কোমর ব্যথায় আধুনিক আকুপাংচার চিকিৎসার কার্যকারীতা | SOMOKAL NEWS

Acupuncture treatment for Back Pain
Facebook
WhatsApp
LinkedIn
Email
Print

কোমর ব্যথা প্রায়শই দেখা যায় বা প্রচলিত রোগের মধ্যে কমন যা যে কারো যে কোনো সময় হতে পারে। তরুণ বা বয়োবৃদ্ধ সবার ক্ষেত্রে কোমর ব্যথার কারণ এক নয়। ভিন্ন ভিন্ন কারণ বা উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়। মাংসপেশির টান, ডিস্কের সমস্যা, স্নায়ুর ওপর চাপ বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতার কারণে হতে পারে। এক্ষেত্রে প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হয়। সঠিক রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়।

সাধারণত কোমর ব্যথার ক্ষেত্রে কিছু লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়ে থাকে যেমন- কোমর ব্যথার সঙ্গে পায়ে ব্যথা ছড়িয়ে যাওয়া, পায়ে ঝিনঝিন বা অবশ ভাব থাকা, দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা চলতে থাকা, হাঁটাচলায় সমস্যা হওয়া, শরীরে দুর্বলতা অনুভব করা ও ব্যথার তীব্রতা ধীরে ধীরে বেড়ে যাওয়াসহ প্রভৃতি।

এছাড়া আমাদের দেশে দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কোমরে ব্যথা হয়। প্রথমদিকে সহনশীল থাকে কিন্তু তীব্রতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এছাড়া মেরুদণ্ডের ডিস্কের সমস্যা, স্নায়ুর ওপর চাপ বা দীর্ঘস্থায়ী মাংসপেশির সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যথার তীব্রতা বাড়ার প্রবণতা থাকে সবসময় এতে স্বাভাবিক চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হতে পারে। ফলে কোমর ব্যথার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যথার ধরন ও উপসর্গ অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসা পরিকল্পনা গ্রহণ করলে ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

কোমর ব্যথার জন্য অনেকেই প্রথমে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিগ্রহণ করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ, ইনজেকশন বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের পর কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ব্যথার উপশম হয়, পুরোপুরি সুস্থ জীবনে ফিরেন। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে ব্যাথার তীব্রতা আরও বাড়তে থাকে বা সুস্থতা লাভ করেন না। এতে করে অনেক রোগী প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পেয়ে আকুপাংচার চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন।

বর্তমানে কোমর ব্যথার বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে আধুনিক আকুপাংচার অত্যন্ত ফলপ্রসূ ফলাফল দিচ্ছে। চীনের হাজার বছরের পুরনো চিকিৎসা পদ্ধতি উন্নত বিশ্বে কোমর ব্যাথা নিরসনে অনেক আগে থেকেই প্রচলিত। বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে সমন্বয় করে আমাদের দেশে ব্যথাজনিত সমস্যাসহ সমাধানে আকুপাংচার চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। মূলত এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে শরীরের নির্দিষ্ট আকুপয়েন্টে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও জীবাণুমুক্ত সূঁচ প্রয়োগ ও আকুপাংচারের বিবিধ পদ্ধতির সমন্বয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে একজন প্রশিক্ষিত ও দক্ষ আকুপাংচারিস্টের কাছ থেকে চিকিৎসা সেবা নেওয়া শ্রেয়।

প্রসঙ্গত কোমর ব্যথার পাশাপাশি ঘাড় ব্যথা, হাঁটু ব্যথা, মাইগ্রেন, মাংসপেশির সমস্যা এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার ক্ষেত্রে আকুপাংচার খুবই কার্যকরী। আধুনিক আকুপাংচারে রোগীর সমস্যা অনুযায়ী চিকিৎসার পয়েন্ট, পদ্ধতি ও সময় নির্ধারণ করা হয়। এজন্য আকুপাংচার সম্পর্কে একজন দক্ষ ডাক্তার প্রথমে কোমর ব্যথার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে চিকিৎসা পদ্ধতির বিন্যাস করেন।

কোমর ব্যথার ক্ষেত্রে আধুনিক আকুপাংচার চিকিৎসা শরীরের স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে ব্যথার অনুভূতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, শরীরের প্রাকৃতিক ব্যথা নিয়ন্ত্রণকারী রাসায়নিকের কার্যক্রম সক্রিয় করে, আক্রান্ত স্থানে রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, দীর্ঘদিনের ব্যথার কারণে মাংসপেশিতে তৈরি হওয়া টান ও শক্তভাব কমাতে সাহায্য করে, মাংসপেশি ও আশেপাশের টিস্যুকে শিথিলে সহায়ক হিসেবে কাজ করে এতে চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজকর্ম সহজ ও সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব হয়ে ওঠে।

শশী হাসপাতালে কোমর ব্যথার চিকিৎসা শুরুর আগে রোগীর ব্যথার ধরন, স্থায়িত্ব, পূর্ববর্তী চিকিৎসার ইতিহাস, শারীরিক অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট মূল্যায়ন করে ব্যথার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করে আকুপাংচার চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এছাড়া বাত, ব্যথা, দীর্ঘদিনের শারীরিক যে কোন ব্যথা, পিএলআইডিসহ মেরুদন্ডের ব্যথা, পেটের হজমজনিত সমস্যা বা আইবিএস, সায়াটিকা, বেলস পালসি, অনিদ্রাসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক সুপারিশকৃত প্রভৃতি রোগের ক্ষেত্রে শশী হাসপাতালে আকুপাংচার চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

লেখক: ডা. এস, এম শহীদুল ইসলাম, পিএইচডি (আকুপাংচার, হেলস্টোন ইউনিভার্সিটি, ইউকে ),
পিএইচডি (পেইন অ্যান্ড প্যারালাইসিস), পাইওনিয়ার আকুপাংচার বিশেষজ্ঞ ও 
চিফ কনসালটেন্ট, শশী হাসপাতাল (আকুপাংচার)

তথ্যসূত্রে: সমকাল, কালবেলা

Receive the latest news

Subscribe To My Weekly Newsletter

Get notified about new articles