জেনে নিন মেছতার কার্যকরী সমাধান!

মেছতা (Melasma) কেন হয় এবং মেছতা নিরাময় আকুপাংচার চিকিৎসা

মুখের ত্বকে হঠাৎ পিগমেন্টেশন বাড়তে শুরু করলে অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে যখন ত্বকের ওপর কালো বা গাঢ় বাদামী ছোপ ছোপ দাগ, যা সাধারণত কপাল, গাল, নাক বা চিবুকে দেখা যায়, তখন এটি শুধু সৌন্দর্যের বিষয়ই থাকে না; বরং ভেতরের হরমোন, সূর্যরশ্মি ও স্ট্রেসের অসামঞ্জস্যতার সংকেত দেয়। এই সমস্যাটিই মূলত মেছতা বা Melasma নামে পরিচিত। বাংলাদেশের আবহাওয়া, সূর্যের তীব্রতা এবং জীবনযাত্রার কারণে মেছতা এখানে খুবই সাধারণ। অনেকেই নানা ধরনের ক্রিম ব্যবহার করেন, কিন্তু মেছতা আসলে ত্বকের গভীর স্তরে তৈরি হওয়া একটি জটিল পিগমেন্টেশন সমস্যা, যা শুধুমাত্র উপরের চিকিৎসায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে না।

আমাদের জন্য সুসংবাদ, আকুপাংচার চিকিৎসার মাধ্যমে মুখের মেছতা জনিত রোগের ঔষধ বিহীণ চিকিৎসা করা হয়। মুখে মেছতা হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। যা আকুপাংচার দ্বারা খুব সহজে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বাংলাদেশের সেরা আকুপাংচার স্পেশালিষ্ট ডা. এস. এম. শহীদুল ইসলাম দীর্ঘদিন থেকে মেছতার জন্য ঔষধ বিহীন চিকিৎসা (Non medicine treatment in Dhaka, Bangladesh) প্রদান করে আসছেন। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুনঃ 

মেছতা কী? (Melasma)

মেছতা হলো ত্বকের পিগমেন্টেশনের একটি সাধারণ কিন্তু জটিল অবস্থা, যেখানে ত্বকে কালো বা গাঢ় বাদামী ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়। সাধারণত এই দাগগুলো কপাল, গাল, নাকের উপরিভাগ বা চিবুকে বেশি দেখা যায়। মেছতা সংক্রামক নয় এবং ব্যথাও নেই, তবে এটি দ্রুতই ত্বকের সৌন্দর্য ও আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলে।

মূলত অতিরিক্ত মেলানিন উৎপাদনের কারণেই মেছতা হয়। মেলানিন হলো সেই প্রাকৃতিক রং, যা আমাদের ত্বক, চুল ও চোখের রঙ নির্ধারণ করে। যখন হরমোনের পরিবর্তন, সূর্যের UV রশ্মি, স্ট্রেস বা জেনেটিক কারণ মেলানিনকে অতিরিক্ত সক্রিয় করে, তখন ত্বকে অসম রঙের গাঢ় দাগ তৈরি হয় এটাই মেছতা। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় অনেক নারীর মধ্যে দেখা যাওয়া মেছতাকে বলা হয় “mask of pregnancy”, কারণ হরমোনের দ্রুত পরিবর্তনের কারণে মুখের নির্দিষ্ট অংশে মেলানিন হঠাৎ বেড়ে যায় এবং একটি মুখোশের মতো দাগ তৈরি হয়। এটি Melasma-র সবচেয়ে পরিচিত উপধরনগুলোর একটি।

পুরুষ-নারী উভয়েরই মেছতা হতে পারে, তবে হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে নারীদের মধ্যে এর হার তুলনামূলক বেশি। দ্রুত চিকিৎসা শুরু না করলে দাগগুলো সময়ের সাথে আরও গাঢ় হয়ে যেতে পারে এবং চিকিৎসায় সময়ও বেশি লাগে।

মেছতার ধরণ (Types of Melasma)

মেছতা সবার ত্বকে একই রকম দেখায় না। কারও দাগ হালকা বাদামি, কারও আবার নীলচে-ধূসর। এর কারণ হলো মেছতা ত্বকের বিভিন্ন স্তরে তৈরি হতে পারে, এবং সেই স্তরের উপর ভিত্তি করেই চিকিৎসার গতি পরিবর্তিত হয়। মেছতার তিনটি প্রধান ধরণ হলো:

(১) Epidermal Melasma – ত্বকের উপরের স্তরের মেছতা

এপিডার্মাল মেছতা হলো সেই ধরণ যেখানে মেলানিন ত্বকের উপরের স্তরে জমে থাকে। যেহেতু পিগমেন্টেশন খুব গভীরে যায় না, তাই দাগের রঙ ও গঠন তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট দেখা যায়। এই ধরনের মেছতার বৈশিষ্ট্য সাধারণতঃ—

  • হালকা বা মাঝারি বাদামি রঙ
  • ত্বকের উপরিভাগে পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান দাগ
  • সূর্যের আলোতে খুব দ্রুত গাঢ় হয়ে যাওয়ার প্রবণতা

(২) Dermal Melasma – ত্বকের গভীর স্তরের মেছতা 

ডার্মাল মেছতা গঠিত হয় ত্বকের গভীর স্তর বা ডার্মিসে মেলানিন জমে থাকার ফলে। যেহেতু সমস্যাটি ত্বকের নিচের স্তরে অবস্থান করে, তাই এর দাগ সাধারণত উপরের স্তরের মেছতার তুলনায় ভিন্নভাবে দেখা যায়। ডার্মাল মেছতার সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—

  • নীলচে বা ধূসর টোনের দাগ, যা আলোতে ভিন্নভাবেও প্রতিফলিত হতে পারে
  • দাগের কিনারা খুব স্পষ্ট নয়, ফলে আকারটা তুলনামূলকভাবে ছায়াময় দেখায়
  • রোদে না গেলেও দাগ একইরকম থাকে, কারণ এ ধরনের পিগমেন্টেশন গভীর স্তরে স্থায়ীভাবে জমা থাকে।  ত্বকের গভীর স্তরের এই পিগমেন্টেশনই ডার্মাল মেছতাকে অন্য ধরণের থেকে আলাদা করে। এর রঙ, গঠন এবং স্থায়িত্ব দেখে অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরণটি শনাক্ত করা যায়।

(৩) Mixed Melasma – উপরের ও গভীর স্তরের মেছতা

মিক্সড মেছতা হলো এমন একটি ধরণ যেখানে মেলানিন ত্বকের উপরের স্তর (epidermis) এবং গভীর স্তর (dermis)—উভয় জায়গায় জমা হয়। এ কারণেই এই ধরণের মেছতাকে অনেক সময় চেনা একটু কঠিন হয়, এবং দাগের রঙ-ও সবসময় একই রকম থাকে না। মিক্সড মেছতার কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো—

  • দাগের রঙ কখনও বাদামি আবার কখনও ধূসর টোনে দেখা যায়, কারণ দুটি স্তরেই পিগমেন্ট জমে থাকে
  • দাগের স্পষ্টতা পরিবর্তনশীল, কখনও পরিষ্কার দেখা যায়, কখনও হালকা অস্পষ্ট
  • সূর্য, তাপ, স্ট্রেস বা হরমোনাল পরিবর্তনে দাগ দ্রুত গাঢ় বা হালকা হতে পারে, অর্থাৎ এটির ওঠানামা বেশি

এটি সবচেয়ে সাধারণ মেছতা ধরণ, এবং এর আচরণ কখনও এপিডার্মাল, কখনও আবার ডার্মাল মেছতার মতো দেখা যেতে পারে তাই নামটি “Mixed Melasma” মেছতার দাগ দেখতে একই রকম লাগলেও, আসলে প্রতিটি ধরণের মেছতার আচরণ আলাদা। এই পার্থক্যটি না বুঝে চিকিৎসা শুরু করলে অনেক সময় ফল ভালো আসে না, বরং সময়ও বেশি লাগে। তাই চিকিৎসা বেছে নেওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ত্বকে কোন ধরণের মেছতা রয়েছে তা একজন যোগ্য ত্বক বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরী। মেছতার ধরন সঠিকভাবে শনাক্ত হলে তবেই উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা যায় এবং উন্নতি দ্রুত দেখা যায়। 

মেছতার ধরণ অনুসারে আপনার জন্য কোন চিকিৎসাটি সবচেয়ে বেশি কার্যকরী হবে তা জানতে ব্লগটি পড়ুন।

মেছতা কেন হয়? (Why Melasma Happens)

মেছতা একদিনে তৈরি হয় না; এটি শরীরের ভেতরকার পরিবর্তন, পরিবেশগত প্রভাব এবং স্কিন-রিঅ্যাকশনের মিলিত ফল। ত্বকের পিগমেন্টেশন কেন ধীরে ধীরে গাঢ় দাগে পরিণত হয়, তা বুঝতে পারলে সমস্যার প্রকৃতি আরও পরিষ্কার হয় এবং চিকিৎসাও কার্যকর হয়।

১. হরমোনাল পরিবর্তন — মেছতার সবচেয়ে শক্তিশালী ট্রিগার

মেছতার সবচেয়ে বড় কারণ হলো হরমোনের ওঠানামা। গর্ভাবস্থা, জন্মনিরোধক পিল, থাইরয়েড সমস্যা বা হরমোনাল থেরাপির কারণে মেলানোসাইট হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং মুখে গাঢ় দাগ দেখা দিতে শুরু করে। গর্ভাবস্থায় দেখা যাওয়া মেছতাকে বলা হয় “mask of pregnancy”, কারণ এটি মুখের নির্দিষ্ট অংশে মুখোশের মতো ছোপ ছোপ দাগ তৈরি করে।

২. সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (UV) — পিগমেন্টেশনকে দ্রুত গাঢ় করে

UV রশ্মি মেলানিন উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় এবং আগে থেকে থাকা পিগমেন্টেশনকে আরও গভীর করে। যারা নিয়মিত বাইরে যান বা সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন না, তাদের ক্ষেত্রে মেছতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়া খুব সাধারণ।

৩. জেনেটিক কারণ — ত্বকের নিজস্ব সংবেদনশীলতা

পরিবারে কারও মেছতা থাকলে আপনার ত্বকেও একই সেনসিটিভিটি দেখা দিতে পারে। জেনেটিকভাবে যাদের ত্বক UV বা হরমোন পরিবর্তনে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়, তাদের পিগমেন্টেশন তুলনামূলকভাবে বেশি হয়।

৪. স্ট্রেস ও কর্টিসল বৃদ্ধি — অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী একটি কারণ

দীর্ঘমেয়াদি স্ট্রেস শরীরে কর্টিসল হরমোন বাড়ায়। কর্টিসল যখন বৃদ্ধি পায়, তখন মেলানিন উৎপাদনও অস্বাভাবিক হয়ে যায়। ফলে যে সকল ব্যস্ত, চাপযুক্ত জীবনযাপন করেন, তাদের মধ্যে মেছতা গভীর হওয়া সাধারণ বিষয়।

৫. ভুল স্কিনকেয়ার — ক্ষতিকর ক্রিমে ত্বকের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা নষ্ট হয়

অনেকেই ত্বক উজ্জ্বল করতে স্টেরয়েড-ভিত্তিক ক্রিম, ব্লিচিং এজেন্ট বা অপ্রমাণিত “ফেয়ারনেস” প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন। এগুলো ত্বকের উপরের স্তর পাতলা করে দেয়, যার ফলে UV রশ্মি আরও বেশি ক্ষতি করতে পারে এবং মেছতা দ্রুত বিস্তার লাভ করে।

৬. আবহাওয়া, ঘাম ও তাপ—বাংলাদেশে মেছতা বেশি হওয়ার কারণ

আমাদের দেশের গরম ও আর্দ্র পরিবেশ ত্বকের পিগমেন্টেশন বাড়তে সাহায্য করে। হিট এক্সপোজার, ঘাম, UV—সব মিলেই মেলানিনের কার্যক্রম আরও বাড়িয়ে দেয় এবং মেছতা গভীর হয়।

মুখে মেছতা, যা হাইপারপিগমেন্টেশন নামেও পরিচিত। এটি ত্বকের একটি সমস্যা যেখানে ত্বকের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ত্বকের রঙ গাঢ় হয়ে যায়। এর বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে:

  • ত্বকের রঙয়ের পরিবর্তন
  • একটি নির্দিষ্ট এলাকা দিয়ে হওয়া
  • মেছতা ছোট ছোট ছাপ থেকে শুরু করে বড় দাগ হতে পারে
  • মেছতা অনিয়মিত ছাপ বা গোলাকার হতে পারে
  • মেছতা বাদামী, ট্যান, কালচে বা লালচে হতে পারে

মেছতা হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। যার চিকিৎসা করলে মেছতা দূর করা যায়। আকুপাংচার চিকিৎসার মাধ্যমে মেছতা জনিত রোগের চিকিৎসা করা যায়। বাংলাদেশে একমাত্র আকুপাংচার হাসপাতাল “শশী হাসপাতালে” মহিলাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় আকুপাংচার সেবা (Female acupuncture service center in Bangladesh) দেওয়া হয়।

মেছতার দাগ যখন কপাল, গাল বা নাকের লাইনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তখন প্রথমেই মনে হয়—ঘরোয়া উপায়ে  মেছতা দূর করার উপায় কি আছে?এছাড়াও, আমাদের মনে প্রশ্ন থাকে, মেছতার জন্য কোন ক্রিম ভালো হবে?
বাস্তবতা হলো, মেছতা ত্বকের গভীর স্তরে তৈরি হওয়ায় কোনো ঘরোয়া উপায়ে কিংবা, ক্রিম ব্যবহার করে সম্পূর্ণ চিরতরে দূর করা সম্ভব নয়, কিন্তু কিছু প্রাকৃতিক উপায় আছে যা ত্বককে শান্ত রাখে, দাগ হালকা করতে সাহায্য করে এবং নতুন পিগমেন্টেশন বাড়তে বাধা দেয়। এখানে এমন কিছু সহজ ও নিরাপদ ঘরোয়া পদ্ধতি থাকছে, যা নিয়মিত করলে ত্বক ধীরে ধীরে উজ্জ্বল দেখাবে।

অ্যালোভেরা – ত্বক ঠান্ডা রাখার সহজতম উপায়

মেছতার দাগ দূরীকরণে অ্যালোভেরা বেশ আরাম দেয়। রাতে পাতলা করে লাগালে ত্বক শান্ত হয় এবং পিগমেন্টেশন বাড়ার প্রবণতা কমে। অনেকেই বলে থাকেন “অ্যালোভেরা আমার স্কিনকে ব্রাইট করে দিয়েছে” এটা আসলে এর সুতনু হাইড্রেশন ক্ষমতার কারণেই হয়।

দই ও হলুদ – প্রাকৃতিক ব্রাইটেনিং মাস্ক

ফ্রেশ দই আর অল্প হলুদ মিশিয়ে সপ্তাহে এক–দুবার মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করলে ত্বক একটু নরম আর পরিষ্কার লাগে। এটি মৃদু এক্সফোলিয়েশন দেয়, যা ত্বকের উপরের মলিনভাব কমিয়ে মেছতার দাগকে কম (কম দৃশ্যমান) করে।

গ্রিন টি কমপ্রেস – ত্বককে শান্ত করার নরম কেয়ার

গ্রিন টির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকে সহজে শোষিত হয় এবং ইনফ্লেমেশন কমাতে সাহায্য করে। হালকা ঠান্ডা করা টি ব্যাগ কয়েক মিনিট মুখে রাখলে ত্বক সতেজ লাগে এবং পিগমেন্টেশনও আগ্রাসীভাবে বাড়ে না।

ফলের প্রাকৃতিক ভিটামিন C – ভেতর থেকে ত্বকের উজ্জ্বলতা

অনেকে সরাসরি লেবুর রস লাগান, যা অনেক ক্ষেত্রে ত্বক পুড়িয়ে মেছতাকে আরও ক্রমশ বাড়িয়ে তোলে। তার চেয়ে ভালো কমলা, কিউই, স্ট্রবেরি বা ভিটামিন C–সমৃদ্ধ ফল বেশি খাওয়া। এগুলো ত্বকের ভেতরকার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লেভেল বাড়ায়, যা পিগমেন্টকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে।

সানস্ক্রিন – ঘরোয়া যত্নের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ

একটি বিষয় মনে রাখতে হবে—মেছতা যত শান্তই হোক, রোদে বের হওয়ার সাথে সাথে তা আবার গাঢ় হয়ে যেতে পারে। তাই ঘরোয়া উপায় কাজ করতে হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার অপরিহার্য। SPF 30 বা তার বেশি বেছে নিন, এবং বাইরে গেলে পুনরায় লাগান।

উপরোক্ত নিয়ম গুলো মেনে চলার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। বাংলাদেশের সুনামধন্য আকুপাংচার হাসপাতাল “শশী হাসপাতাল” এ নারীদের চিকিৎসার (Female acupuncture service center in Bangladesh) জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। জেনে নিন- সম্পূর্ণ ঔষধবিহীণ পদ্ধতিতে মেছতা (Melasma) দূর করার কার্যকরী সমাধান

মেছতা দূর করার জম্য কোন ক্রিম ভালো হবে?

মেছতার দাগ মুখে দেখা দিলে প্রথমেই যে প্রশ্নটা মাথায় আসে তা হলো—“মেছতার জন্য কোন ক্রিম ভালো হবে?” এ নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় থাকেন, আবার অনেকে বিব্রতবোধও করেন। কারণ মেছতা শুধু ত্বকের সমস্যা নয়; এটি আত্মবিশ্বাসেও সরাসরি প্রভাব ফেলে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানা জরুরি: যে কোনও ক্রিম ত্বকের শুধুমাত্র উপরি স্তরে (Surface Level) কাজ করতে পারে। মেছতার মূল সমস্যা কিন্তু ত্বকের গভীরে. এটি হরমোন, সূর্যের UV রশ্মি, স্ট্রেস, এবং মেলানিনের অস্বাভাবিক কার্যক্রমের সাথে সম্পর্কিত। তাই বাজারের ক্রিম ত্বক কিছুটা উজ্জ্বল করতে সাহায্য করলেও, এগুলো মেছতার প্রকৃত উৎসে কাজ করতে পারে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মেছতা সম্পূর্ণ স্থায়ীভাবে (Permanent Solution for Melasma) বা দীর্ঘমেয়াদে কমাতে চাইলে অবশ্যই ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। নিজে নিজে ক্রিম বদলানো বা অনলাইনে সাজেশন দেখে ব্যবহার করলে উল্টো ক্ষতি হতে পারে। যদি আপনি মেছতা দূর করার স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদী সমাধান চান, তবে একজন দক্ষ স্কিন স্পেশালিস্টের সাথে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নিরাপদ হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসায় ত্বকের গভীরে থাকা পিগমেন্টেশন, হরমোনাল ইমব্যালান্স এবং UV–সেন্সিটিভিটির মতো মূল কারণগুলো নির্ণয় করা হয়; যা কোনো ক্রিমের পক্ষে করা সম্ভব নয়। আপনার নিকটস্থ SUO XI Hospital (Skin Care) -এ ভিজিট করতে পারেন। 

মেছতা নিরাময়ে আধুনিক চিকিৎসা (Advanced Treatment For Melasma)

মেছতা কোনো একক কারণে তৈরি হয় না; হরমোন, সূর্যের অতিরিক্ত রশ্মি, স্ট্রেস, জেনেটিক প্রবণতা, সবকিছু মিলেই ত্বকে পিগমেন্ট জমে। আর এই কারণেই সাধারণ ক্রিম বা ঘরোয়া উপায়ে এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আধুনিক এস্থেটিক চিকিৎসা মেছতার গভীর স্তর পর্যন্ত পৌঁছে পিগমেন্ট ভাঙা, কোষ পুনর্গঠন এবং ত্বকের কার্যকারিতা পুনরুদ্ধারে কাজ করে। নিচে চারটি বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতির সহজ ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।

লেজার চিকিৎসা (Laser Therapy)

লেজার মূলত নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো ব্যবহার করে ত্বকের অতিরিক্ত মেলানিনকে লক্ষ্য করে। এই আলো মেলানিন শোষণ করলে তা ছোট ছোট অংশে ভেঙে যায়। পরে শরীরের স্বাভাবিক ক্লিনআপ সিস্টেম এগুলো ধীরে ধীরে অপসারণ করে। ফলে দাগ সময়ের সঙ্গে ফিকে হয়ে আসে এবং ত্বকের রঙ সমান হতে শুরু করে। বিস্তারিত জানুন

কার জন্য কার্যকর

  • যাদের দাগ রোদে খুব দ্রুত গাঢ় হয়ে যায়
  • এপিডার্মাল বা মিক্সড ধরণের মেছতা
  • ত্বকের টেক্সচারও উন্নত করতে চান

লেজার চিকিৎসা দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন দেয়, তবে সঠিক কনফিগারেশন, দক্ষ বিশেষজ্ঞ এবং নিরাপত্তা মান বজায় রাখা জরুরি।

পিলিং ট্রিটমেন্ট (Chemical Peels)

Light vs Medium Peel

  • Light Peel: ত্বকের উপরিভাগের মৃত কোষ সরিয়ে স্কিন ব্রাইট করে এবং পিগমেন্টেশনের হালকা স্তরে কাজ করে।
  • Medium Peel: ত্বকের কিছুটা গভীর অংশ পর্যন্ত পৌঁছে জমে থাকা মেলানিন ভাঙতে সাহায্য করে।

পিগমেন্টেশন ব্রেকডাউন প্রক্রিয়াঃ পিলিংয়ে ব্যবহৃত অ্যাসিড ত্বকের সেল-টার্নওভার বাড়ায়। পুরনো, গাঢ় পিগমেন্ট ধীরে ধীরে উপরের স্তর থেকে উঠে আসে এবং নতুন কোষ সেই স্থান পূরণ করে।
ফলে ত্বক উজ্জ্বল, মসৃণ ও সমান টোনে দেখা যায়।

PRP Therapy (Platelet-Rich Plasma)

PRP থেরাপিতে রোগীর নিজের রক্ত থেকে প্লেটলেট-সমৃদ্ধ অংশ সংগ্রহ করা হয়। এতে থাকা গ্রোথ ফ্যাক্টর ত্বকের পুনর্জন্ম প্রক্রিয়াকে দ্রুত করে। মেছতার ক্ষেত্রে PRP—

  • ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে
  • ত্বকের প্রাকৃতিক হিলিং রেসপন্স বাড়ায়
  • রঙের অসমতা কমিয়ে স্কিন টোন সমান করতে সাহায্য করে। এটি ত্বককে ভেতর থেকে পুনরুজ্জীবিত করে, ফলে পিগমেন্টেশন স্থিতিশীল হয় এবং ত্বক স্বাস্থ্যবান দেখায়।

মেছতা নিরাময়ে আকুপাংচারের ভূমিকা

Melasma Treatment with Acupuncture

 

আকুপাংচার হল একটি পরিপূরক থেরাপি যা মেলাসমা সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য অবস্থার জন্য ব্যবহৃত হয়। যদিও কিছু লোক বিশ্বাস করে যে আকুপাংচার মেছতা চিকিৎসায় একটি ভূমিকা পালন করতে পারে, এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে এর কার্যকারিতা এখনও চলমান গবেষণা। মেলাসমা চিকিৎসায় আকুপাংচারের ভূমিকা পৃথক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে এবং এটি সাধারণত প্রচলিত চিকিৎসার সাথে একত্রে ব্যবহার করা উচিত। মেলাসমা চিকিৎসার প্রসঙ্গে আকুপাংচার বিবেচনা করা যেতে পারে এমন কিছু উপায় এখানে রয়েছে।

স্ট্রেস কমানো আকুপাংচার স্ট্রেস কমাতে এবং শিথিলতা উন্নীত করতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। স্ট্রেস উর্বরতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই আকুপাংচারের মাধ্যমে চাপের মাত্রা হ্রাস করা কিছু ব্যক্তির জন্য উপকারী হতে পারে যারা গর্ভধারণের চেষ্টা করছেন।

হরমোনের ভারসাম্য আকুপাংচারের কিছু প্রবক্তা বিশ্বাস করেন যে এটি হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে যা মেলাসমা নিরাময়ে অবদান রাখতে পারে। আকুপাংচার মাসিক চক্র এবং ডিম্বস্ফোটনের সাথে জড়িত কিছু হরমোন নিঃসরণকে প্রভাবিত করতে পারে।

রক্তসঞ্চালন উন্নতিঃ রক্তসঞ্চালন উন্নতি আকুপাংচারের পয়েন্টগুলো রক্তপ্রবাহ বাড়ায়। উন্নত সঞ্চালন ত্বকের কোষ পর্যন্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে দেয়, যা ত্বকের নিজস্ব হিলিং ক্ষমতা বাড়ায়।

গভীর পিগমেন্টেশনে কাজ করার ক্ষমতাঃ আকুপাংচারের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এটি ত্বকের বাহিরে নয়, ভেতরের সিস্টেমেও কাজ করে। শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বিশেষ করে হরমোন ও রক্তসঞ্চালন স্থিতিশীল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের গভীর স্তরে থাকা পিগমেন্টেশনও ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে ডার্মাল স্তরের মেছতাও সময়ের সঙ্গে কোমল হয় এবং ত্বকের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া আরও উন্নত হয়ে ওঠে।

কিছু ব্যক্তি সহায়ক মেছতা পরিপূরক থেরাপি হিসাবে আকুপাংচার ব্যবহার করতে পারে। এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় আকুপাংচারের কার্যকারিতা এবং ফলাফল ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে। আপনি যদি আপনার বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা পরিকল্পনার অংশ হিসাবে আকুপাংচার বিবেচনা করে থাকেন তবে আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী বা প্রজনন বিশেষজ্ঞের সাথে এটি নিয়ে আলোচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতির জন্য আকুপাংচার উপযুক্ত কিনা এবং সাফল্যের সম্ভাবনাকে সর্বাধিক করে এমনভাবে আপনার যত্নের সমন্বয় করতে পারে কিনা সে বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করতে পারে।

বাংলাদেশের একমাত্র হাসপাতাল ” শশী হাসপাতাল ” যেখানে ঔষধ বিহীণ চিকিৎসা (Non medicine treatment in Dhaka, Bangladesh) দেওয়া হয়। এখানে দেশ সেরা আকুপাংচার ডাক্তার ডা. এস. এম. শহীদুল ইসলাম এর তত্বাবধানে আকুপাংচার চিকিৎসা (Acupuncture treatment in Dhaka, Bangladesh) দেওয়া হয়।

 See More…