বাংলাদেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল Somoy TV-এর স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘বদ্যি বাড়ি’তে আকুপাংচার ও ট্রাডিশনাল চাইনিজ মেডিসিন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন পাইওনিয়ার আকুপাংচার বিশেষজ্ঞ ডা. এস. এম. শহীদুল ইসলাম, পিএইচডি।
অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়—বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় আকুপাংচারের ভূমিকা, নারী ও পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য, মানসিক চাপ এবং প্রচলিত ফার্টিলিটি চিকিৎসার পাশাপাশি আকুপাংচার কীভাবে সহায়ক থেরাপি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে আকুপাংচারের ভূমিকা
বন্ধ্যাত্ব বা Infertility একটি জটিল স্বাস্থ্যসমস্যা। নারীর ডিম্বস্ফোটনজনিত সমস্যা, ফ্যালোপিয়ান টিউবের প্রতিবন্ধকতা, জরায়ু বা ডিম্বাশয়ের সমস্যা, বয়স, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং পুরুষের শুক্রাণুজনিত সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে গর্ভধারণে বিলম্ব হতে পারে।
আকুপাংচার এসব মূল কারণের নিশ্চিত চিকিৎসা বা বিকল্প নয়। তবে রোগীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ভিত্তিতে এটি প্রচলিত ফার্টিলিটি চিকিৎসার সঙ্গে complementary বা সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে প্রয়োগ করা হতে পারে।
আকুপাংচার কীভাবে সহায়তা করতে পারে?
মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক
দীর্ঘদিন সন্তান ধারণে সমস্যার কারণে অনেক দম্পতি মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। আকুপাংচার শরীরকে শিথিল করতে এবং স্ট্রেস-সম্পর্কিত কিছু উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
প্রজনন অঙ্গে রক্তসঞ্চালন সহায়তা
কিছু গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে, আকুপাংচার জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের আশপাশের রক্তসঞ্চালন এবং স্নায়বিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এটি নিশ্চিতভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ায়—এমন শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো সীমিত।
ফার্টিলিটি চিকিৎসার পার্শ্ববর্তী উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ
IVF বা অন্যান্য fertility treatment গ্রহণের সময় কিছু রোগী মানসিক চাপ, অস্বস্তি, ঘুমের সমস্যা বা বমিভাব অনুভব করতে পারেন। চিকিৎসকের অনুমোদনক্রমে আকুপাংচার এসব উপসর্গের supportive management-এ বিবেচনা করা যেতে পারে।
সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক
ব্যক্তিভেদে আকুপাংচার ঘুম, মানসিক প্রশান্তি, পেশির টান ও সামগ্রিক সুস্থতার অনুভূতি উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে। তবে এর ফলাফল সবার ক্ষেত্রে এক রকম হয় না।
বদ্যি বাড়ি অনুষ্ঠানে যেসব বিষয় আলোচনা করা হয়
Somoy TV-এর ‘বদ্যি বাড়ি’ একটি স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠান। এতে সাধারণত আলোচনা করা হয়—
- বিভিন্ন রোগের লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা
- স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের নিয়ম
- নারী ও শিশুস্বাস্থ্য
- মানসিক স্বাস্থ্য ও মানসিক চাপ
- ওষুধের নিরাপদ ব্যবহার
- রোগ প্রতিরোধ ও সচেতনতা
- স্বাস্থ্যবিষয়ক সাম্প্রতিক তথ্য
- দর্শকদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর
এই পর্বে ডা, এস, এম, শহীদুল ইসলাম পিএইচডি আকুপাংচার ও Traditional Chinese Medicine-এর মূলনীতি, সুস্বাস্থ্য রক্ষায় এর ভূমিকা এবং বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় এর সম্ভাব্য সহায়ক ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা করেন। এসময় বিশিষ্ট পাইওনিয়ার আকুপাংচার বিশেষজ্ঞ ডা, এস, এম, শহীদুল ইসলাম পিএইচডি সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে স্বাস্থ্য আকুপাংচার চিকিৎসার ভূমিকা এবং এ তাৎপর্য আলোকপাত করেন। আকুপাংচার ডিম্বাশয়কে উদ্দীপিত করে এবং প্রোজেস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধি করে। এটি গর্ভাশয়ের গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত করে। আকুপাংচার গর্ভাশয় এবং ডিম্বাশয়ে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করে। এটি গর্ভধারণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। অনেক সময় মানসিক চাপ বন্ধ্যাত্বের একটি প্রধান কারণ হতে পারে। আকুপাংচার মানসিক চাপ কমাতে এবং শরীরকে শিথিল করতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে আকুপাংচার বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় বেশ কার্যকর হতে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে আকুপাংচার গর্ভধারণের হার 60% পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারে।
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় সঠিক পদক্ষেপ
এক বছর নিয়মিত অসুরক্ষিত দাম্পত্য সম্পর্কের পরও গর্ভধারণ না হলে নারী ও পুরুষ; উভয়েরই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। নারীর বয়স ৩৫ বছরের বেশি হলে সাধারণত ছয় মাস চেষ্টা করার পরই বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন নেওয়া উচিত। বন্ধ্যাত্বের মূল কারণ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজন হতে পারে-
- Ovulation assessment
- Hormonal tests
- Pelvic ultrasonography
- Fallopian tube evaluation
- Semen analysis
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অন্যান্য পরীক্ষা
কারণ নির্ণয় না করে শুধু আকুপাংচার বা অন্য কোনো একক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
