে এগুলো অন্য কোনো রোগের এমনকি কোলোরেক্টাল ক্যানসারের উপসর্গও নির্দেশ করে।

আইবিএস (IBS) রোগীর খাবার তালিকা: কী খাবেন আর কী এড়িয়ে চলবেন?

আইবিএস নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রধান চাবিকাঠি হলো সঠিক খাদ্যাভ্যাস। গত ৩০ বছরের চিকিৎসা অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি, কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নয়, বরং আপনি কী খাচ্ছেন তার ওপরই নির্ভর করে আপনার অন্ত্র কতটা শান্ত থাকবে। প্রতিটি মানুষের শরীর আলাদা, তবুও গবেষণালব্ধ ‘Low FODMAP’ ডায়েট আইবিএস রোগীদের জন্য সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

১. যেসব খাবার আপনার অন্ত্রকে শান্ত রাখবে (যা খাবেন):

  • ঢেঁকিছাঁটা চাল: মেশিনে পালিশ করা সাধারণ সাদা চালের বদলে ঢেঁকিছাঁটা চাল বেছে নিন। এতে থাকা প্রাকৃতিক ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়া উভয় সমস্যার সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি ভিটামিন বি-এর একটি বড় উৎস, যা আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে এবং হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক করে। এটি রক্তে সুগার ধীরে ছড়ায়, ফলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং হুটহাট পেট ফাঁপা বা অস্বস্তির ভয় কম থাকে।
  • সহজপাচ্য শর্করা: আতপ চালের ভাত বা সেদ্ধ চালের ভাত আইবিএস রোগীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ। এছাড়া চিঁড়া বা সাগু দানা পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে।
  • প্রোটিনের উৎস: মুরগির মাংস (চামড়া ছাড়া), ডিম (সেদ্ধ বা পোচ) এবং ছোট মাছ। এগুলো অন্ত্রে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে না।
  • আঁশযুক্ত সবজি (নির্বাচিত): লাউ, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, পটল এবং পেঁপে। এগুলো অন্ত্রের জন্য খুবই আরামদায়ক। তবে সবজি ভালো করে সেদ্ধ করে রান্না করা উচিত।
  • উপকারী ফল: পাকা কলা (বেশি পাকা নয়), পেঁপে এবং আঙুর। এগুলো পেটে গ্যাস তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কমায়।
  • প্রোবায়োটিক: ঘরে পাতা টক দই অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সাহায্য করে, যা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে।

২. আইবিএস হলে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

  • উচ্চ শর্করা ও রিফাইন্ড কার্ব: ময়দার তৈরি পাস্তা, অতিরিক্ত মিষ্টি বিস্কুট বা কেক। এগুলো অন্ত্রে দ্রুত ফারমেন্টেশন হয়ে গ্যাস সৃষ্টি করে।
  • দুগ্ধজাত খাবার: দুধ বা পনির অনেকের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া বা পেট ফোলার কারণ হয়। ল্যাকটোজ সহ্য না হলে এগুলো এড়িয়ে চলুন।
  • গ্যাস উৎপাদনকারী সবজি: বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি এবং অতিরিক্ত কাঁচা সালাদ। এগুলো আইবিএস রোগীদের পেটে অস্বস্তি বাড়িয়ে দেয়।
  • অতিরিক্ত তেল ও মশলা: ডুবো তেলে ভাজা খাবার, বাইরের ফাস্টফুড এবং অতিরিক্ত ঝাল খাবার অন্ত্রের পেশিকে উত্তেজিত করে।
  • ক্যাফেইন ও কার্বোনেটেড পানীয়: কফি এবং কোল্ড ড্রিঙ্কস সরাসরি অন্ত্রকে উত্তেজিত করে ডায়রিয়া ও গ্যাসের সমস্যা বাড়ায়।

আইবিএস রোগীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ:

১. একেবারে বেশি খাবেন না: পেটে চাপ না দিয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ার অভ্যাস করুন।
২. ধীরে চিবিয়ে খাওয়া: তাড়াহুড়ো করে খাবার খেলে খাবারের সাথে বাতাস ভেতরে ঢুকে গ্যাসের সমস্যা বাড়াতে পারে।
৩. পর্যাপ্ত পানি: সারাদিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন, তবে খাওয়ার ঠিক আগে বা পরে বেশি পানি খাবেন না।
৪. খাবার ডায়েরি রাখুন: কোন খাবারটি খাওয়ার পর আপনার অস্বস্তি হচ্ছে, তা লিখে রাখুন। কারণ একেকজনের শরীরে একেক খাবার ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।

আইবিএস এর ভালো ডাক্তার

Dr SM Shahidul Islam Logo

Dr. S.M. Shahidul Islam, PhD, is widely recognized as one of the best IBS doctors in Dhaka and all over Bangladesh, combining his expertise as a gastroenterologist with a focus on acupuncture, non-drug therapies, and lifestyle-based solutions. Renowned for his holistic approach, Dr. Shahidul Islam offers personalized care plans that help patients achieve lasting relief from IBS symptoms without the side effects of conventional medications. Here is more information about his IBS treatment.

ঘরোয়া উপায়ে আইবিএস থেকে মুক্তির উপায়। আইবিএস থেকে মুক্তির প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আইবিএস ম্যানেজমেন্ট মানেই হলো শৃঙ্খলার জীবন। গত ৩০ বছরের অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি, নিচের অভ্যাসগুলো মানলে খুব দ্রুতই পেটের অস্বস্তি কমে আসে:

  • খাবারের নিয়ম: প্রতিদিন সঠিক সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। একবারে পেট ভরে না খেয়ে সারা দিনে অল্প অল্প করে ভাগ করে কয়েকবার খান, এতে অন্ত্রের ওপর চাপ কম পড়ে।
  • সঠিক খাদ্যাভ্যাস: রান্নায় তেল-চর্বি ও অতিরিক্ত মশলা এড়িয়ে চলুন। যেসকল খাবার খেলে আপনার পেটের সমস্যা হয়, সেগুলো চিহ্নিত করে এড়িয়ে চলুন।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন: প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করুন। এছাড়া সারাদিনে প্রচুর পানি পান করুন, তবে খাওয়ার ঠিক আগে বা পরে অতিরিক্ত পানি পান করবেন না।
  • নিয়মিত শরীরচর্চা করুন: : প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন। শারীরিক পরিশ্রম অন্ত্রের গতিবিধি (Bowel Movement) স্বাভাবিক রাখে এবং গ্যাস হওয়া প্রতিরোধ করে।। হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম পেটের গ্যাস ভাব কমাতে এবং হজম শক্তি বাড়াতে জাদুর মতো কাজ করে।
  • মানসিক প্রশান্তি: আইবিএস নিয়ন্ত্রণে মানসিক চাপ কমানো অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত মেডিটেশন বা ব্রিদিং এক্সারসাইজ আপনার অন্ত্রের স্নায়ুকে শান্ত রাখবে।

এছাড়াও যদি বেশি পেটের ব্যথা, পেটে বুট বুট আওয়াজ, কোষ্ঠকাঠিন্য অর্থাৎ দীর্ঘ দিন আইবিএস এর সমস্যা দেখা দেয় তাহলে আপনার নিকটস্থ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন।

বাংলাদেশের শশী আকুপাংচার হাসপাতালে, আকুপাংচার থেরাপি, আইবিএস এর জন্য ডায়েট চার্ট এবং অনান্য চাইনিজ থেরাপির মাধ্যমে আইবিএস রোগের চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এখানে দেশ সেরা আকুপাংচার স্পেশালিষ্ট দ্বারা রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে আইবিএস এর চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে।

আইবিএস (IBS) এর চিকিৎসা ও প্রতিকার 

লীক ভেজিটেবলঃ আইবিএস (IBS) সমস্যা প্রতিকারে লীক ভেজিটেবল একটি দুর্দান্ত পথ্য। লীক দ্রবণীয় ফাইবারের একটি ভালো উৎস এবং এতে প্রোবায়োটিক আছে যা অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসাবে কাজ করে। আমাদের পেটের ব্যাকটেরিয়াগুলো ফ্যাটি এসিড নামক কিছু তৈরি করে যা আমাদের জন্য সমস্ত ধরনের ভালো কাজ করে এবং আমাদের বিপাক প্রক্রিয়াকে ভালো রাখে, পেটের প্রদাহ কমায়, হজমে সহায়তা করে। লীক ভেজিটেবল গ্রহণের ফলে Irritable Bowel Syndrome সমস্যা অনেকটাই প্রতিরোধ সম্ভব। কিন্তু শুধু এটি দিয়ে নয়, এর সাথে সাথে আরও বেশ কিছু নিয়মকানুন মেনে চলা বাঞ্ছনীয়। এর মধ্যে শরীরের রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাপনাকে বৃদ্ধি করা এবং শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তৈরি করা জরুরী। যা শরীরের ফ্রিরেডিকেলকে মেরে ফেলে যার ফলে কোষ ও শিশুর ক্ষতি হতে শরীর রক্ষা পায়। লীক ভেজিটেবল নিয়মিত গ্রহণের ফলে আইবিএস (IBS) সমস্যা অনেকাংশে সমাধান হয়।

আইবিএএস নিরাময়ে লিক গুড়া  পাউডারঃ

IBS বা Irritable Bowel Syndrome হলো একটি অন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা, যা হঠাৎ পেট ব্যথা, বদহজম, ডায়রিয়া বা কনস্টিপেশন এবং গ্যাস জমার মতো উপসর্গ তৈরি করে। গবেষণা ও ক্লিনিকাল অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে লিক গুড়া (flaxseed) একটি প্রাকৃতিক ও নিরাপদ উপায় হিসেবে IBS-এর উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

  • ১. হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে: লিক গুড়ার মধ্যে থাকা সলিউবেল ও আনসলিউবেল ফাইবার অন্ত্রের ময়েশ্চার ধরে রাখে এবং খাদ্য দ্রুত হজম হতে সাহায্য করে। এটি কনস্টিপেশন কমাতে কার্যকর।
  • ২. Bowel movement নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: ফাইবার Bowel movement কে নিয়ন্ত্রণে রাখে, ফলে ডায়রিয়া ও কনস্টিপেশন উভয়ই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। IBS-এর রোগীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা।
  • ৩. পেট ফোলা ও গ্যাস কমায়: লিক গুড়ার সলিউবেল ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক। এতে গ্যাস জমা বা পেট ফোলার সমস্যা কমে।
  • ৪. প্রদাহ হ্রাসে সাহায্য করে: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ লিক গুড়া অন্ত্রের হালকা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, যা IBS-এর উপসর্গকে হ্রাস করে।
  • ৫. প্রাকৃতিক ও নিরাপদ সমাধান: লিক গুড়া একটি নিষ্কণ্টক এবং প্রাকৃতিক উপায়, যা দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে অন্তর্ভুক্ত করলে IBS উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত নয়, এবং সর্বদা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।  বিস্তারিত জানুন

ওজোন সাওনা থেরাপিঃ এছাড়া আইবিএস (IBS) প্রতিরোধের একটি যুগান্তকারী সমাধান হলো ওজোন সাওনা থেরাপি। এই চিকিৎসা পদ্ধতি শরীরকে জীবাণুমুক্ত করে এবং মানবদেহের টিস্যুগুলোতে পৌঁছে যাওয়া অক্সিজেনের পরিমাণকে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করে। এটি ফিজিওথেরাপির একটি উন্নত পর্যায়। এটি বহির্বিশ্বে বহুল প্রচলিত এবং শরীরের রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে। ওজোন সাওনা থেরাপির মাধ্যমে শরীর অধিক কার্যকর হয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্পূর্ণ নিরাপদ একটি চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে জানা যায় এবং আইবিএস (Irritable Bowel Syndrome) রোগের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ঔষধ বলে বিবেচনা করা হয়। এছাড়াও, শশী হেলদি লাইফস্টাইল অনুসরণের মাধ্যমে আপনি আইবিএএস থেকে সম্পূর্ণ স্থায়ীভাবে মুক্তি পাবেন।

আইবিএস এর প্রাকৃতিক চিকিৎসাঃ আকুপাংচার 

আইবিএস (IBS) বা ইরিটেবল বাউয়েল সিনড্রোম মূলত অন্ত্র এবং মস্তিষ্কের মধ্যকার সমন্বয়হীনতার একটি ফল। যখন প্রচলিত ওষুধ বা ডায়েট চার্ট পুরোপুরি কাজ করে না, তখন আকুপাংচার একটি বিজ্ঞানসম্মত ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন বিকল্প হিসেবে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নিচে গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে আইবিএস নিরাময়ে আকুপাংচার কিভাবে কাজ করে তা আলোচনা করা হলো:

১. অন্ত্র-মস্তিষ্কের সংযোগ নিয়ন্ত্রণ

আইবিএস রোগীদের অন্ত্র অনান্য সাধারণ মানুষের অন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়। আকুপাংচার তলপেটের নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে স্টিমুলেশন দেওয়ার মাধ্যমে মস্তিষ্কের ‘লিম্বিক সিস্টেম’কে শান্ত করে। এটি মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের মধ্যে সংকেত আদান-প্রদানকে স্বাভাবিক করে তোলে, ফলে পেটের অস্বস্তি এবং বারবার টয়লেটে যাওয়ার প্রবণতা কমে আসে।

২. অন্ত্রের পেশির অস্বাভাবিক সংকোচন রোধ

আইবিএস-এর কারণে অন্ত্রের পেশিগুলো অনেক সময় সংকুচিত হয়ে যায় (Spasm), যা তীব্র ব্যথা বা ডায়রিয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আকুপাংচার প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমকে সক্রিয় করার মাধ্যমে অন্ত্রের এই অনিয়ন্ত্রিত সংকোচন কমিয়ে আনে এবং হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসতে সহায়াতা করে।

৩. প্রদাহ ও ব্যথা নিরাময় (Pain Management)

গবেষণায় দেখা গেছে, আকুপাংচার শরীরের ভেতর প্রাকৃতিক ব্যথানাশক উপাদান ‘এনন্ডোরফিন’ এবং ‘এনকেফালিন’ নিঃসরণ বাড়ায়। এটি অন্ত্রের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, যার ফলে দীর্ঘদিনের পেট ব্যথা বা কামড়ানো ভাব থেকে রোগী দ্রুত মুক্তি পায়।

৪. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ (Anxiety) নিয়ন্ত্রণ

আইবিএসের সাথে মানসিক চাপের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দুশ্চিন্তা বাড়লে পেটের সমস্যাও বাড়ে। আকুপাংচার স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসল’-এর মাত্রা কমিয়ে শরীরকে শিথিল করে। এটি কেবল পেটের সমস্যাই নয়, বরং রোগীর ঘুম এবং মানসিক অবস্থারও উন্নতি ঘটায়।

“দীর্ঘ তিন দশকের অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি, আইবিএস রোগীদের ক্ষেত্রে যখন খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পাশাপাশি নিয়মিত আকুপাংচার প্রয়োগ করা হয়, তখন অন্ত্রের কার্যকারিতা অনেক দ্রুত স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে। এটি কেবল উপসর্গ চেপে রাখা নয়, বরং শরীরের নিজস্ব নিরাময় ক্ষমতাকে সক্রিয় করার একটি প্রাচীন অথচ আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি।”

আকুপাংচার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের ওয়েবসাইট http://www.suoxihospital.com ভিজিট করুন। এছাড়াও আকুপাংচার চিকিৎসায় নিয়ে যে সকল রোগী IBS থেকে মুক্তি পেয়েছেন, তাদের সুস্থ হওয়ার গল্প জানুন বাংলাদেশের সেরা আকুপাংচার স্পেশালিষ্ট ডা. এস.এম. শহিদুল ইসলাম এর ইউটিউব চ্যানেল থেকে।

১. আইবিএস কি ভালো হয়?

আইবিএস মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদী পেটের সমস্যা, যা সঠিক খাদ্যাভ্যাস, শৃঙ্খলিত জীবনযাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আকুপাংচারের মতো বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা গ্রহণ করলে আইবিএস রোগীরা একদম সাধারণ মানুষের মতোই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সঠিক ব্যবস্থাপনায় লক্ষণগুলো আর ফিরে আসে না।

আইবিএস থেকে কি ক্যান্সার হয়?

না, আইবিএস থেকে ক্যান্সার হওয়ার কোনো প্রমাণ চিকিৎসা বিজ্ঞানে নেই। আইবিএস অন্ত্রের কার্যকারিতার সমস্যা, এটি অন্ত্রের টিস্যুর গঠনগত পরিবর্তন ঘটায় না। তবে আইবিএসের কিছু লক্ষণ যা কোনো জটিল রোগের সংকেত হতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের সমস্যা থাকলে আকুপাংচার বিশেষজ্ঞ ডা, এস, এম শহীদুল ইসলাম এর মতো অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

আইবিএস হলে কি কি সমস্যা হয়?

আইবিএস রোগীদের প্রধানত পেট ব্যথা, পেট ফেঁপে যাওয়া, অতিরিক্ত গ্যাসের সমস্যা এবং অনিয়মিত বাউয়েল মুভমেন্ট (বারবার পাতলা পায়খানা বা দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য) দেখা দেয়। এছাড়া অনেক সময় মলের সাথে পিচ্ছিল আম (Mucus) যাওয়া এবং পেট পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়ার অনুভূতি হতে পারে। শারীরিক এই কষ্টের পাশাপাশি রোগী অনেক সময় মানসিক উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তায় ভোগেন।

আইবিএস এর জন্য কোন ডাক্তার দেখাবেন?

প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ের জন্য আপনি একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট (Gastroenterologist) দেখাতে পারেন। তবে যেহেতু আইবিএস মূলত অন্ত্রের স্নায়বিক সংবেদনশীলতা ও লাইফস্টাইলের সাথে জড়িত, তাই দীর্ঘমেয়াদী ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন সমাধানের জন্য শশী হাসপাতালে একজন অভিজ্ঞ আকুপাংচার বিশেষজ্ঞ বা পেইন ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্টের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত কার্যকর।

আইবিএস এর ঔষধ কি?

আইবিএস-এর নির্দিষ্ট কোনো একটি ঔষধ নেই যা খেয়ে এটি চিরতরে দূর করা যায়। লক্ষণভেদে চিকিৎসকরা সাধারণত অ্যান্টি-স্পাসমোডিক (ব্যথার জন্য), ল্যাক্সেটিভ (কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য) বা প্রোবায়োটিক দিয়ে থাকেন। তবে মনে রাখা জরুরি, ঔষধ কেবল সাময়িক আরাম দেয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, মানসিক প্রশান্তি এবং অন্ত্রের স্নায়ুকে শান্ত করতে আকুপাংচার অত্যন্ত জোরালো ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

 

See More…

বুকের দুধ কম তৈরি হওয়ার (Lactational deficiency) কারণ

যৌন সমস্যা হলে করণীয় | যৌন সমস্যার চিকিৎসা | যৌন সমস্যার ওষুধ | আকুপাংচার

Receive the latest news

Subscribe To My Weekly Newsletter

Get notified about new articles