আধুনিক চিকিৎসার যুগে বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘমেযাদী রোগের জন্য ওষুধহীন বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে আকুপাংচার ও ট্র্যাডিশনাল চাইনিজ মেডিসিন (TCM)। সম্প্রতি বাংলাদেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল আই’-এর স্বাস্থ্য বিষয়ক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পাইওনিয়ার আকুপাংচার বিশেষজ্ঞ ডা. এস. এম. শহীদুল ইসলাম (পিএইচডি) আকুপাংচারের ভূমিকা, হাড় ক্ষয় ও মেরুদণ্ডের বিভিন্ন জটিল সমস্যা নিরাময়ে এর কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
হাড় ক্ষয় ও পিএলআইডি (PLID): সমস্যার চিকিৎসা
অনুষ্ঠানে ডা, এস. এম. শহীদুল ইসলাম পিএইচডি মেরুদণ্ড ও হাড় ক্ষয়ের বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া সহজভাবে ব্যাখ্যা করেন। বয়স বৃদ্ধি, অসচেতনতা, ভারী কাজ, আঘাত বা ভুল জীবনযাত্রার কারণে মেরুদণ্ডের কশেরুকা (Vertabra) ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, যাকে আমরা ‘অস্টিওপোরোসিস’ বা হাড় ক্ষয় বলি।
হাড়ের ভঙ্গুরতার কারণে কশেরুকার মধ্যবর্তী নরম জেলি জাতীয় ডিস্ক স্থানচ্যুত হয়ে বাইরে বের হয়ে আসে (PLID)। এই জেলি যখন পার্শ্ববর্তী স্নায়ু বা রগের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তখন কোমর, পিঠ বা পায়ে তীব্র ব্যথা, ঝিনঝিন করা কিংবা অবশ ভাব দেখা দেয়। ডিস্ক স্থানচ্যুতির চারটি ভিন্ন ধাপ—কম্প্রেশন, বাল্জিং, প্রট্রুশন এবং হার্নিয়েটেড ডিস্ক পর্যন্ত হতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে সমস্যা অত্যন্ত জটিল রূপ নিলে রোগী হাঁটার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারেন, যাকে ‘কাউডা ইকুইনা সিন্ড্রোম’ বলা হয়।
রাজধানীর শান্তিনগরে অবস্থিত শশী হাসপাতালে আন্তর্জাতিক মানের এই আকুপাংচার চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। ডা. শহীদুল ইসলাম পিএইচডি জানান, শুধুমাত্র আকুপাংচার নয়, বরং এর সাথে ওজন থেরাপিসহ বিভিন্ন আধুনিক ও সমন্বিত (Combined) পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যথার প্রধান কারণ অ্যানালাইসিস করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এতে করে অপারেশন বা দীর্ঘমেযাদী ব্যথানাশক ওষুধ ছাড়াই বহু রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠছেন। দেশি রোগীদের পাশাপাশি ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড কান্ট্রি- যেমন আমেরিকা, কানাডা, যুক্তরাজ্য সহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী ও বিদেশী নাগরিকরাও এই চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছেন।
এসময় বিশিষ্ট পাইওনিয়ার আকুপাংচার বিশেষজ্ঞ ডা, এস, এম, শহীদুল ইসলাম পিএইচডি সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে আকুপাংচার চিকিৎসার ভূমিকা এবং এ তাৎপর্য আলোকপাত করেন। তিনি আরো বলেন ওষুধ বিহীন এই চিকিৎসা হতে পারে আপনার সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি। এ সময় তিনি গণমাধ্যমে বিভিন্ন রোগের রোগ সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর এবং তার চিকিৎসা সম্পর্কে অবহিত করেন। কার কি রোগ আছে সে অনুযায়ী কি চিকিৎসা নেওয়া বা কি জীবনধারা গ্রহণ করা প্রয়োজন সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
